প্রজাতন্ত্র দিবসের ব্যানারে মোদির ‘পায়ের নিচে’ নেতাজি-রবীন্দ্রনাথ

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৪:৪৬ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২৭, ২০২১ | আপডেট: ৪:৪৬:অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২৭, ২০২১

ভারতে ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে প্রজাতন্ত্র দিবসের একটি ব্যানার। পশ্চিমবঙ্গের বালুরঘাটের পতিরাম অঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় মঙ্গলবার সকালে এটি টাঙানো হয়।

এতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পায়ের নিচে রাখা হয়েছে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু থেকে শুরু করে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর পর্যন্ত খ্যাতনামা বিভিন্ন মনীষীর ছবি। আর এই ছবিযুক্ত ব্যানার দিয়েই প্রজাতন্ত্র দিবসের শুভেচ্ছা জানানো হয়েছে।

বিজেপি-র দলীয় প্রতীক সম্বলিত ওই ব্যানারের নিচে বালুরঘাটের বিজেপি দলীয় এমপি সুকান্ত মজুমদারের নাম লেখা।

আনন্দবাজারের খবরে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার সকালে বালুরঘাটের পতিরাম অঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় প্রজাতন্ত্র দিবসের শুভেচ্ছা জানিয়ে সুকান্ত মজুমদারের নামে প্রধানমন্ত্রীর ফ্লেক্স ও কাটআউট দেখা যায়। এতে প্রধানমন্ত্রী পূর্ণাবয়ব ছবি এবং নিচে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, ঋষি অরবিন্দ, স্বামী বিবেকানন্দ ও ক্ষুদিরাম বসুর ছবি দেখা যায়। এই ফ্লেক্সের ছবিও দ্রুত সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। শুরু হয় রাজনৈতিক বিতর্ক।

এক পর্যায়ে সুকান্ত নিজে পতিরাম এলাকায় যান। তার ও বিজেপি-র দাবি, এটা তাদের কাজ নয়। কোনও দুষ্কৃতীকারী রাতের অন্ধকারে এই ঘটনা ঘটিয়েছে। ঘটনার ‘সুষ্ঠু তদন্তের’ দাবিতে সুকান্তের নেতৃত্বে ৫১২ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ করে বিজেপি। ততক্ষণে জানা যায়, এমন ছবি শুধু পতিরামে নয়, বোল্লা-সহ একাধিক এলাকায় দেখা গেছে।

সুকান্তের দাবি, বিজেপিকে অপদস্থ করতেই এই কাজ করা হয়েছে। পরে পতিরাম পুলিশ ফাঁড়ি কর্তৃপক্ষ ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের আশ্বাস দিলে এক ঘণ্টা পরে অবরোধ উঠে যায়।

সুকান্ত বলেন, ‘‌আমাকে এবং বিজেপিকে কালিমালিপ্ত করার চক্রান্ত এই ঘটনা। এ ব্যাপারটি দেখছে আমাদের আইটি সেল। আগামী নির্বাচনে তৃণমূল এখানে জিততে পারবে না, তাই এভাবে কুৎসা করছে।’‌

বিজেপি-র অভিযোগ অবশ্য প্রত্যাখ্যান করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। তৃণমূলের বোল্লা অঞ্চল সভাপতি প্রতাপচন্দ্র শীল বলেন, ‘এমন কুরুচিপূর্ণ কাজ তৃণমূল করে না। প্রচারের উদ্দেশ্যেই বিজেপি এই কাজ করেছে। তা নাহলে খবর পেয়ে কী করে সাত সকালে বিজেপি এমপি পতিরাম এলাকায় ছুটে এলেন? প্রজাতন্ত্র দিবসে এক ঘণ্টা জাতীয় সড়ক অবরোধ করে সাধারণ মানুষকে দূর্ভোগের মধ্যে ফেললেন তারা।’

বালুরঘাটের নাট্যকর্মী জিষ্ণু নিয়োগী বলেন, ‘বাংলার মনীষীদের নিয়ে রাজনৈতিক ধান্ধাবাজি বন্ধ হোক।’

সূত্র: আনন্দবাজার, হিন্দুস্তান টাইমস।