ফাঁদে ফেলে নগ্ন ছবি, ৫ প্রতারক গ্রেপ্তার

প্রকাশিত: ৪:১০ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৩, ২০১৮ | আপডেট: ৪:১০:অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৩, ২০১৮

গোপালগঞ্জে ব্যবসায়ীদের প্রতারণার ফাঁদে ফেলে নগ্ন ছবি তুলে মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় প্রতারক চক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গতকাল শনিবার গোপালগঞ্জ সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। এর পরই জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- টুঙ্গিপাড়া উপজেলার নিলফা গ্রামের ফরিদ মোল্লার ছেলে কামরুল ইসলাম মোল্লা (৫০), একই গ্রামের জামাল মোল্লার ছেলে সোহাগ মোল্লা (২৮), গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার মানকদহ গ্রামের সিরাজুল হক সিকদারের ছেলে রইচ শিকদার (৩৪), গোপালগঞ্জ শহরের নবীনবাগ এলাকার লুৎফর রহমান সিকদারের ছেলে মো. সাইফুল ইসলাম সিকদার (৫০) ও গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার মেরী গোপীনাথপুর গ্রামের আব্দুল আজিজের মেয়ে সায়েরা আজিজ তিথি (১৮)।

গোপালগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোহাম্মদ ছানোয়ার হোসেন জানান, প্রতারক চক্র মালামাল ক্রয় ও ট্রাক ভাড়া নেওয়ার কথা বলে জেলার বিভিন্ন ব্যবসায়ীদের টুঙ্গিপাড়ার কামরুল ইসলামের বাড়িতে ডেকে নিতেন। এখানে এনেই প্রতারকদের পাতা ফাঁদে আটকে যেতেন ব্যবসায়ীরা।

তিনি বলেন, চক্রের অন্যান্য সদস্যের সহযোগিতায় সায়েরা আজিজ তিথি নামে ওই নারী সদস্য নগ্ন হয়ে ব্যবসায়ীর সঙ্গে ছবি তুলতেন ও ভিডিও ধারণ করতেন। পরে তারা ফাঁকা নন জুডিশিয়াল স্টাম্পে সই নিয়ে মোটা অঙ্কের অর্থ আদায় করে আসছিলেন।

প্রতারণার শিকার গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার বোয়ালীয়া বাজারের সিমেন্ট ব্যবসায়ী রিপন ফকির ও চন্দ্রদিঘলীয়া ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডে’র মেম্বার গাজী আনিচের অভিযোগ পেয়ে মোবাইল ফোন ট্রাকিং করে প্রতারক চক্রের ওই পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়।

প্রতারণার শিকার রিপন ও আনিচ জানান, তাদের ব্যবসায়িক কাজের কথা বলে কামরুল ইসলাম মোল্লার বাড়িতে ডেকে নেয় প্রতারক চক্র। তার পর ওই চক্রের সদস্যরা জোর করে নগ্ন নারীর সঙ্গে তাদের ছবি তোলেন ও ভিডিও ধারণ করে। এসব কাজ শেষে মারপিট করে তাদের কাছ থেকে নন জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর আদায় করে নেয়। পরে তাদের কাছ থেকে ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা আদায় করে এ চক্র।

পুলিশ সুপার ছানোয়ার হোসেন জানান, গ্রেপ্তারকৃতরা প্রতারণার মাধ্যমে ১৫ থেকে ১৬ জন ব্যবসায়ীর কাছে এভাবে থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার কথা স্বীকার করেছে। এ চক্রের অন্যান্য সদস্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।