প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য ‘হাস্যকর’: মির্জা ফখরুল

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৫:৪১ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৭, ২০১৮ | আপডেট: ৫:৪১:অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৭, ২০১৮

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী সব জায়গায় জিয়া পরিবারের ভূত দেখতে পান। না হলে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের ঘটনায় কীভাবে জোর করে তিনি খালেদা জিয়াকে যুক্ত করেন? তিনি জিয়াউর রহমানকে তার সঙ্গে যুক্ত করেন? যা মুখে আসছে, তা-ই তিনি বলছেন। প্রধানমন্ত্রীর মুখে এ ধরনের কথাবার্তা কখনোই শোভা পায় না। কিন্তু এটি প্রধানমন্ত্রীর স্বভাব। তিনি তার স্বভাবের মধ্য দিয়ে এ ধরনের হাস্যকর ও অর্বাচীন কথাবার্তা বলেন।

প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে মির্জা ফখরুল বলেন, দয়া করে এ ধরনের কথাবার্তা বন্ধ করুন। সঠিক পথে আসুন।

রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে শুক্রবার এক সংহতি সমাবেশে বিএনপির মহাসচিব এসব কথা বলেন।

নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলন চলাকালে কর্তব্যরত সাংবাদিকদের ওপর নৃশংস হামলার প্রতিবাদ ও সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারের দাবিতে এ সমাবেশের আয়োজন করে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (একাংশ) ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (একাংশ)।

আরও বক্তব্য দেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, বিএফইউজের (একাংশ) সভাপতি রুহুল আমিন গাজী, মহাসচিব এম আবদুল্লাহ, ডিইউজের সভাপতি কাদের গনি চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমেদ, জাতীয় প্রেস ক্লাবের বর্তমান যুগ্ম সম্পাদক ইলিয়াস খান, সিনিয়র সাংবাদিক আবদুল হাই শিকদার, ইঞ্জিনিয়ার রিয়াজুল ইসলাম রিজু, ডা. রফিকুল ইসলাম বাচ্চু প্রমুখ।

মির্জা ফখরুল বলেন, ওবায়দুল কাদের একটি মারাÍক কথা বলেছেন। তিনি এক-এগারোর পদধ্বনি শুনতে পাচ্ছেন। এরপরও তারা সরকারে আছেন? এখনও পদত্যাগ করছেন না? সরকার আওয়ামী লীগের, অথচ এক-এগারোর পদধ্বনি শুনতে পাচ্ছেন। একটি কথা ভুলে গেলে চলবে না, এই এক-এগারোর বেনিফিশিয়ারি (সুবিধাভোগী) কিন্তু আওয়ামী লীগ। তিনি বলেন, এতটাই বেনিফিশিয়ারি যে তাদের নেত্রী (শেখ হাসিনা) বিদেশ যাওয়ার আগে বলেছিলেন, আমরা এই ফখরুদ্দীন-মইনউদ্দিন সরকারের সব কর্মকাণ্ডের বৈধতা দেব। দিয়েছিল, পার্লামেন্টে আইন পাস করেছে। তাহলে এক-এগারোর পদধ্বনি শুনতে পাচ্ছেন কেন? তাহলে আপনারা ব্যর্থ হয়েছেন।

শুধু নিরাপদ সড়ক নয়, নিরাপদ বাংলাদেশের লক্ষ্যে দেশকে ‘স্বাধীন’ করার জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানান বিএনপির মহাসচিব।

তিনি বলেন, রাতের অন্ধকারে মেয়েদের তুলে নিয়ে যাচ্ছে। তাদের অপরাধ তারা নাকি ছেলেদের আন্দোলনে উসকানি দিচ্ছে। আমাদের বিরুদ্ধে উসকানির অভিযোগ তো তারা সব সময় করে। আজও তারা মানববন্ধন করে বলেছে, আমরা নাকি উসকানি দিচ্ছি। আমরা তো প্রথম দিন থেকেই সমর্থন দিয়েছি। প্রকাশ্যে ছাত্রদের এই ন্যায়সঙ্গত আন্দোলনকে সমর্থন করেছি। সেই সমর্থন অব্যাহত রেখেছি। আমরা ছাত্রদের কোটা আন্দোলন, নিরাপদ সড়কের দাবির আন্দোলনকে অবশ্যই সমর্থন জানাব এবং জনগণকে আহ্বান জানাব যে শুধু এই নিরাপদ সড়ক নয়, নিরাপদ বাংলাদেশের জন্য আপনারা এগিয়ে আসুন। আপনারা জেগে উঠুন এবং আপনার দেশকে ‘স্বাধীন’ করুন।

জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে ফখরুল বলেন, দেশকে, দেশের মানুষকে রক্ষা করার জন্য আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্ব সবচেয়ে বেশি। এ জন্য আমরা প্রথম থেকে বারবার বলে আসছি- আসুন, আমরা দল-মত নির্বিশেষে এক হয়ে এই যে দানব আমাদের বুকের ওপর ভর করে বসে আছে তাদের সরিয়ে দিই। যেটি আমাদের নেত্রী জেলে যাওয়ার আগে মিটিংয়েও বলে গেছেন।

বিএনপির মহাসচিব বলেন, যে দেশে প্রধান বিচারপতিকে বন্দুকের মুখে দেশ ছেড়ে চলে যেতে হয়, সে দেশে আপনি কী আশা করছেন? একটা মেয়ে বেল পিটিশন করেছে, সেটা কোর্ট থেকে রিজেক্ট করেছে। তার কী অপরাধ? সে কি খুনি না ডাকাত? সে চোরাচালানি নাকি ব্যাংক থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা লুট করে নিয়ে গেছে? তার জামিন আবেদন বাতিল করে দিচ্ছেন। যেসব ছেলেমেয়ে ঢাকার বাইরে থেকে এসে কষ্ট করে মেসে থেকে লেখাপড়া করছে, তাদের রিমান্ড বাতিল করা যাবে না বলছেন। আর যারা হাজার হাজার কোটি টাকা লুট করে নিয়ে গেছে, স্টক মার্কেট লুট করেছে, তাদের প্রতিবেদন পর্যন্ত প্রকাশ করেন না। কারণ তারা সবাই আপনাদের লোক।

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, আমি প্রধানমন্ত্রীর একজন ভক্ত। তার প্রতিটি বক্তব্য আমি মনোযোগসহকারে পড়ার চেষ্টা করি। বোঝার চেষ্টা করি তিনি কীভাবে সারা বছর দেশবাসীকে বোকা বানিয়ে শাসন করছেন।

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা বলেন, আমি প্রধানমন্ত্রীর ভক্ত বলেই বলছি, আপনি (শেখ হাসিনা) খালেদা জিয়াকে নিয়ে বৃহস্পতিবার যে বক্তব্যটা দিয়েছেন সেটা একবার পড়ে দেখেন। অথবা শুনে দেখেন। এতে আপনার দুটি জিনিস মনে হবে। একটা আপনি যে নিয়মিত ওষুধ খান শারীরিক সুস্থতার জন্য সেই ওষুধটা হয়তো বৃহস্পতিবার খাননি। অথবা আপনার পরামর্শদাতা- এখানেও দুটি শ্রেণি আছে, একটা ভারতের কর্তৃপক্ষ, আরেকটা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ। আর তাদের কথায় আপনি ভুল পথে আছেন।

ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, আপনি (প্রধানমন্ত্রী) বলেছেন, বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডে খালেদা জিয়া জড়িত। আপনি তখনকার দিনে তাকে চিনতেন কিনা আমি জানি না, আমি চিনতাম। খালেদা জিয়াকে আমি ’৭২ সাল থেকে চিনতাম। নির্মোহ গৃহবধূ। ’৭৫ সালে উনি (খালেদা জিয়া) কী করতেন? কেউ উনার বাড়িতে গেলে লজ্জায় নম্র বিনীতভাবে বলতেন, ভাই আরেকটা বিস্কুট দিই। এই মহিলা শেখ মুজিব হত্যার সঙ্গে জড়িত- এটা আপনি কী বলছেন? এই জাতীয় কথা বলে আপনি হাস্যকর হচ্ছেন।

নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, মানুষ পরিবর্তন চায়। তারা বলে, আজ আওয়ামী লীগ চলে যাক। পরিবর্তনে যারা আসবে তারা এর চাইতে ভালো হবে তো। বিএনপি যাক আমার কোনো আপত্তি নেই। কিন্তু যারাই ক্ষমতায় যাক, জনগণের সামনে তাদের বলতে হবে, আগের মতো হবে না। যারাই যাবেন তারা বলবেন, আমরা যদি ক্ষমতায় যাই বাংলাদেশের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটাব। আমরা দেশ পরিবর্তন করব। সমাজ বদল করব। আজ সেই পরিবর্তনের জন্য সবাইকে এক হতে হবে। সব রাজনৈতিক দল মিলে আজ একটাই আওয়াজ হবে-এই স্বৈরাচারের অবসান চাই।