ফালুর অবৈধ সম্পত্তি দুই ভাতিজার নামে!

প্রকাশিত: ৭:২২ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১১, ২০১৮ | আপডেট: ৭:২৩:অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১১, ২০১৮

বিএনপি নেতা মোসাদ্দেক আলী ফালু বিদেশ বসে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কতিপয় কর্মকর্তার সহযোগিতায় তার সব অবৈধ সম্পদ পাওয়ার অব এটর্নির মাধ্যমে নিজের পরিবারকে হস্তান্তরের বিষয়ে অনুসন্ধান করবে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

মঙ্গলবার বিকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রণব কুমার ভট্টাচার্য্য। এছাড়া এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে এবিষয়ে ব্যাখ্যা চেয়েছে দুদক।

ফালুর অভিযোগের তদারকি কর্মকর্তা ও দুদকের পরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেন বলেন, ‘বর্তমানে দুবাইয়ে অবস্থান করে পাওয়ার অব এটার্নির মাধ্যমে মোসাদ্দেক আলী ফালু তার সম্পত্তি দুই ভাতিজার নামে হস্তান্তরের অংশ হিসেবে দুবাই অ্যাম্বাসির মাধ্যমে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের মাধ্যমে প্রক্রিয়া শুরু করেছে।’

তিনি বলেন, ‘প্রথমত যে প্রক্রিয়ায় মাধ্যমে সম্পত্তি হস্তান্তরের চেষ্টা করছেন, তা যথাযথ প্রক্রিয়া নয়। দ্বিতীয় দুদকে তার বিরুদ্ধে অন্য একটি অভিযোগ চলা অবস্থায় এভাবে সম্পত্তি হস্তান্তর করতে পারে না।’

তিনি বলেন, ‘দুবাই থেকে ফালু পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পাওয়ার অব এটার্নির বিষয়টি ঢাকা ডিসি বরাবর পাঠিয়েছে। বিষয়টি আমাদের নজরে আসায় তদন্ত শুরুর অনুমোদন দেয়া হয় একটু আগেই।’

যে দুইজনের নামে সম্পত্তি হস্তান্তর করা হয়েছে তারা হলেন- মোসাদ্দেক আলী ফালুর ভাতিজা রোজা প্রোপার্টিজ লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নাঈম উদ্দিন আহম্মেদ ও অপর ভাতিজা একই প্রতিষ্ঠানের পরিচালক আশফাক উদ্দিন।

এ দুজনের নামে কত টাকার সম্পত্তি হস্তান্তর করা হচ্ছে জানতে চাইলে দুদকের এই কর্মকর্তা বলেন, ‘নির্দিষ্ট করে বলা কঠিন। প্রায় দুইশ’ থেকে তিনশ’ কোটি টাকা হবে।’

এদিকে বৃহস্পতিবার ফালুর দুই ভাতিজা রোজা প্রোপার্টিজ লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নাঈম উদ্দিন আহম্মেদ ও পরিচালক আশফাক উদ্দিনকে অন্য একটি অভিযোগে তলব করা হয়েছে। অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে ৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার দুবাইয়ে পাচারের অভিযোগে তাদের তলব করা হয়েছে।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, মোসাদ্দেক আলী ফালুসহ নয়জনের বিরুদ্ধে ৮ মিলিয়ন ডলার সমপরিণেরর প্রায় ৬৫ কোটি টাকা (প্রতি ডলার ৮২ টাকা হিসাবে) দুবাইয়ে পাচার করে অফশোর কোম্পানি খুলে বিনিয়োগ, দুবাইয়ে আরও শত কোটি টাকা জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে। দুদকের অনুসন্ধানেও এর প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, এসব ব্যক্তি দেশ ছেড়ে অন্য দেশে চলে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। তাই তারা যাতে দেশ ছেড়ে অন্য দেশে চলে যেতে না পারেন, সে বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়ার অনুরোধ করা হয় দুদকের পক্ষ থেকে।