প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এগিয়ে যাচ্ছে দেশ

মোঃ হায়দার আলী মোঃ হায়দার আলী

গোদাগাড়ী উপজেলা প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ৮:৫৮ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১০, ২০২১ | আপডেট: ৮:৫৮:অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১০, ২০২১

মোঃ হায়দার আলীঃ করোনাকালীন সময়ে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার কি অবস্থা, শিক্ষার্থীদের কি পরিমান ক্ষতি হচ্ছে, স্কুল কলেজ মাদ্রসা বন্ধ রয়েছে গত বছর ১৭ মার্চে থেকে কিন্তু দেদারসে চলছে শিক্ষকদের প্রাইভেট, কোচিং বানিজ্য, রহস্যজনক কারণে প্রশাসন রয়েছে নিরব দর্শকের ভূমিকায়। কিন্তু কোনা কোন স্থানে এসব অবৈধ প্রাইভেট কোচিং বানিজ্যের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করেছেন প্রশাসন যা পত্র পত্রিকা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে খবর পাওযা গেছে। এ অবস্থায় অনলাইন ক্লাস শিক্ষার্থীদের কতটা উপকারে এসেছে।

স্মার্ট ফোন, ইন্টারনেটের গতিনিয়ে শিক্ষক শিক্ষার্থীরা কতটা সমস্যার মুখে পড়েছে। এ সম্পর্কে লিখার জন্য, তথ্য উপাত্ত নিয়ে ল্যাপটপ ওপেন করলাম । এমন সময় রেডিও, টেলিভিশন, জাতীয়, স্থানীয়, অনলাইন পত্র পত্রিকায়, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বপ্নের পদ্মা সেতুসহ বিভিন্ন উন্নয়ন চোখের সামনে ভেঁসে আসল তাই তো থিম পরিবর্তন করে তথ্য উপাত্ত নিয়ে এগিয়ে যাওয়া বাংলাদেশে কথা লিখা শুরু করলাম।

সময়টা বিশ্ববাসীর জন্য দুঃসময় বটে। করোনা মহামারী জনমনে ভীতি তৈরিসহ অর্থনীতিতেও যথেষ্ট প্রভাব ফেলেছে। এমন সময় বাংলাদেশের মৃত্যু হার এবং অথেনৈতিক অবস্থা শোচনীয় হওয়ার কথা। আমরা তাতে উদ্বিগ্নও ছিলাম। এরপরও কিছু সুখ সংবাদে আমরা সুখ পাচ্ছি; আশার আলো দেখছি।

করোনাভাইরাসের কারণে সৃষ্ট দুর্যোগের মধ্যে এমন আশাজাগানিয়া সংবাদ আমাদের আন্দোলিত করে বৈকি! পত্রিকায় কয়েক দিনের সংবাদ শিরোনাম এমন- ‘মহামারীর ৪ মাসেও রেমিটেন্স বেড়েছে ৪৩ শতাংশ’; এগিয়ে চলেছে বাংলাদেশ; গার্মেন্টে আশার আলো; ‘রেমিটেন্স রিজার্ভের মতো রাজস্ব আদায়েও বিস্ময়’; করোনা দুঃসময়েও মেঘা প্রকল্প থেমে নেই। করোনাভাইরাসের কারণে সৃষ্ট দুর্যোগের মধ্যে এমন সংবাদে আশার আলো দেখতে পাচ্ছি আমরা করোনা সংকটেও দেশের এমন অগ্রগতির কারণ কী? প্রধানমন্ত্রীর দুঃসাহসী কিছু সিদ্ধান্ত অর্থনীতিতে বাজে প্রভাব থেকে মুক্ত রেখেছে বাংলাদেশকে। প্রধানমন্ত্রীর সাহসী সিদ্ধান্তে ঝুঁকি নিয়ে কারখানা খোলায় ইতিবাচক ফলও এটা। সব মহল থেকে বারবার বলা হচ্ছিল যেন দেশ পূর্ণ লকডাউনে যায়। সরকারের ইচ্ছায় লকডাউনে শিথিলতা ছিল। গার্মেন্ট, কলকারখানা সম্পূর্ণ বন্ধ রাখার কথা বলছিলাম আমরা। দেশে পরিবহন চালু না রাখার কথাও বলা হচ্ছিল। ভীতিকর পরিস্থিতিতে সারা বিশ্ব যখন লকডাউনে, তখন আমাদের গার্মেন্ট, কলকারখানা চলেছে, পরিবহনও চালু করা হয়েছে। এর সুফল এখন আমরা পাচ্ছি।

