‘পুলিশ আমার বুকের মানিক উদ্ধার করেছে’

প্রকাশিত: ১:১১ অপরাহ্ণ, আগস্ট ৩০, ২০১৮ | আপডেট: ১:১১:অপরাহ্ণ, আগস্ট ৩০, ২০১৮

‘আমি এই প্রথম পুলিশের কাছে গেছি। গত ২৮টি ঘণ্টা উদ্বিগ্ন ছিলাম। ছেলে নিখোঁজের পর থেকে নাওয়া-খাওয়া সব বাদ হয়ে গেছিলো। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী আমার সোনা বাবুকে উদ্ধার করে দিয়েছে। পুলিশের কাছে আমি চির কৃতজ্ঞ।’ কান্না জড়িত কণ্ঠে কথাগুলো বলছিলেন অপহৃত শিশু তোয়াছিনের বাবা সাইফুল ইসলাম।

রাজধানীর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল এলাকায় বাসার সামনে খেলছিল তোয়াছিন ইসলাম সিমন (৪০)। সে সময় বাবা সাইফুল ইসলামের প্রতিবেশী রোমান কৌশলে সিমনকে তুলে নিয়ে যায়। এরপর অপহরণের নাটক সাজায়। রোমান নিজে নিখোঁজের খবর ছড়াতে মাইকিং করে তেজগাঁও এলাকায়।

অপহরণের পর মুক্তিপণ বাবদ যে নম্বরটি ব্যবহার করা হয় সেটির সূত্র ধরেই শনাক্ত করা হয় রোমানকে। এরপর রোমান ও তার স্ত্রীসহ মোট ৬ জনকে আটক এবং অপহৃত শিশু সিমনকে উদ্ধার করে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টায় নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলেন ধরে ঢাকা মহানগর পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) বিপ্লব কুমার সরকার।

তিনি বলেন, গত ২৮ আগস্ট আনুমানিক রাত পৌনে ৯টার দিকে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চলের লিচু বাগান এলাকার ৩৪১/১ বাসা থেকে অপহৃত হয় সিমন। ওই রাতেই নিখোঁজ শিশুটির সন্ধান চেয়ে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন বাবা সাইফুল ইসলাম। এরপর তদন্ত শুরু করে পুলিশ।

পরদিন (বুধবার) দুপুর ২টার দিকে একটি অপরিচিত নম্বর থেকে জানানো হয়, সিমন তাদের জিম্মায়। অপহরণ বাবদ ২০ লাখ টাকা দেয়ার কথা বলা হয়। ১০ লাখ টাকায় সমঝোতাও হয়। বিষয়টি পুলিশ অবহিত হবার পর ওই নম্বর ধরে অভিযান শুরু হয়।

বুধবার মধ্যরাতে বিজয় সরণির পিরমা মসজিদের গলির পাশেই খোলা মাঠ থেকে ওই শিশুকে উদ্ধার করা হয়। ২ জনকে আটকও করা হয়। তাদের দেয়া তথ্য মতে মোহাম্মদপুর, শেরে বাংলানগর ও মহাখালী এলাকা থেকে আরও ৪ জনকে আটক করা হয়।

আটকদের জিজ্ঞাসাবাদে উঠে আসে, প্রতিবেশী মো. রোমান এই অপহরণের মূল পরিকল্পনাকারী। যে মোবাইলটি ব্যবহার করে মুক্তিপণ চাওয়া হয় সেটি এক সময় রোমানই ব্যবহার করেছে।

ডিসি বিপ্লব বলেন, নেপথ্যে থেকে মূল পরিকল্পনাকারী রোমান নিজেই বাবা সাইফুল ইসলামের সঙ্গে থেকেছেন। সান্ত্বনা দিয়েছেন। সমঝোতার জন্য কথা বলেছেন। যাতে করে অপহরণের সঙ্গে তার সংশ্লিষ্টতা কেউ ধরতে না পারে সেজন্য নিখোঁজ সংবাদ প্রচার করতে মাইকিংও করেন রোমান।

তেজগাঁও বিভাগের পুলিশ কর্মকর্তা বিপ্লব কুমার বলেন, প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে এটা প্রতীয়মান যে আর্থিক কারণেই ওই শিশুকে অপহরণ করা হয়েছিল। অপহরণের বিষয়ে রোমান নিজেই বাবা সাইফুল ইসলামের সঙ্গে কথা বলেছে।

এক্ষেত্রে ম্যাজিক ভয়েস নামে টুলস ব্যবহার করেছে রোমান। ফলে রোমানের কণ্ঠ বিকৃত হওয়ায় বোঝার উপায়ও ছিল না। অপহরণকারীদের সবার বয়স ১৮ থেকে ২০ বছরে মধ্যে। তারা গ্যাং হিসেবে এর আগেও কোনো অপহরণের কাজে জড়িত ছিল কিনা তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তারা কেউ চাকরি করে না। পড়াশুনাতেও নেই।

বিপ্লব কুমার বলেন, আটকদের বিরুদ্ধে বাবা সাইফুল ইসলাম বাদী হয়ে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন (মামলা নং ৪০)। ওই মামলায় সবাইকে গ্রেফতার দেখিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হবে। আর অপহরণে সহযোগিতা করায় আরেক নারী সহযোগী পলাতক রয়েছে তাকেও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

-জাগো নিউজ।