প্রশাসন নিশ্চুপ! নিষেধাজ্ঞা মানছে না রাবি শিক্ষার্থীরা

মুজাহিদ হোসেন মুজাহিদ হোসেন

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

প্রকাশিত: 4:06 PM, November 14, 2019 | আপডেট: 4:06:PM, November 14, 2019

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে র‌্যাগ ডের অনুষ্ঠান, মাইকিং, সাউন্ডবক্স ও বাদ্যযন্ত্রসহ সব প্রকার অনুষ্ঠান পালন করছে বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে যারা এসব র‌্যাগ ডে সহ বিভিন্ন অনুষ্ঠান করছে তাদের বিরুদ্ধে বিশ^বিদ্যালয় প্রশাসন কোন পদক্ষেপ নিচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছে বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষক- শিক্ষার্থী।

গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী হারুন-উর-রশীদ অভিযোগ করে বলেন, ‘আজ আমাদের রবীন্দ্রভবনে পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে আমাদের ভবনের মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থীরা র‌্যাগ ডে পালন করছিল। সেখানে এত উচ্চস্বরে গান বাজনা হচ্ছিল যে আমাদের রুমে বসে পরীক্ষা দেয়া মুশকিল। এখন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞার পরও যদি আমাদের ক্লাস পরীক্ষার সময় এমন বিড়ম্বনায় পড়তে হয় তাহলে আমরা অভিযোগ কার কাছে দিব?

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক লুৎফর রহমান বলেন, নিষেধাজ্ঞার পর আর এরকম কোনো অভিযোগ আসেনি, যা এসেছে তৎক্ষণাৎ ব্যবস্থা নিয়েছি। আর আজকের মার্কেটিং বিভাগের চেয়ারম্যানকে এ বিষয়ে আমি জানিয়েছে। তারপরও তারা র‌্যাগ ডে পালন করেছে কীনা সেটা আমার জানা নেই। আমি বিষয়টি দেখছি।

র‌্যাগ ডে পালন করা অবস্থায় নিষেধাজ্ঞা অমান্য করার বিষয়ে মার্কেটিং বিভাগের এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘নিষেধাজ্ঞা থাকার ব্যাপারে আমি ব্যক্তিগতভাবে অবগত ছিলাম না। তবে যদি নিষেধাজ্ঞা থাকেই তাহলে প্রত্যেকদিনই তো বিশ^বিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগ তারপর মেয়েদের হলের সমাপনিতে গানবাজনা হচ্ছে সেখানে তো বিশ^বিদ্যালয় প্রশাসনের কোন ব্যবস্থা নিতে দেখি নাই। তাহলে কীভাবে বুঝব যে নিষেধাজ্ঞা আছে এবং কার্যকারিতাও আছে।

খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ভবন, স্যার জগদীশ চন্দ্র বসু ভবন, কুদরাত-ই-খুদা ভবনসহ রাস্তার পাশে অবস্থিত সকল ভবনগুলোতে ক্লাস এবং পরীক্ষা নেওয়া তথা একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে গিয়ে চরম বিপাকে পড়তে হচ্ছে শিক্ষকদের।

নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী আবু শাহীন বলেন, মাঝে মাঝে ক্লাস করার সময় হঠাৎ এত উচ্চস্বরে মাইকিং বা বিভিন্ন প্রকার গানের আওয়াজ ভেসে আসে। এতে করে বেশি অসুবিধায় পড়তে হয় পরীক্ষার সময়, বাইরের শব্দ দূষনের ফলে আমাদের পরীক্ষার প্রতি মনোযোগের বিঘœ ঘটে। আমরা চাই প্রশাসন শিগগিরি এ বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপ নিয়ে শিক্ষার্থীদরে সমস্যাটা নিমর্ূূূল করবে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক ড. মশিহুর রহমান বলেন, এসব সমস্যার সমাধান অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। প্রশাসন যে উদ্যোগ নিয়েছে তা প্রংশসনীয়। কিন্তু প্রশাসন চাইলেই সব সমস্যা একা সমাধান করতে পারে না।

প্রয়োজন পড়ে সম্মিলিত সচেতনতা বা সহযোগীতার। শব্দ দূষণের সমস্যার ক্ষেত্রে যদি শিক্ষার্থীদের সচেতনতা থাকে, বিভিন্ন সংগঠন এই সমস্যাকে গুরুত্ব দিয়ে মুল্যায়ন করে এবং প্রশাসনও সচেতনতা বৃদ্ধির চেষ্টা করে তবেই এই সমস্যার সমাধান হবে বলে মনে করি।

প্রসঙ্গত, ক্যাম্পাস চলাকালে র‌্যাগ ডের অনুষ্ঠান, মাইকিং, সাউন্ডবক্স ও বাদ্যযন্ত্রসহ সব প্রকার অনুষ্ঠানের ওপর গত ফেব্রæয়ারি মাসের ২৭ তারিখ নিষেধাজ্ঞা জারি করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এই নিষেধাজ্ঞা সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে বলে বিশ^বিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. লুৎফর রহমান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।