পাকিস্তানের সঙ্গে যুদ্ধ করে স্বাধীন করা এ দেশটার মানুষ আগে থেকেই দুঃসাহসী। সাহসিকতার বড় নজীর ১১ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গাকে শুধু আশ্রয়ই নয়, প্রতিদিন তাদের খাওয়া-পরা, চিকিৎসা, নিরাপত্তাসহ প্রয়োজনীয় সবকিছু দিয়ে বাংলাদেশ বিশ্বে মানবতার এক অনন্য নজির স্থাপন করেছে। এত বড় একটি কাজ সম্ভব হয়েছে শুধু শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সমগ্র জাতি রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও সামাজিকভাবে ঐক্যবদ্ধ বলেই।

ঝুঁকি নিয়ে সাহসিকতার সঙ্গে দেশে যেমন মানুষ থেমে ছিল না, যার যার কাজ করেছে, প্রবাসীরাও হাত পা গুটিয়ে বসেছিল না বলেই আজ রেমিটেন্স, রিজার্ভ, রাজস্ব আদায় বাড়ছে। দুঃসময়ে পোশাক কারখানাগুলো আশার আলো দেখাচ্ছে। বায়াররা ঝুঁকছেন বাংলাদেশের দিকে।

আমাদের সাহসিকতা, সব পরিস্থিতিতে কাজ করার ইচ্ছাশক্তি আমাদের এগিয়ে নিচ্ছে, এগিয়ে নেবে গোটা দেশকে। বাংলাদেশ এখন আর হেনরি কিসিঞ্জারের ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’ নয়। প্রধানমন্ত্রী জাতির উদ্দেশে তার ভাষণে বলেছিলেন- ‘দশ বছর আগের আর আজকের বাংলাদেশের মধ্যে বিরাট ব্যবধান’। কথাটা কিন্তু নিরেট সত্য। এ সময়ে আমাদের জীবনযাত্রার মান বেড়েছে, আমাদের সঙ্গতি বেড়েছে। উন্নয়নে, অর্থনীতিতে এগোচ্ছে দেশ। রাস্তাঘাটের ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। স্বপ্নের মেট্রোরেল হচ্ছে। পদ্মা সেতু হচ্ছে বাংলাদেশের গাঁটের টাকায়। এটা চাট্টিখানি কথা নয়।

মহামারী করোনাভাইরাসের মধ্যেও প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাঠানো রেমিটেন্স প্রবাহের ইতিবাচক ধারা অব্যাহত আছে এটা আশাজাগানিয়া সংবাদ। করোনা মহামারী বিশ্ব অর্থনীতিতে রীতিমতো ধস নামিয়েছে। অনেক দেশেরই জিডিপির প্রবৃদ্ধি নেতিবাচক ধারায় চলে গেছে। বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও করোনা আঘাত হেনেছে। রফতানি আয় কমে গিয়েছিল।

রাজস্ব আদায়ের হার কমেছে। মূলধনী যন্ত্রপাতির আমদানি কমেছে। চাকরি হারিয়েছে লাখো মানুষ। দারিদ্র্যের হার বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ কি পারবে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে যেতে- সৃষ্টি হয়েছিল এমন প্রশ্ন বা সন্দেহের। তা কেটেছে জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসি (সিডিপি) এবং সরকারের যৌথ পর্যবেক্ষণে। মাথাপিছু জাতীয় আয়, মানবসম্পদ ও অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা তিন সূচকেই লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে এগিয়ে আছে বাংলাদেশ।

বাংলাদেশ ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত-সমৃদ্ধ দেশে পরিণত হওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ বিশ্বের বুকে অপ্রতিরোধ্য অগ্রযাত্রায় এগিয়ে যাচ্ছে। এলক্ষ্যে ২০২১ সালকে অধিক গুরুত্ব দিয়ে দুর্নীতিমুক্ত করে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করলেই কাক্ষিত জায়গায় পৌঁছানো সম্ভব হবে। প্রধানমন্ত্রীর সাহসী নেতৃত্বের জন্যই করোনাকালে দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ৮.২ ধরে সংসদে চলতি অর্থবছরের বাজেট পাস করা হয়েছে। বলাবাহুল্য ধারাবাহিক অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশের স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তোরণ ঘটেছে। জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন নীতি সংক্রান্ত কমিটি (সিডিপি) গত বছর ১৫ মার্চ এলডিসি থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের যোগ্যতা অর্জনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়।

