প্রথমবারের মতো মানবদেহে প্রয়োগ হচ্ছে ম্যালেরিয়ার টিকা

টিবিটি টিবিটি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১২:৪৪ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৩, ২০১৯ | আপডেট: ১২:৪৪:অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৩, ২০১৯

বিশ্বে প্রথমবারের মত শিশুদের টিকাদান কর্মসূচিতে ম্যালেরিয়ার টিকা অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। এই টিকা মশাবাহী রোগ ম্যালেরিয়ার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বড় জয় এনে দেবে বলে আশা বিজ্ঞানীদের।

প্রতি বছর এখনো বিশ্বের ২০ কোটির বেশি মানুষ ম্যালেরিয়া আক্রান্ত হয়ে থাকেন, বেশির ভাগ সময় যার শিকার হয় শিশুরা। সম্প্রতি প্রকাশিত এক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, ম্যালেরিয়াকে হারানো এখন আর দূর কল্পনা নয়।

আগামী তিন বছরের মধ্যে কেনিয়ার তিন লাখের বেশি শিশুকে ম্যালেরিয়ার টিকা দেওয়া হবে। আফ্রিকায় এখনো ম্যালেরিয়া এক বিরাট আতংকের নাম। ম্যালেরিয়াতে গোটা পৃথিবীতে প্রতি বছর যত মানুষ মারা যায়, তার অর্ধেকই মারা যায় আফ্রিকা অঞ্চলের পাঁচটি দেশে।

২০০০ সাল পর্যন্ত ম্যালেরিয়া আছে এমন দেশের সংখ্যা ১০৬ থেকে ৮৬ তে নেমে এসেছে। ম্যালেরিয়া আক্রান্তের হার ৩৬ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। মৃত্যুর হার হ্রাস পেয়েছে ৬০ শতাংশ

তবে এ অগ্রগতির পেছনে বড় কারণ সাম্প্রতিক দশকগুলোতে বিশ্বব্যাপী মানুষ মশার কামড় ঠেকানোর বিভিন্ন উপায় বের করেছে। যেমন কীটনাশক মাখানো মশারি, এবং ম্যালেরিয়া চিকিৎসায় উন্নত ওষুধ আবিষ্কার। কিন্তু ম্যালেরিয়ার টিকা এখন পর্যন্ত আবিষ্কার করা যাচ্ছিলো না। এবার বিজ্ঞানীরা জানালেন টিকা আবিষ্কার হয়েছে এবং তা দেওয়াও শুরু হয়েছে।

ম্যালেরিয়া কী?

প্ল্যাসমোডিয়াম নামে এক ধরণের পরজীবীর সংক্রমণে ম্যালেরিয়া হয়। স্ত্রী অ্যানোফিলিস মশার কামড়ে ম্যালেরিয়ার জীবাণু একজনের থেকে আরেকজনে ছড়িয়ে পড়ে। আক্রান্ত হলে তীব্র জ্বর, মাথা ব্যথা এবং কাঁপুনি হয় একজন মানুষের। ম্যালেরিয়ার পরজীবী লিভার ও লোহিত রক্ত কণিকার কোষ আক্রমণ করে। অন্য উপসর্গের মধ্যে ম্যালেরিয়া থেকে রক্তশূন্যতা হতে পারে এবং আক্রান্ত হতে পারে মস্তিষ্কও। এখনো প্রতি বছর ম্যালেরিয়ায় চার লাখ ৩৫ হাজার মানুষ মারা যায়, যাদের বেশির ভাগ শিশু।