থানায় চোখবাঁধা যুবলীগ নেতার ভিডিও ভাইরাল

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১:০৩ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২০ | আপডেট: ১:১১:অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২০

ফরিদপুরে চোখ বাঁধা অবস্থায় ভাঙ্গা উপজেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ আরাফাত আর আহাদুজ্জামান নামে পুলিশের এক পরিদর্শকের কথোপকথনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে।

গত সোমবার রাতে আরাফাত নিজেই সেটি ফেসবুকে আপলোড করেন। তবে ভিডিওটি কে করেছে বা তিনি কোথায় পেয়েছেন সে বিষয়ে কিছু বলতে পারেননি যুবলীগের এই নেতা।

এদিকে, এ ঘটনার তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেছে পুলিশ। জেলার পুলিশ সুপার মো. আলিমুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, গত মঙ্গলবার রাতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) জামাল পাশাকে আহ্বায়ক করে পুলিশ এই কমিটি গঠন করেছে।

কমিটির অন্য দুই সদস্য হলেন- সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাশেদুল ইসলাম ও ভাঙ্গা সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার গাজী রবিউল ইসলাম।

ভিডিওতে দেখা গেছে, জিনসের প্যান্ট ও কোট পরা এক ব্যক্তির হাতে হাতকড়া। দুই চোখ গামছা দিয়ে বাঁধা। তার সামনে চেয়ারে বসা এক ব্যক্তি বলছেন, ‘তোর কী হইছে? কে মারছে? আমি তো তোগো লোক না। তোগো লোক হলে থানায় থাকতে পারতাম। আমি এমপি নিক্সন চৌধুরীর লোক।’

আরাফাতের দাবি, চোখ বাঁধা ওই ব্যক্তি তিনি। আর চেয়ারে বসা ব্যক্তি পরিদর্শক আহাদুজ্জামান। যুবলীগের এই নেতা বলেন, গত ৫ জানুয়ারি সন্ধ্যায় কাউলিবেড়া এলাকা থেকে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে এবং ১০ ফেব্রুয়ারি তিনি জামিনে বের হন। সেই ঘটনার ভিডিও আপলোড করেছেন বলে দাবি তার।

শেখ আরাফাত বলেন, ‘হাতকড়া পরিয়ে গাড়ির মধ্যে চারজন পুলিশ সদস্য আমাকে মারধর করেন। পুখরিয়া এলাকায় আমাকে ডিবি পুলিশের গাড়িতে তুলে দেওয়া হয়।

তখন আমার চোখ বেঁধে ফেলা হয়। নানাভাবে ভয় দেখানো হয়। বলা হয়, তোকে ক্রসফায়ারে দেব। সকালের সূর্য তুই দেখতে পারবি না। আজই তোর শেষ রাত।’

তিনি আরও বলেন, ‘পরে আমাকে চেয়ারে পিছমোড়া করে বাঁধা হয়। এরপর আমার দুই পায়ে বেতের লাঠি দিয়ে অন্তত ৩০ মিনিট পেটানো হয়।

১০ মিনিট বিরতি দিয়ে আবার পেটানো হয়। পরে সেখানে আসেন জেলা গোয়েন্দা পুলিশের তৎকালীন ওসি আহাদুজ্জামান।’

আরাফাত বলেন, ‘আমাকে নির্যাতন করে ভিডিও করেছে যেসব কমর্কতারা তাদের আমি বিচার চাই, যাতে আর কোন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের এভাবে নির্যাতন করা না হয়।’

আহাদুজ্জামান ২০১৯ সালের ১৭ নভেম্বর থেকে ২০২০ সালের ১২ মার্চ পর্যন্ত জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ওসি ছিলেন। পরে তাকে সদরপুর উপজেলার চন্দ্রপাড়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ হিসেবে বদলি করা হয়। বর্তমানে তিনি সেখানেই আছেন।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে সাংবাদিকদের আহাদুজ্জামান বলেন, ‘আমি আরাফাতকে চোখ বাঁধা অবস্থায় পেয়েছি। তাকে মারধর করা হয়েছে কিনা জানি না।

এর আগে আরাফাত আমাকে বলেছিলেন, আমি নাকি এমপি নিক্সন চৌধুরীর লোক। এর উত্তরে আমি বলেছি, নিক্সন চৌধুরীর লোক হলে আমি থানাতেই থাকতে পারতাম।’ এ বিষয়ে তিনি আর কিছু জানেন না বলে দাবি করেন।

ভাঙ্গা, সদরপুর ও চরভদ্রাসন উপজেলা নিয়ে গঠিত ফরিদপুর-৪ আসনের বর্তমান সাংসদ মুজিবর রহমান চৌধুরী ওরফে নিক্সন। গত ২০১৪ ও ২০১৮ তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজী জাফর উল্যাকে পরাজিত করেন।