পুলিশ হেফাজতে যুবকের রহস্যজনক মৃত্যু

প্রকাশিত: ৪:৩৮ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২০, ২০১৮ | আপডেট: ৪:৩৮:অপরাহ্ণ, আগস্ট ২০, ২০১৮

পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ থানায় পুলিশ হেফাজতে থাকাকালে হাসানুর রহমান মিলন (২০) নামে এক যুবকের রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের দাবি, পুলিশের নির্যাতনেই ওই যুবকের মৃত্যু হয়েছে। তবে পুলিশের দাবি, ওই যুবক থানা হাজতের টয়লেটে কম্বল পেচিয়ে ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। আজ সোমবার সকালে জেলার দেবীগঞ্জ থানায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত মিলন দেবীগঞ্জ থানাপাড়া এলাকার হবিবর রহমানের ছেলে। খবর কালের কণ্ঠের।

নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, গতকাল রবিবার রাতে বড় ভাই হাসিবুলের শ্যালিকা কুলসুমের সাথে মিলনের প্রেমের সম্পর্ক নিয়ে মিলন ও তার বড় ভাইয়ের মধ্যে ঝগড়া হয়। এর এক পর্যায়ে অপ্রিতিকর পরিস্থিতি এড়াতে পরিবার থেকে মিলনকে দেবীগঞ্জ থানা পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। দেবীগঞ্জ থানা পুলিশের এসআই কালাম এসে মিলনকে থানায় নিয়ে যায়। আজ সোমবার সকালে মিলনের পরিবারের লোকজন থানা হাজতে গিয়ে মিলনের সাথে দেখা করতে গেলে পুলিশ তাদের জানায়, মিলন আত্মহত্যা করেছে।

এ ঘটনায় মিলনের পরিবারের দাবি, তাকে থানায় নিয়ে নির্যাতন করে হত্যার পর লাশ ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে পুলিশ জানায়, মিলনকে গতকাল রবিবার রাতে ৬০ গ্রাম গাঁজাসহ আটক করা হয়। রাতেই তার বিরুদ্ধে থানায় নিয়মিত মামলা নথিভুক্ত করা হয়। আজ সকালে থানা হাজতের টয়লেটে কম্বল পেচিয়ে ফাঁস দেওয়া অবস্থায় পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে।

এদিকে থানা হাজতে মিলনের মৃত্যুর খবর শুনে স্থানীয় সহস্রাধিক মানুষ থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেন। এ সময় তারা পুলিশের বিরুদ্ধে বিভিন্ন শ্লোগান দিতে থাকেন। পরে বোদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ মাহমুদ হাসানের উপস্থিতিতে ওই যুবকের মরদেহের প্রাথমিক সুরতহাল করা হয়। তবে সুরতহালের সময় ওই যুবকের পরিবারের কোনো সদস্যকেই ঢুকতে দেওয়া হয়নি। এমনকি পরিবারের সদস্যদের মরদেহ না দেখিয়েই থানার পেছনের দরজা দিয়ে মরদেহটি ময়নাতদন্তে পাঠালে পরিবারসহ স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। তারা দেবীগঞ্জ চৌরঙ্গী মোড়ে কয়েক ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করে রাখে। ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা এ ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেন। এ ঘটনায় ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

এ বিষয়ে স্থানীয় কাউন্সিলর আকসাদুল ইসলাম জানান, মিলনকে পুলিশ নির্যাতন করে মেরে ফেলেছে। এই থানার পুলিশদের একটা স্বভাব হলো ভাল ছেলেদের তুলে এনে মাদক দিয়ে চালান করে দেয়। থানা হাজতে কিভাবে মারা যায় এটা আমার মাথায় আসে না। পুলিশের কাছেই মানুষ এখন নিরাপদ না।

স্থানীয় অধিবাসী শাহেদ সাফায়েদ জানান, এটা একটি অস্বাভাবিক মৃত্যু। এ পর্যন্ত এই থানা হাজতে মৃত্যুর কোনো ঘটনা ঘটেনি। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানাচ্ছি।

তবে দেবীগঞ্জ থানার ওসি আমিনুল ইসলাম জানান, রবিবার দিবাগত রাতে মিলনকে গাজাসহ আটক করে পুলিশ। তার বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা হয়েছে। সকালে থানা হাজতের টয়লেটে তাকে কম্বল দিয়ে ফাঁসি দেওয়া অবস্থায় পাওয়া যায়। হয়তো সকাল ১০টা থেকে ১১টার মধ্যে সে আত্মহত্যা করে থাকতে পারে। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে তার মরদেহের সুরতহাল করা হয়েছে।

এদিকে মিলনের বাবা হবিবর রহমান জানান, রাতে আমার ছেলেকে সুস্থভাবে তাদের হাতে তুলে দিলাম। পরদিন সকালে শুনি আমার ছেলে মারা গেছে। কয়েক মাস আগে করতোয়া নদীতে মাছ মারা নিয়ে আমার ছেলের সাথে কয়েকজন পুলিশের ঝগড়া হয়। আমার ছেলে আত্মহত্যা করেনি। পুলিশের নির্যাতনেই আমার ছেলের মৃত্যু হয়েছে।

মিলনের মা হাসিনা খাতুন জানান, সকালে পুলিশ মোবাইল করে বলল থানায় আমার ছেলেকে দেখতে যাইতে। এর কিছুক্ষণ পর শুনি আমার ছেলে মারা গেছে। আমার ছেলেকে পুলিশ মেরে ফেলেছে। ও কখনো নেশা করতো না। আমার ছেলের লাশও আমাকে দেখতে দেয়া হয়নি। আমি এর বিচার চাই।

এ ব্যাপারে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও বোদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ মাহমুদ হাসান জানান, প্রাথমিক সুরতহালে ওই যুবকের শরীরের কোথাও কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য প্রেরণ করা হয়েছে।