ফিডার থেকে শিশুর শরীরে ঢুকছে মাইক্রোপ্লাস্টিক : গবেষণা

প্রকাশিত: ২:৩৭ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৩, ২০২০ | আপডেট: ২:৩৭:অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৩, ২০২০

যেসব শিশু ফিডারে দুধ খায় তাদের পেটে প্রতিদিন ঢুকে পড়ছে ১০ লাখের বেশি খুদে প্লাস্টিক কণা তথা মাইক্রোপ্লাস্টিক। ধনী দেশগুলোর শিশুদের পেটে তা ঢুকছে আরো বেশি। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় এমন তথ্যই উঠে এসেছে। তবে এতে শিশুস্বাস্থ্য কতটা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তা বিশেষজ্ঞরা এখনো নিশ্চিত নন।

আমাদের খাদ্যদ্রব্যে কীভাবে প্লাস্টিক মিশে যাচ্ছে, তা নিয়ে গবেষণা চালায় আয়ারল্যান্ডের একদল গবেষক। তাদের প্রকাশিত ফলাফলে দেখা গেছে, শিশুদের পাশাপাশি আমরা সবাই একটু একটু করে নিজের অজান্তে মাইক্রোপ্লাস্টিক খাচ্ছি।

সাধারণত বড় প্লাস্টিকের টুকরো থেকে এগুলো তৈরি হয়। যে সব প্লাস্টিকের কৌটায় আমরা খাবার রাখি সেগুলো পলিপ্রোপেলিন দিয়ে তৈরি। পাশাপাশি বাচ্চারা ব্যবহার করে, এমন দশ রকমের বোতল পরীক্ষা করা হয়েছে। এগুলোর প্রভাব আমাদের শরীরের জন্য ভয়ঙ্কর হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন গবেষকরা।

অবশ্য কৌটা বা বোতলগুলো বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার স্বাস্থ্যবিধি মেনেই তৈরি হচ্ছে। তারপরও প্রতি লিটারে একটি বোতল থেকে ১ দশমিক ৩ থেকে ১৬ দশমিক ২ লক্ষ মাইক্রোপ্লাস্টিক নির্গত হচ্ছে। গবেষণার ফলাফলে এমন তথ্যই দেখা গেছে।

বিভিন্ন বোতল থেকে প্রাপ্ত তথ্য নিয়ে গবেষকদের তৈরি মডেলে দেখানো হয় যে, কত জন শিশু বোতলে দুধ বা অন্য তরল খায় এবং কত জন শিশু স্তন্যপান করে। সমীক্ষা বলছে, জীবনের প্রথম ১২টি মাস একটি শিশু দৈনিক ১ দশমিক ৬ মিলিয়ন মাইক্রোপ্লাস্টিক নিজের ভিতরে গ্রহণ করছে।

গবেষণায় আরো বলা হয়, বোতল জীবাণুমুক্ত করার জন্য সেটি যেন গরম পানিতে ফোটানো না হয়। কারণ এতে করে আরো বেশি পরিমাণ মাইক্রোপ্লাস্টিক নির্গত হয়। এক্ষেত্রে ঠাণ্ডা পানিতে বোতল ধুতে হবে এবং দুধ অন্য কোনো পাত্রে (প্লাস্টিক ছাড়া) তৈরি করতে হবে। এতে সমস্যা কিছুটা হলেও কম হবে।