ফিরোজায় নেয়া হচ্ছে খালেদা জিয়াকে

প্রকাশিত: ৫:০৫ অপরাহ্ণ, মার্চ ২৫, ২০২০ | আপডেট: ৫:০৫:অপরাহ্ণ, মার্চ ২৫, ২০২০
ফাইল ছবি

দুই বছরেরও বেশি সময়, সুনির্দিষ্টভাবে বললে দুই বছর এক মাস ১৭ দিন পর নিজ বাসভবন ‘ফিরোজা’য় পা রাখছেন খালেদা জিয়া। দীর্ঘ সাত বছর যে ভবনটি থেকেই বিরোধী দলের রাজনীতির কলকাঠি নেড়েছেন, কারাবন্দি থাকায় দুই বছরেরও বেশি সময় সেই বাড়ি থেকেই দূরে থাকতে হয়েছিল তাকে। সরকারের নির্বাহী আদেশে ছয় মাসের মুক্তি পেয়ে সেই ‘ফিরোজা’তেই প্রত্যাবর্তন করছেন তিনি।

বুধবার (২৫ মার্চ) বিকেল সোয়া ৪টার দিকে গুলশান ২-এর ৭৯ নম্বর রোডের এনইডি-১ নম্বর বাড়ি ‘ফিরোজা’র পথে রওনা দেন খালেদা জিয়া।

এসময় তার সঙ্গে ছিলেন ছোট ভাই শামীম ইস্কান্দার, যার জিম্মাতেই মুক্তি দেওয়া হয়েছে তাকে। তার প্রাইভেট কারে চড়েই নিজ বাসভবনে যাচ্ছেন তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতাল থেকে। গত বছরের এপ্রিল থেকে কারাবন্দি খালেদা এই হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন ছিলেন।

শামীম ইস্কান্দার ছাড়াও খালেদা জিয়ার সঙ্গে ছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এছাড়া ডা. হারুনুর রশিদের নেতৃত্বে খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত মেডিকেল টিমের সদস্যরাও ছিলেন। সবাইকে নিয়ে যখন খালেদা জিয়া ‘ফিরোজা’য় পা রাখেন, সেখানে এক আবেগঘন পরিস্থিতি তৈরি হয়।

এর আগে, ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি সকালে শেষবারের মতো ফিরোজায় ছিলেন খালেদা জিয়া। ওই দিন রাজধানীর বকশীবাজারের আলিয়া মাদরাসায় স্থাপিত বিশেষ আদালতে হাজির হয়েছিলেন তিনি। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় সেদিন তার পাঁচ বছরের কারাদণ্ডের আদেশ দেন বিচারক। সাজা ঘোষণার পর আদালত থেকেই পুরান ঢাকার পুরাতন কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয় খালেদা জিয়াকে। শুরু হয় সাজার মেয়াদ। ওই দিন থেকেই শূন্য ‘ফিরোজা’, খালেদা জিয়ার গুলশানের বাসভবন।

উল্লেখ্য যেো এর আগে তার সাজা স্থগিতের আবেদনের ফাইলে স্বাক্ষর করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার দণ্ডের কার্যকারিতা স্থগিত করে মুক্তির আদেশের নথি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও কারা কর্তৃপক্ষের হাত ঘুরে বুধবার বিকালে ৩টার পর বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে পৌঁছায়।

মুক্তির শর্ত হিসেবে বাসায় অবস্থান করতে হবে খালেদা জিয়াকে। চিকিৎসা নিতে হবে দেশেই। সাজা মওকুফকালীন ছয় মাস তিনি বিদেশে যেতে পারবেন না।

মঙ্গলবার বিকালে হঠাৎ করেই ডাকা সংবাদ সম্মেলনে খালেদা জিয়াকে মুক্তির বিষয়ে সিদ্ধান্তের কথা জানান আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।

তিনি বলেন, মানবিক দিক বিবেচনায় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে দুই শর্তে তাকে মুক্তি দেয়ার এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। খালেদা জিয়া বাসায় থেকে চিকিৎসা নেবেন এবং বিদেশ যেতে পারবেন না- এমন শর্তে তাকে মুক্তির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে দণ্ডাদেশ ছয় মাসের জন্য স্থগিত করে সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে মুক্তি দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

সরকারি এ সিদ্ধান্ত জানার পর থেকে বিএনপির লাখ লাখ নেতাকর্মী ও খালেদা জিয়ার পরিবার তার মুক্তির অপেক্ষায় ছিল। অবশেষে সেই প্রতীক্ষার অবসান ঘটল।

বুধবার সকাল থেকেই শোনা যাচ্ছিল তিনি মুক্তি পাবেন। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার দণ্ডের কার্যকারিতা স্থগিত করে শর্তসাপেক্ষে তাকে মুক্তি দেয়ার আদেশের নথি বুধবার সকালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পৌঁছায়।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা শরীফ মাহমুদ অপু বুধবার দুপুরে গণমাধ্যমকে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের পর আজ দুপুর ১২টার দিকে ওই নথি আমাদের কাছে এসেছে। এখন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একটি প্রজ্ঞাপন তৈরি করে কারা কর্তৃপক্ষকে পাঠাবে। এর পরই ওই ফাইল কারা কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছায়। এ পরিপ্রেক্ষিতে মুক্তি পান খালেদা জিয়া।

উল্লেখ্য, জিয়া এতিমখানা ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ১৭ বছরের কারাদণ্ড নিয়ে ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে কারাগারে বন্দি আছেন খালেদা জিয়া।

প্রথমে পুরান ঢাকার পরিত্যক্ত কেন্দ্রীয় কারাগারে রাখা হলেও গত বছর ১ এপ্রিল থেকে তাকে বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে রেখে চিকিৎসা দেয়া হয়।

খালেদার জামিনের জন্য আইনজীবীরা গত দুই বছরে বহুবার আদালতে গেছেন, কিন্তু জামিন হয়নি। এই প্রেক্ষাপটে মার্চের শুরুতে খালেদা জিয়ার সাময়িক মুক্তি চেয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করার খবর আসে।