পেপার বিক্রেতা থেকে প্রধানমন্ত্রী সানা মারিন

টিবিটি টিবিটি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: 7:57 PM, December 23, 2019 | আপডেট: 8:01:PM, December 23, 2019

গত সপ্তাহে ইউরোপীয় কাউন্সিলের বিভিন্ন দেশের নেতা ব্রাসেলসে একত্রিত হয়েছিলেন। এ সময় তারা একটি গ্রুপ ফটো তোলার জন্য যখন দাঁড়িয়ে যান; তখন সবার মাঝে দেখা যায় ফিনল্যান্ডের সদ্য নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী সানা মারিনকেও।

মাত্র ৩৪ বছর বয়সী এই নারী বিশ্বের সর্বকনিষ্ঠ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সম্প্রতি ফিনল্যান্ডে দায়িত্ব পেয়েছেন। ব্রাসেলসের ওই অনুষ্ঠানে সবার সামনে অত্যন্ত হাস্যোজ্জ্বল ছিলেন সানা। বিশ্বের সর্বকনিষ্ঠ প্রধানমন্ত্রীর খেতাব পাওয়া সানা হাসবেন না কেন!

চলতি মাসের শুরুর দিকে বিশ্বজড়ে খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে ফিনল্যান্ডের সাবেক এই পরিবহন মন্ত্রীর। তার রাজনৈতিক দল স্যোসাল ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রধান পদত্যাগ করলে দলের প্রধানের দায়িত্ব পান সানা। একই সঙ্গে তিনি দেশটির তো বটে, বিশ্বের সর্বকনিষ্ঠ প্রধানমন্ত্রীও হন।

বর্তমানে তিনি ফিনল্যান্ডের ক্ষমতাসীন পাঁচ দলীয় জোট সরকারের প্রধান। এই পাঁচটি দলের প্রধানও নারী; যাদের প্রত্যেকের বয়স ৩৫ বছরের নিচে। ঐতিহ্যগতভাবে দেশটির রাজনৈতিক দলগুলোর প্রধানরা প্রবীণরা হয়ে থাকলেও এবারই ব্যতিক্রম।

তবে তার চেয়ে বড় বিষয় হিসেবে যা গণমাধ্যমগুলোতে প্রচার হয়েছে, তা হলো– স্কুলজীবনে পত্রিকা বেচে সংসার চালাতেন সানা মারিন। চাকরিজীবনে ক্যাশিয়ারের দায়িত্ব পালন করেছেন। আর বর্তমানে ইউরোপের একটি দেশের প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন তিনি।

যে কারণে চলতি মাসের শুরুর দিকে বিশ্বজুড়ে সানা মারিনের খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোর আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হন তিনি।

সানার আগে মাত্র দুজন নারী দেশটির প্রধানমন্ত্রী হতে পেরেছিলেন। সেটিও প্রায় ১০০ বছর পেরিয়ে গেছে। ওই দুই নারী প্রধানমন্ত্রীর কেউই অবশ্য এক বছরের বেশি দায়িত্ব পালন করতে পারেননি। তাই ইউরোপীয় কাউন্সিলসহ পুরো বিশ্বের চোখ এখন সানার ওপর।

এদিকে চাকরিজীবনে ক্যাশিয়ার হিসেবে একটি প্রতিষ্ঠানে কাজ করায় তাকে নিয়ে বিদ্রূপ করেছেন এস্তোনিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

সানা মারিনকে ‘সেলস গার্ল’ বলে উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, একজন সেলস গার্ল দেশ পরিচালনা করতে পারবেন কিনা তা নিয়ে আমার সংশয় রয়েছে।

পরে অন্য রাষ্ট্রের প্রধানমন্ত্রী নিয়ে মন্ত্রীর এমন বিব্রতকর মন্তব্যের কারণে ফিনল্যান্ডের কাছে দুঃখপ্রকাশ করেছে এস্তোনিয়া সরকার।

তবে এস্তোনিয়ার মন্ত্রীর ওই মন্তব্যের জবাবে টুইটারে সানা মারিন লেখেন, ফিনল্যান্ডে জন্ম নিয়েছি বলেই আজ আমি প্রধানমন্ত্রী হয়েছি। এ জন্য আমি অত্যন্ত গর্বিত। এই একজন দরিদ্র পরিবারের শিশু নিজেকে শিক্ষিত করতে পারে এবং তার জীবনের লক্ষ্য অর্জন করতে পারে। এমনকি একজন ক্যাশিয়ার দেশের প্রধানমন্ত্রীও হতে পারে।

জানা যায়, সানা মারিন ছিলেন ফিনল্যান্ডের পরিবহন মন্ত্রীর। তার রাজনৈতিক দল সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রধান পদত্যাগ করলে দলের প্রধানের দায়িত্ব পান সানা। বর্তমানে তিনি ফিনল্যান্ডের ক্ষমতাসীন পাঁচ দলীয় জোট সরকারের প্রধান।

নিজের দরিদ্র জীবনের কথা গর্ব ভরেই স্বীকার করেন সানা। ২০১৬ সালে লেখা এক ব্লগ পোস্টে মারিন লেখেন, আমি যখন ছোট্ট শিশু, তখন মাদক সমস্যার কারণে বাবা-মায়ের বিচ্ছেদ ঘটে। মা আমাকে নিয়ে উত্তর হেলসিঙ্কির পীরকালা অঞ্চলে একটি সমকামী পরিবারে গিয়ে আশ্রয় নেন। সেখানেই বড় হয়েছি। সেই পরিবারে পর্যাপ্ত অর্থ না থাকলেও ভালোবাসা ছিল প্রচুর।

সানা জানিয়েছেন, অর্থাভাবে পড়াশোনার খরচ চালাতে ১৫ বছর বয়সে একটি বেকারিতে চাকরি নেন তিনি। শুধু তাই নয়; সংসারের রুটি-রুজির অর্থ উপার্জনের জন্য স্কুলজীবনে পত্রিকা বিক্রি শুরু করি। এর পর স্নাতক শেষে একটি প্রতিষ্ঠানে ক্যাশিয়ার পদে যোগ দেন।

সানার বিষয়ে হেলসিঙ্কি বিশ্ববিদ্যালয়ে পলিটিক্যাল অ্যান্ড ইকনোমিক স্টাডিজের গবেষক টিমো মাইট্টিনেন বলেন, তারুণ্য সানা মারিনকে তার পূর্বসুরীদের থেকে তাকে আলাদা করেছে। তার পূর্বসুরীদের অনেক পুরুষের বয়স ৫০ এর ঘরে।

সুত্র: সিএনএন।