পেঁপে পাতার রসে প্লেটিলেট বাড়ে না

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১:৩৭ অপরাহ্ণ, আগস্ট ৩, ২০১৯ | আপডেট: ১:১১:পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ৪, ২০১৯
ছবিঃ সংগৃহিত

গত কয়েকদিনে রাজধানীতে মহামারির রূপ নিয়েছে ডেঙ্গু। ছোট শিশু থেকে বৃদ্ধ অনেকেই আক্রান্ত হচ্ছেন ডেঙ্গু জ্বরে। সবার মধ্যে আতঙ্ক ডেঙ্গু নিয়ে

ইতিপূর্বে দেশে বিভিন্ন সময় ডেঙ্গু রোগ দেখা গেলেও এবারের মতো ভয়াবহ ছিল না। এবার যেমন আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে তেমনি মৃত্যুর সংখ্যাও বাড়ছে।

ফলে সম্প্রতি পেঁপে পাতার রস খেলে প্লেটিলেট বাড়ে এমনটি খবর সর্বত্র ছড়িয়ে পরে। তবে পপুলার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের শিক্ষক এবং জাতীয় গাইড লাইন ডেঙ্গু চিকিৎসা প্রধান সম্পাদক অধ্যাপক ডা. কাজী তারিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, পেঁপে পাতার রস খেলে প্লেটিলেট বাড়ে এমনটি ঠিক নয়,

শনিবার (৩ আগস্ট) সকালে দেখের একটি গনমাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচারকৃত অনুষ্ঠান ‘ডি ডক্টরস’এ তিনি এ কথা জানান। ‘ডেঙ্গু জ্বর ও আমাদের করনীয়’ শিরোনামে এ অনুষ্ঠানটি উপস্থাপন করেন অধ্যাপক ড. ইকবাল হাসান মাহমুদ।

ডা. কাজী তারিকুল ইসলাম বলেন, প্লেটিলেট নিয়ে আতঙ্ক ছিল ২০০০ সালে। কারণ তখন ডেঙ্গু নিয়ে আমরা কম জানতাম। পরে দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের ডেঙ্গু নিয়ে তাদের এবং আমাদের গবেষণা নিয়ে এতটুকু বলতে পারি প্লাটিলেট নিয়ে মাতামাতি করার কিছু নেই।

পাঁচ হাজার প্লেটলেট কাউন্টের রোগীকে আমি কোন রকম প্লেটিলেট না দিয়ে সুস্থ করে বাড়িতে পাঠিয়েছি। এর অর্থ এই নয় যে, প্লেটিলেট প্রয়োজন নেই। একটা সময় প্লেটিলেটের দরকার হয় তবে তা চিকিৎসক দেখবেন।

রোগীর ঘনিষ্ঠজনরা ইন্টারনেটের মাধ্যমে জানেন যে প্লেটিলেট কমে গেলে বুঝি রোগীর অবস্থা খারপ হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি। রোগীর স্বজনরা চিকিৎসককে চাপ দেন প্লেটিলেট বাড়ানোর জন্য।

প্লেটিলেট কাউন্ট হলে প্লেটিলেট দেওয়ার বিষয়টি চিকিৎসকের ওপরই ছেড়ে দেওয়ার পরামর্শ দেন এ চিকিৎসক। তিনি বলেন, প্লেটিলেট নেওয়ার ক্ষেত্রে আমার চার/পাঁচ জনের কাছ থেকে প্লেটিলেট নেওয়ার চেয়ে একজনের কাছ থেকে প্লেটিলেট নেওয়া বেশ ভালো মনে করি। এতে ব্যায় একটু বেশি হলেও ভালো।

ডা. তারিকুল ইসলাম বলেন, পেঁপে পাতার রস খেলে নাকি প্লেটিলেট বাড়ে। এটা ঠিক নয়। আর প্লেটিলেট ডেঙ্গুর মুল বিষয় নয়। এ প্লেটিলেটের আয়ু এক থেকে দুই দিন। আপনি যদি আজ সকালে প্লেটিলেট দেন তা আগামীকাল বিকাল বেলায় দেখা যাবে ঐ দেওয়া প্লেটিলেটটা আপনা আপনি ধ্বংস হয়ে যাবে।

তিনি জানান, এ সিজনে যদি প্রথম দিনেই জ্বর ১ শত ২, ৩, ৪ হয়ে যায় যাকে এবং এটা ডেঙ্গুর জন্য খুবই বড় একটা উপসর্গ। এর সাথে গায়ে ব্যাথা থাকলে চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে। তবে এ বছর ডেঙ্গুর উপসর্গ এবং চিকিৎসকের কাছে রোগীর উপস্থাপন একদমই আলাদা বলে উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি জানান, ডেঙ্গু নিয়ে যে সব রোগী আসতে পারেন তারা তিন ধরনের।

প্রথমত, যাদের শুধু মাত্র জ্বর এবং সামান্য ব্যাথা। যাদের প্লেটিলেট ভালো আছে। ব্লাড প্রেসার ভালো, খাবারে রুচি আছে এবং খেতে পারেন। তারা চিকিৎসা নিয়ে বাড়িতে চলে যেতে পারেন।