‘প্রবীণদের’ ঐক্যে তারুণ্য সংকট!

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১:৫৮ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২৯, ২০১৮ | আপডেট: ১:৫৮:অপরাহ্ণ, আগস্ট ২৯, ২০১৮

দেশের চলমান পরিস্থিতিতে খ্যাতিমান দুই রাজনীতিবিদসহ সমমনা কয়েকটি ছোট রাজনৈতিক দলের মাঝে ঐক্য হলেও জোটে এখনও তরুণ নেতৃত্বের দেখা মেলেনি। ফলে প্রবীণ এই নেতৃত্ব নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে এরই মাঝে শুরু হয়েছে নানা ধরনের হিসেবে নিকেষ।

বৃহত্তর জাতীয় ঐক্যের নেতৃত্বে থাকা ডা. এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী ও ড. কামাল হোসেনের বয়স আশি পেরিয়েছে। জোটের অন্য শরীক আসম আবদুর রবের বয়সও সত্তুরের কম নয়। মাহমুদুর রহমান মান্নার বয়স সত্তুরের কোটায়। জোটে বাকি যারা আছেন তাদের বয়সও ষাটোর্ধ্ব।

এর আগে ক্ষমতার ভারসাম্যের দাবি নিয়ে বৃহৎ জাতীয় ঐক্যের ডাক দিয়ে ‘হালে পানি পায়নি’ বিএনপি। গত কয়েক বছর ধরে অধ্যাপক ডা. এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী ক্ষমতার ভারসাম্যের সরকারের গঠনের নিয়ে জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার চেষ্টা করছেন। কিন্তু কিছুতেই তা আলোর মুখ দেখছে না।

জাতীয় ঐক্যের প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে মঙ্গলবার রাতে বিকল্পধারা বাংলাদেশের সভাপতি ও সাবেক রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক ডা. এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী ও গণফোরাম সভাপতি ও সংবিধান প্রণেতা ড. কামাল হোসেন ঐক্যমতে পৌঁছান। সঙ্গে আছেন ড. কামাল হোসেনের দল গণফোরাম ছাড়াও যুক্তফ্রন্টের তিন দল— বিকল্পধারা বাংলাদেশ, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি) ও নাগরিক ঐক্যের নেতারা।

ডা. কামাল হোসেনের বেইলি রোডের বাসায় তারা বৈঠকও করেন। বৈঠকে শেষে বি. চৌধুরী সাংবাদিকদের জানান, জাতির ক্রান্তিলগ্নে তারা জাতীয় ঐক্যের জন্য যুক্তফ্রন্ট ও গণফোরাম একসঙ্গে কাজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সেজন্য চার সদস্যের সাব-কমিটি গঠন করা হয়েছে। তারা পরবর্তী কর্মসূচি বিষয়ে জানাবে।

জাতীয় ঐক্য গঠন নিয়ে রয়েছেন ভিন্ন মত। অনেক রাজনৈতিক দল আদর্শিক জায়গায় ঐকমত্য পৌঁছাতে পারছেন না। যে কারণে ঐক্য গঠন প্রক্রিয়া ঘরোয়া বৈঠকেই সীমাবদ্ধ।

এই প্রসঙ্গে গণসংগতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি বলেন, ‘বিভিন্ন সময় আওয়ামী লীগ ও বিএনপি ক্ষমতার ভারসাম্যের সরকারের কথা বলেছেন। কিন্তু সুনির্দিষ্ট কোনো রুপরেখা দেয়নি। যে কারণে আমরা তাদের সঙ্গে যাইনি। ভারসাম্যের সরকারের কথা বলছে যুক্তফ্রন্টও। কিন্তু কোনো সুনির্দিষ্ট কোনো প্রস্তাবনা নেই। যে কারণে অনেকই হয়তো তাদের দাবির সঙ্গে একমত থাকলেও সামনে আসনে না।’

তিনি বলেন, ‘শুধুমাত্র ক্ষমতার পরিবর্তনের জন্য জাতীয় ঐক্য করে কোনো লাভ হবে। আমরা একটা গণতান্ত্রিক দেশ গড়ার লক্ষ্যে যে আন্দোলন করছি তা বাস্তবায়নের জন্য সুনির্দিষ্ট প্রদক্ষেপ দরকার। যা আমরা বিভিন্ন সময় বলে আসছি। নিরপেক্ষ সরকার পরিচালনায় কমিশন গঠন, ক্ষমতার ভারসাম্যের জন্য সাংবিধানিকভাবে একটা স্থায়ী ব্যবস্থা দরকার।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. মিজানুর রহমান শেলী বলেন, ‘যুক্তফ্রন্টে যারা আছেন তাদের মধ্যে অনেক সফল ব্যক্তি রয়েছেন। তারা তাদের কাজে কর্মে তা দেখিয়েছেন। কিন্তু শুধুমাত্র ব্যক্তিগত সাফল্য সাংগঠনিক শক্তির আভাস দেয় না। তাদের যে দলীয় সংগঠন রয়েছে তাদের বিশেষ কোনো প্রভাব দেশের রাজনীতিতে দেখিনি।’

তিনি বলেন, ‘জনগণকে আকৃষ্ট করার জন্য যে বিপুল প্রভাব থাকার দরকার এখানে একটা ঘাটতি আছে। যে কারণ তরুণ সমাজ আস্থা পাচ্ছে না। বিএনপিও জাতীয় ঐক্যের ডাক দিয়েছে। দেখা যাক, বিএনপি তাদের তাদের ডাকে সারা দেয় কিনা?’

তরুণ সংকটের বিষয়টি মানতে নারাজ যুক্তফ্রন্টের অন্যতম সদস্য নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না। তিনি বলেন, ‘তরুণ সমাজ আমাদের সঙ্গে আছে। আমরা প্রাথমিক প্রক্রিয়াটা শুরু করছি। আমরা বৃহত্তর ঐক্যে যাক দিয়েছি। কাজ করছি। বিএনপিও ঐক্য চায়। তার খুব খুশি হয়েছে। যদিও তারা আনুষ্ঠানিক ভাবে কিছু বলেনি।’

অন্যদিকে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কারাগারের যাওয়ার আগে গত ৩ ফেব্রুয়ারি হোটেল লা মেরিডিয়ানে দলের নির্বাহী কমিটির সভায় বৃহত্তর জাতীয় ঐক্যের ডাক দেন। তারই অংশ হিসেবে খালেদা জিয়ার নির্দেশে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন।

এ বিষয়ে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, ‘যুক্তফ্রন্টের জাতীয় ঐক্যের ডাককে সাধুবাদ জানাই। কারণ ভালো উদ্যোগ। আমরা গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষায় আন্দোলন করছি। আমাদের নেত্রী (খালেদা জিয়া) কারাগারে যাওয়ার আগে জাতীয় ঐক্যের ডাক দিয়েছেন। দেরিতে হলেও সেই ডাকে সারা পাচ্ছি।

জোট ভুক্ত হওয়া আর জাতীয় ঐক্য এক নয়। গণতান্ত্রিক দাবিতে ঐক্যমতই হচ্ছে জাতীয় ঐক্য। যে কারণ আমরা এটা স্বাগত জানাচ্ছি।’উল্লেখ্য,একাদশ জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ডিসেম্বরের শেষদিকে ভোট হবে বলে ক্ষমতাসীনদের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে।