প্রথম বিদেশ সফরে জান্তা প্রধান, ‘বাধা’ জাতীয় সরকারের

টিবিটি টিবিটি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ৭:২০ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১৭, ২০২১ | আপডেট: ৭:২০:অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১৭, ২০২১

দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর জোট আসিয়ানের সম্মেলনে যোগ দিতে ইন্দোনেশিয়া যাচ্ছেন মিয়ানমারের জান্তাবাহিনী প্রধান মিন ‍অং হ্লাইং। অভ্যুত্থানের মাধ্যমে দেশটির ক্ষমতা দখলের পর এটাই তার প্রথম বিদেশ সফর হতে যাচ্ছে।

থাইল্যান্ডের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র শনিবার মিন অং হ্লাইংয়ের আসিয়ান সম্মেলনে যোগ দেওয়ার বিষয়টি জানান। আগামী ২৪ এপ্রিল ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তায় আসিয়ান সম্মেলন শুরু হওয়ার কথা।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, মিয়ানমারের জান্তা সরকারের প্রধান প্রথম বিদেশ সফরে যাচ্ছেন আগামী ২৪ এপ্রিল। আসিয়ান সম্মেলনে তার অংশ নেয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে থাইল্যান্ড।

আজ শনিবার এ তথ্য জানান দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র। তবে সফরের বিষয়ে মিয়ানমারের সামরিক কর্তৃপক্ষ এখনো কিছু জানায়নি।

অং সান সু চির রাজনৈতিক সরকারকে উৎখাতের পর থেকে দেশটিতে দানাবাঁধা বিক্ষোভ এখনো চলছে। এতে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে ৭২৮ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। আহতের সংখ্যা অগণিত।

মিয়ানমার পরিস্থিতির উত্তরণে উভয় পক্ষের সঙ্গে একাধিকবার শান্তি আলোচনার উদ্যোগ নিয়েছে প্রতিবেশী থাইল্যান্ড। জান্তা সরকারের তাতে সাড়া না দেয়ায় ভেস্তে যায় সব চেষ্টা।

আসিয়ান জোটের সদস্য দেশের সংখ্যা ১০টি। মিয়ানমারসহ অন্য দেশগুলোর প্রতিনিধিরা এবারের সম্মেলনে উপস্থিত থাকবেন বলে জানিয়েছে থাইল্যান্ড।

এদিকে, মিয়ানমারের ক্ষমতাচ্যুত সরকারের আইনপ্রণেতারা আত্মগোপনে থেকে ‘জাতীয় ঐক্যের সরকার’ গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন গতকাল শুক্রবার। দ্য কমিটি রিপ্রেজেন্টিং পিড্যাংসু লুটাও (সিআরপিএইচ) পরিচালিত এই সরকার ‘ছায়া সরকার’ হিসেবে কাজ করবে।

দেশটির আটক হওয়া নেত্রী অং সান সু চিকে এই ‘সংসদের’ স্টেট কাউন্সিলর এবং আটক প্রেসিডেন্ট উইন মিন্ট একই পদে বহাল রাখা হয়েছে। ছায়া সরকার পরিচালনায় থাকা আইনপ্রণেতাদের বেশিরভাগই সু চির দলের নেতা।

সিআরপিএইচের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে বলা হয়, ছায়া সরকারের ভাইস প্রেসিডেন্ট হয়েছেন সংখ্যালঘু একজন কোচিন নেতা। প্রধানমন্ত্রী পদেও সংখ্যালঘু এক কারেন নেতা রয়েছেন।

এ ছাড়া মন্ত্রিপরিষদে স্থান পেয়েছেন চিন, শানি, মন, কারেন্নি ও তাং গোষ্ঠীর নেতারাও। অভ্যুত্থান বিরোধী আন্দোলনে এসব গোষ্ঠী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

জানা গেছে, জাতীয় সরকার বলছে, তারাই দেশটির বৈধ রাজনৈতিক কর্তৃপক্ষ। জান্তা প্রধানকে বয়কটের জন্য আসিয়ানের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে তারা।