এলডিসি ক্যাটাগরি থেকে উত্তরণের জন্য মাথাপিছু আয়, মানব সম্পদ সূচক এবং অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা সূচক এ তিনটি সূচকের যে কোন দুটি অর্জনের শর্ত থাকলেও বাংলাদেশ তিনটি সূচকের মানদন্ডেই উন্নীত হয়েছে। জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক কাউন্সিলের (ইকোসক) মানদন্ড অনুযায়ী এক্ষেত্রে একটি দেশের মাথাপিছু আয় হতে হবে কমপক্ষে ১২৩০ মার্কিন ডলার, বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় তার থেকে অনেক বেশি অর্থাৎ ১৬১০ মার্কিন ডলার। মানবসম্পদ সূচকে ৬৬ প্রয়োজন হলেও বাংলাদেশ অর্জন করেছে ৭২ দমমিক ৯। অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা সূচক হতে হবে ৩২ ভাগ বা এর কম যেখানে বাংলাদেশের রয়েছে ২৪ দশমিক ৮ ভাগ। বিশ্ব ব্যাংকের মতে, ১৯৯১ সালে আমাদের দেশে যেখানে দারিদ্র্যের হার ছিল ৪৪ দশমিক ২ শতাংশ, ২০১৯ এ সেই হার কমে দাঁড়িয়েছে ২০ দশমিক ৫ শতাংশে (ঢাকা ট্রিবিউন)। ২০১৮’র তথ্য অনুযায়ী, জিডিপির ভিত্তিতে বাংলাদেশ বিশ্বের ৪৪তম অর্থনীতির দেশ আর ক্রয়ক্ষমতার ভিত্তিতে বাংলাদেশের অবস্থান ৩২তম।

স্বাস্থ্যখাতকে যুগোপযোগী করতে প্রণয়ন করা হয়েছে ‘জাতীয় স্বাস্থ্য নীতিমালা-২০১১’। তৃণমূল পর্যায়ের দরিদ্র মানুষদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে গড়ে তোলা হয়েছে ১২ হাজার ৭শ ৭৯ টি কমিউনিটি ক্লিনিক। ৩শ ১২ টি উপজেলা হাসপাতালকে উন্নীত করা হয়েছে ৫০ শয্যায়। মেডিকেল কলেজ ও জেলা হাসপতালগুলোতে ২ হাজার শয্যা সংখ্যা বৃদ্ধি করা হয়েছে।

শিক্ষাঃ শিক্ষাখাতে বর্তমান ২৬ হাজার ১শ ৯৩ টি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে নতুন করে জাতীয়করণ করা হয়েছে। উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিক্ষকের চাকরি সরকারীকরণ করা হয়েছে। ১৯৯০ সালে বিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া শিশুর শতকরা হার ছিল ৬১, বর্তমানে তা উন্নীত হয়েছে শতকরা ৯৭.৭ ভাগে।

কৃষিখাতে অভূতপূর্ব সাফল্যের জন্য বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশ বারবার আলোচিত হয়েছে। প্রায় ১৬ কোটি জনগোষ্ঠীর বাংলাদেশ বর্তমানে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। বিগত বছরগুলোতে বাংলাদেশে ধানের উৎপাদন বেড়েছে প্রায় ৫০ লক্ষ মেট্রিক টন। কৃষিকে শিল্প হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে কম সুদে ঋণ দেওয়া, ভর্তুকি দেওয়া, সার, তেল, ডিজেলসহ বিভিন্ন ধরনের কৃষি সরঞ্জাম দিয়ে কৃষি খাতকে একটা শক্ত ভিতের ওপর দাঁড় করিয়েছেন বর্তমান সরকার। ফলে আমরা খাদ্য উৎপাদনে এখন স্বয়ংসম্পূর্ণ। ধান ও মাছ উৎপাদনেও বিশ্বে অনন্য রেকর্ড গড়েছে বাংলাদেশ।

বিদ্যুৎঃ বিদ্যুৎখাতে জাতীয় গ্রিডে অতিরিক্ত ৬ হাজার ৩২৩ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সংযোজন করা হয়েছে, যার ফলে বিদ্যুতের সুবিধাভোগীর সংখ্যা ৪৭ শতাংশ থেকে ৬২ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। একই সাথে মাথাপিছু বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিমাণ ২২০ কিলোওয়াট ঘণ্টা থেকে বেড়ে ৩৪৮ কিলোওয়াট ঘণ্টায় দাঁড়িয়েছে। নতুন বিদ্যুৎ সংযোগ প্রদান করা হয়েছে ৩৫ লক্ষ গ্রাহককে। নির্মাণ করা হয়েছে নতুন ৬৫টি বিদ্যুৎ কেন্দ্র। ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণের অংশ হিসেবে গভীর সমুদ্রের তলদেশে অপটিক্যাল ফাইবার, মহাকাশে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট, মোবাইল ব্যাংকিং, উপজেলা শহরে বসেছে ব্যাংকের এটিএম বুথ, সহজলভ্য ইন্টারনেট সেবা দিচ্ছে ইউনিয়ন তথ্যসেবা কেন্দ্র। দেশের তৃণমূল পর্যায়ে প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে সরকারি সেবা পৌঁছে দেবার অভিপ্রায়ে দেশের ৪ হাজার ৫ শ ৫০ টি ইউনিয়ন পরিষদে স্থাপন করা হয়েছে ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার। তৈরি করা হয়েছে বিশ্বের অন্যতম বিশাল ন্যাশনাল ওয়েব পোর্টাল। কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকে শুরু করে ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত এ পোর্টালের সংখ্যা প্রায় ২৫ হাজার ।

পোশাক খাতঃ বাংলাদেশি পোশাকের অন্যতম বড় ক্রেতা প্রতিষ্ঠান এইচঅ্যান্ডএম। সুইডেনভিত্তিক এ ব্র্যান্ড বাংলাদেশ থেকে বছরে প্রায় ৩০০ কোটি ডলার বা ২৫ হাজার ৫০০ কোটি টাকার পোশাক কিনে থাকে। সে হিসাবে ১০ শতাংশ বাংলাদেশি পোশাকের ক্রেতা হচ্ছে এইচঅ্যান্ডএম। করোনায় কোনো ক্রয়াদেশ বাতিল করেনি তারা। স্থগিত হওয়া ক্রয়াদেশের পণ্য নেয়া শুরুর পাশাপাশি উদ্যোক্তাদের কাছে কোনো মূল্য ছাড়ও চায়নি। পোশাকের ক্রয়াদেশের দাম পরিশোধের শর্তেও কোনো রকম পরিবর্তন করেনি এইচঅ্যান্ডএম।

এইচঅ্যান্ডএমের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গত দুই থেকে আড়াই মাসে ৫০ কোটি ডলারের ক্রয়াদেশ দেয়া হয়েছে। এইচঅ্যান্ডএমের ৩০০ সরবরাহকারী কারখানার সবাই ক্রয়াদেশ পেয়েছে। এইচঅ্যান্ডএমের ক্রয়াদেশ পাওয়ার ক্ষেত্রে অন্য প্রতিযোগী দেশের তুলনায় বাংলাদেশের অবস্থান ভালো। করোনা সংকটে চীন ও তুরস্ক থেকে যেসব ক্রয়াদেশ ছেড়েছে, তার একটি অংশ বাংলাদেশে আসছে। কারণ বাংলাদেশে উৎপাদন খরচ তুলনামূলক কম। এটাও বাংলাদেশের অর্থনীতি এগিয়ে যাওয়ার আরেকটি কারণ।

ক্রীড়াঃ বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গণে ২০১৯ সাল মূলত শেষ হয় দক্ষিণ এশিয়ান গেমস দিয়ে যেখানে বাংলাদেশ মোট ১৯টি স্বর্ণপদক পায়। মূলত আর্চারী, ভারোত্তোলন ও কারাতের ইভেন্টগুলোতে বাংলাদেশ সফলতা লাভ করে। মাবিয়া আক্তার সীমান্ত ভারোত্তোলনে স্বর্ণপদক পায়। ২০১৯ সালে বাংলাদেশের অন্যতম সেরা ক্রীড়াবিদ ছিলেন আর্চার রোমান সানা। যিনি প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে অলিম্পিকে সরাসরি খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছেন। মূলত বিশ্ব আর্চারীতে ব্রোঞ্জ পদক জিতে এবং এশিয়ান আর্চারীতে স্বর্ণপদক জয় তাকে এই লক্ষ্য অর্জনে সাহায্য করে। ২০১৯ সালেই দুইবারের আর্চারী বিশ্বচ্যাম্পিয়ন কিম-ওজিনকে পরাজিত করেন রোমান সানা। বিশ্বদরবারে ৩৯টি দেশের ৬৪ শান্তি মিশনে খ্যাতি ও সফলতার সাথে বাংলাদেশ তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। এ যাবৎকালে জাতিসংঘ শান্তি মিশনে বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশগ্রহণকারী ১১৫টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান সর্বাগ্রে।

শেখ হাসিনার সাহসী পদক্ষেপই বাংলাদেশকে অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির পথে নিয়ে গেছে। বিশ্বের কাছে বাংলাদেশ উন্নয়নের নতুন মাইলফলক হিসেবে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। বিশেষ করে ভারী শিল্পের উন্নয়ন এবং পদ্মাসেতু, মেট্রারেলসহ বড় বড় উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে তাঁর নেওয়া সাহসী পদক্ষেপ বিশ্ববাসীর কাছে প্রশংসিত। শুধু তাই নয়, করোনাভাইরাসের চলমান মহামারী থেকে দেশের মানুষকে বাঁচাতে যেসব উদ্যোগ তিনি নিয়েছেন সেগুলোও অত্যন্ত ফলপ্রদ ভূমিকা রেখেছে। ফলত চলমান মহামারীতেও অনেক উন্নত দেশের তুলনায় বাংলাদেশে মৃত্যুহার অনেক কম। ইউরোপ-আমেরিকার দেশগুলোয় যেখানে মৃত্যুহার ১৫-২০ শতাংশ সেখানে বাংলাদেশে এ হার মাত্র ১ দশমিক ৭ শতাংশ। ১৯৮১ সালে বাংলাদেশের মানুষের মাথাপিছু বাৎসরিক আয় ছিল ২২৭.৭৫ মার্কিন ডলার অর্থাৎ ১৯,৩১৪ টাকা। শিক্ষিতের হার ছিল মাত্র ২৯.২৩%। ২০১১ সালে, ৩০ বছরের ব্যবধানে এই বাৎসরিক আয় ছিল ৮৬১.৭৬ মার্কিন ডলার অর্থাৎ ৭৩,০৭৮ টাকা। শিক্ষিতের হার ছিল ৫৮.৭৭% এবং দারিদ্র্যের হার ছিল ৩১.৫%। ২০১৮ সালে মাত্র ৭ বছরের ব্যবধানে দেশের মানুষের মাথাপিছু বাৎসরিক আয় বেড়ে দাঁড়ায় ১৬৯৮.২৬ মার্কিন ডলার অর্থাৎ ১,৪৪,০১৩ টাকা। শিক্ষিতের হার এবং দারিদ্র্যের হার ছিল যথাক্রমে ৭৩.৯১% ও ২১.৮%। ১৯৮১ থেকে ২০১১ পর্যন্ত ৩০ বছরে মানুষের মাথাপিছু আয় বেড়েছে মাত্র ৫৪ হাজার টাকা এবং শিক্ষিতের হার বেড়েছে প্রায় ২৯%। কিন্তু ২০১১ থেকে ২০১৮ সালে, মাত্র ৭ বছরে এই মাথাপিছু আয় বেড়েছে প্রায় ৭১ হাজার টাকা, শিক্ষিতের হার বেড়েছে ১৬% এবং দারিদ্র্যের হার কমেছে প্রায় ১০%। দেশ এ দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাওয়ায় মানুষের জীবনযাত্রার মান অনেকগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে।

আশা করা যায়, ২০২৪ সালের মধ্যেই বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশের কাতারে চলে যাবে। কয়েক বছর ধরেই বাংলাদেশ ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে চলেছে। অবকাঠামো খাতে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। পদ্মা সেতু এখন দৃশ্যমান বাস্তবতা। বিদ্যুতে দেশ আজ স্বয়ংসম্পূর্ণ। তৈরি পোশাক রফতানি ছাড়া অন্যান্য খাতেও রফতানি বাড়ছে। বাংলাদেশের ওষুধ যাচ্ছে ১৬৬টি দেশে। প্রবাসী আয় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছাড়িয়েছে ৪০ বিলিয়ন ডলার।

লেখক : মোঃ হায়দার আলী
সভাপতি, জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা,
গোদাগাড়ী উপজেলা শাখা।

প্রধান শিক্ষক, মহিশালবাড়ী মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়
গোদাগাড়ী, রাজশাহী।

(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। বাংলাদেশ টুডে এবং বাংলাদেশ টুডে-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)