প্রভাবশালীদের ছত্রচ্ছায়ায় র‌্যাগিংয়ের নামে যা হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ে

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১২:৩১ পূর্বাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ৩, ২০১৯ | আপডেট: ১২:৩১:পূর্বাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ৩, ২০১৯
ফাইল ছবি

নতুন শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠে দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো। তার সাথে মাথা চাড়া দিয়ে উঠে র‌্যাগিং নামের অপসংস্কৃতি। ইংরেজি র‌্যাগিংয়ের বাংলা জ্বালাতন করা। রসিকতার নামে কাউকে অত্যাচার করা।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নতুন শিক্ষার্থীদের সাথে পুরনো ছাত্রদের একটা সখ্য গড়ে তুলতে যে প্রথা পরিচিত তাকে র‌্যাগিং নামে অভিহিত করা হয়। তবে বর্তমানে র‌্যাগিং নতুন শিক্ষার্থীদের কাছে একটি আতঙ্ক। এখান ক্যাম্পাসে আসা নবীন শিক্ষার্থীরা সবসময় র‌্যাগিংয়ের ভয়ে ভীত থাকেন।

‘আদব-কায়দা, নিয়ম-কানুন’ শেখানোর নামে তাদের ওপর চালানো হয় শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন। শারীরিক নির্যাতনের মধ্যে আছে কান ধরে ওঠবসো করানো, রড দিয়ে পেটানো, পানিতে চুবানো, উঁচু ভবন থেকে লাফ দেয়ানো, সিগারেটের আগুনে স্যাঁক দেয়া, গাছে ওঠানো, ভবনের কার্নিশ দিয়ে হাঁটানোসহ দিগম্বর করা পর্যন্ত।

আর মানসিক নির্যাতনের মধ্যে আছে গালিগালাজ, কুৎসা রটানো, নজরদারিসহ নিয়মিত খবরদারি। ফলে অনেক শিক্ষার্থী আতঙ্কে ক্যাম্পাস ছেড়ে চলে যান। কাউকে কাউকে ডাক্তারের শরণাপন্নও হতে হয়।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে দিন দিন র‌্যাগিংয়ের মাত্রা বেড়েই যাচ্ছে। সিনিয়ররা র‌্যাগিংকে রসিকতা হিসেবেই মনে করেন। তারা মনে করেন, এর মাধ্যমেই জুনিয়রদের সাথে সম্পর্ক তৈরি হয়। সখ্যতা গড়ে উঠে। কিন্তু বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন।

দেখা হলে, ভয়ে সালাম দিয়ে সম্মান দেখানো আর আড়ালে গিয়েই বকা দেয়া কখনো সম্মান হতে পারে না। কিন্তু দুঃখের বিষয়, এটাকেই অনেকে সম্মান ও শ্রদ্ধা বলে মনে করেন! আজ যে র‌্যাগিয়ের শিকার হচ্ছেন, তিনি নিশ্চয়ই আগামীতে এর চেয়ে তীব্র মাত্রায় র‌্যাগিংয়ের ফন্দি আঁটবেন! ফলে, এ অপসংস্কৃতি বাড়তেই থাকবে।

অনেকেই ক্যাম্পাসে সিনিয়র-জুনিয়র সম্পর্ককে ভাইবোনের সম্পর্ক বলে থাকেন। যদি ভাইবোনের সম্পর্কই মনে করেন, তা হলে তাদের র‌্যাগিংয়ের মাধ্যমে অশ্লীল কথাবার্তা বলতে বাধ্য করা কেন? প্রপোজ করানো, রুম মাপা, জোর করে গান গাওয়ানো, নৃত্য করানো প্রভৃতি কি শিক্ষার অংশ? এর মাধ্যমে কী শিক্ষা দেয়া হয়!

সম্প্রতি বছরগুলোতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, হাজী দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে র‌্যাগিংয়ের নামে অপসংস্কৃতি মারাত্মকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। ১৯ জানুয়ারি ২০১৯, ‘দৈনিক যুগান্তর’ পত্রিকায় ‘ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকে ক্লাস থেকে বের করে নবীনদের র‌্যাগিং’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়। যা সত্যিই বেদনাদায়ক।

যেখানে বিশ্ববিদ্যালয় মুক্ত জ্ঞানচর্চার জায়গা, সেখানে আমরা শুরুতেই কেন তাদের মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করছি! কেন তাদের চলাচলে হস্তক্ষেপ করছি! প্রকৃতপক্ষে এটা কখনোই কাম্য নয়। মূলত প্রভাবশালীদের ছত্রচ্ছায়ায় র‌্যাগিং নামের অপরাধ সংগঠিত হয়। আমাদের এ অপসংস্কৃতি চর্চা থেকে বেরিয়ে সুস্থ সংস্কৃতি চর্চা করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও শিক্ষার্থীদের সচেতন ও সোচ্চার হতে হবে। সর্বোপরি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমেই র‌্যাগিংমুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় সম্ভব।

লেখক : শিক্ষার্থী, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ,

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়