প্রধানমন্ত্রীর আগমনক কেন্দ্র করে স্বপ্ন বুনছে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৭:০৮ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১১, ২০১৮ | আপডেট: ৭:০৮:অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১১, ২০১৮

বহুল প্রত্যাশিত পদ্মা সেতুর সঙ্গে দেশের প্রথম ছয় লেন এক্সপ্রেস হাইওয়ে ছাড়াও পদ্মা পাড়ে তাত পল্লী, আইসিটি ইনস্টিটিউট ছিল। কিন্তু গত কয়েক সপ্তাহ ধরে মাঠ পর্যায়ে চীনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দেশি-বিদেশি শ্রমিকদের কর্ম তৎপরতা জনমনে স্বস্তির প্রলেপ দিচ্ছে। এর সঙ্গে ১৩ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদ্মা সেতুর রেল সংযোগ ভিত্তিপ্রস্তরসহ চারটি প্রকল্প উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর করতে পদ্মা পাড়ে আসা নিয়ে মানুষ আশান্বিত হয়ে উঠেছে। নেওয়া হচ্ছে ব্যাপক প্রস্তুতি। সৃষ্টি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ।

দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের দাবি পদ্মা সেতুর সঙ্গেই চালু হোক রেললাইন। এই রেল নেটওয়ার্ক বির্স্তৃত করে বরিশাল, কুয়াকাটা, মংলা, পায়রা পর্যন্ত নেওয়ার দাবি দক্ষেণের মানুষের।

জানা গেছে, পদ্মা সেতু হয়ে ঢাকা-মুন্সীগঞ্জ-শরীয়তপুরের জাজিরা-মাদারীপুরের শিবচর-ফরিদপুরের ভাঙ্গা পর্যন্ত রেল লাইন নির্মাণের জন্য সম্ভাব্যতা সমীক্ষা শেষে ২০১৬ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি থেকে অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া শুরু হয়।

চারটি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান কানাডিয়ান ক্যানরেইল, অস্ট্রেলিয়ান এসএমসিই, জামার্নির ডিবিএইচ-এনবিএইচ ও বাংলাদেশের এসিই সম্ভাব্যতা সমীক্ষার মাধ্যমে প্রকল্প চূড়ান্ত করে ।

প্রায় দুই হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে রেললাইন হবে সিঙ্গেল লাইন। কেরানীগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর রেলস্টেশন, শিবচরে ২ টি স্টেশন, যশোর ও ভাঙ্গায় একটি করে জংশন নির্মাণ করা হবে।

এ ছাড়াও ৩৪ টি সেতু, ৯৬ টি বক্স কালভার্ট এবং আন্ডারপাস থাকবে এ প্রকল্পে। বুড়িগঙ্গা ও ধলেশ্বরী নদীতে নির্মিত হবে ২১.৮৪ কিমি. উড়াল সংযোগ সেতু।

প্রথম পর্যায়ে ভাঙ্গা পর্যন্ত ৮২ কিলোমিটার অধিগ্রহণ শেষে চলছে ক্ষতিপূরণ বিতরণ কার্যক্রম। মোট ৩৫৮.৪১ হেক্টর জমি অধিগ্রহণ করা হয়। রেললাইন নির্মাণে উঁচু জমিতে একশ ২০ ফুট ও নিচু জমিতে একশ ৫০ ফুট প্রশস্থতায় জমি অধিগ্রহণ করা হয়। এতকিছুর পরও সেতু ও অ্যাপ্রোচ সড়কের চেয়ে কাজে পিছিয়ে পড়ে রেললাইন নির্মাণ কাজ।

পদ্মা সেতুর পঞ্চম স্প্যানসহ মূল সেতুর কাজ ও সেতু সংশ্লিষ্ট ঢাকা-খুলনা মহাসড়ক ৬ লেন এক্সপ্রেস হাইওয়ে উন্নীত করণের কাজ দৃশ্যমান হলেও রেললাইন নির্মাণ বিলম্ব হওয়ায় জনমনে সংশয় বাড়ছিল।

গত জুনে চীনের সাথে রেললাইন নির্মানের চুক্তির পর গতি বেড়েছে প্রকল্পের কার্যক্রম। ইতোমধেই অধিগ্রহণকৃত এলাকা থেকে থেকে সরিয়ে নেয়া হয়েছে সকল স্থাপনা। গত কয়েকদিন ধরে মাঠ পর্যায়ে কাজ করতে দেখা গেছে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান চীনের কর্মকর্তা কর্মচারীদের।

চলছে মাটি পরীক্ষাসহ নানান কার্যক্রম। মাঠ পর্যায়ে চীনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দেশি-বিদেশি শ্রমিকদের কর্মতৎপরতা দেখে অনেকেই ভিড় করছেন।

এদিকে ১৩ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদ্মা সেতুর রেল সংযোগ ভিত্তিপ্রস্তরসহ ৪টি প্রকল্প উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর করতে পদ্মা পাড়ে আসা নিয়ে মানুষ আশান্বিত করে তুলেছে। বইছে উৎসবমুখর পরিবেশ। নেয়া হচ্ছে ব্যাপক প্রস্ততি।

পাচ্চর এলাকার ক্ষতিগ্রস্থ ব্যবসায়ী জয়দেব কর্মকার বলেন, পদ্মা সেতু ও ৬ লেন মহাসড়কের কাজ যতটা এগিয়েছে। সে তুলনায় রেল লাইনের কাজ পিছিয়ে ছিল। গত মাস দুয়েক গতি অনেক বেড়েছে। আমরা দোকানপাট ঘর বাড়ি সরিয়ে নিয়েছি। এখন দেখছি চীনের লোকজন মাটি পরীক্ষাসহ অনেক কাজ করছে।

কাঠালবাড়ি ঘাটে বরিশালের যাত্রী ইস্রাফিল মিয়া বলেন, আমরা চাই নির্ধারিত সময়েই পদ্মা সেতুর সাথে রেল সংযোগ হোক। রেললাইন ভাঙ্গা থেকে বরিশাল কুয়াকাটা পায়রা মংলা পর্যন্ত ছড়িয়ে দিলে এই অঞ্চলে ব্যাপক উন্নয়ন হবে। আমরা প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে এ ধরনের ঘোষণা আশা করছি। দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ তার এই সফরের দিকে তাকিয়ে আছে।

পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পের আওতাভুক্ত এনজিও ডরপ এর ডেপুটি টিম লিডার মাহাম্মদ জুবায়ের বলেন, রেল সংযোগে অধিগ্রেণে ক্ষতিগ্রস্থদের মাঝে প্রায় ৩০ ভাগ টাকা বিতরণ সম্পন্ন হয়েছে। অধিগ্রহণকৃত এলাকার অবকাঠামো সরিয়ে প্রস্তুত করা হয়েছে। চীনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দেশী বিদেশী শ্রমিকরা মাটি পরীক্ষাসহ বিভিন্ন কার্যক্রম শুরু করেছেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইমরান আহমেদ বলেন, রেললাইনের অধিগ্রহণকৃত জায়গার সকল স্থাপনা সরিয়ে সেখানে দেশী বিদেশী শ্রমিকরা কাজ দ্রুত করছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৩ অক্টোবর রেল সংযোগের ভিত্তিপ্রস্তরসহ পদ্মা সেতুর ৪টি প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর করবেন। তিনি জনসভায় বক্তব্য রাখবেন। তার আগমন উপলক্ষ্যে এ অঞ্চলে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে । ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।