প্রয়োজনে যুক্তরাষ্ট্রেও চিঠি পাঠাবে দুদক

প্রকাশিত: ৯:০১ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ৫, ২০১৯ | আপডেট: ৯:০১:অপরাহ্ণ, নভেম্বর ৫, ২০১৯
ফাইল ছবি

দেশে চলমান ক্যাসিনো বিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে ক্যাসিনো-কাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের তথ্য জানতে প্রয়োজনে যুক্তরাষ্ট্রেও চিঠি পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সচিব মুহাম্মদ দিলোয়ার বখত।

আজ মঙ্গলবার (৫ নভেম্বর) বিকেলে দুদকের প্রধান কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা জানিয়েছেন তিনি।

এর আগে আজ দুপুরে যুক্তরাষ্ট্রের জাস্টিস ডিপার্টমেন্ট ও স্টেট ডিপার্টমেন্টের তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদের সঙ্গে বৈঠক করে। ওই বৈঠকের আলোচ্যসূচি ও সিদ্ধান্ত সম্পর্কে জানাতে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন সচিব।

প্রতিনিধি দলের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, এফবিআইয়ের দক্ষ ও চৌকস কর্মকর্তারা বাংলাদেশে এসে দুদকের কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ দিতে পারেন। এক্ষেত্রে দুদক হয়তো প্রশিক্ষকদের লোকাল হসপিটালিটির ব্যবস্থা করতে পারে। তদন্ত ও প্রসিকিউশনে অভিজ্ঞ রিসোর্স পারসনদের মাধ্যমে কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে চায় কমিশন।

ইকবাল মাহমুদ বলেন, দুর্নীতি একটি গর্ভানেন্স ইস্যু। আমরা সমন্বিতভাবে সরকারি পরিষেবা ব্যবস্থাপনায় উন্নয়নে চেষ্টা করছি। এক্ষেত্রে কমিশন বহুমাত্রিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান তদন্ত সংস্থা ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিভেশনের (এফবিআই) সঙ্গে সমঝোতা স্মারক সই করতে চায় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। যার লক্ষ্যে ইতোমধ্যেই এফবিআইকে চিঠি দিয়েছে দুদক। এই সমঝোতা স্মারক সই হলে পারস্পরিক সহযোগিতার ক্ষেত্র আরও প্রসারিত হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

প্রতিনিধি দল দুদক চেয়ারম্যানের কাছে জানতে চায়- দুদকের ৩০ শতাংশ মামলায় খালাস পাওয়ার কারণ কী? দুর্বল তদন্ত, দুর্বল প্রসিকিউশন নাকি অন্য কিছু? এর জবাবে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, আপনার ধারণা হয়তো সবগুলোই সত্য। তবে বর্তমানে কমিশন তদন্ত এবং প্রসিকিউশন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ব্যাপক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা নিয়েছে। কমিশনের মামলায় সাজার হার এক সময় মাত্র ২২ শতাংশে নেমে এসেছিল, যা বর্তমানে প্রায় ৭০ শতাংশে উন্নীত হয়েছে।

তিনি বলেন, কমিশন দুই শতাধিক মানিলন্ডারিং মামলা দায়ের করেছে। এসব মামলার ১৬টি মামলায় বিচারিক আদালতে রায় হয়েছে। প্রতিটি মামলায় আসামিদের সাজা হয়েছে।

প্রতিনিধি দলের আরেক প্রশ্নের জবাবে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, কমিশন শুধু চুনোপুঁটিদের ধরছে না, রাঘব-বোয়ালদেরও ধরছে। অনেক উচ্চপদস্থ ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। আরও অনেককেই জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। দুর্নীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। অপরাধীদের আইনের মুখোমুখি হতে হবে।

মার্কিন প্রতিনিধি দলের মধ্যে ছিলেন ইউএস ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিসের রেসিডেন্ট লিগ্যাল অ্যাডভাইসার এরিক ওপাঙ্গা, ইউএস ডিপার্টমেন্ট অব স্টেটের জাস্টিস অ্যাডভাইজার রুশানি মানসুর প্রমুখ।