ফেব্রুয়ারিতেই অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার ‘মিড-স্টেজ ট্রায়াল’

টিবিটি টিবিটি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ৪:৫৭ পূর্বাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২১ | আপডেট: ৪:৫৭:পূর্বাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২১

এক বছরের বেশি সময় ধরে বিশ্বে তাণ্ডব চালাচ্ছে করোনাভাইরাস। প্রাণঘাতী এই ভাইরাস থেকে বাঁচার একমাত্র উপায় এখন ভ্যাকসিন। সে কারণেই বিভিন্ন দেশ কম সময়ের মধ্যেই দ্রুত ভ্যাকসিন কার্যক্রম শুরু করেছে। তবে অনেক দেশেই এখনও ভ্যাকসিন পৌঁছায়নি।

এখন পর্যন্ত বিভিন্ন দেশে বেশ কয়েকটি ভ্যাকসিনের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে নিরাপদ অবস্থানে রয়েছে অক্সফোর্ড এবং অ্যাস্ট্রাজেনেকার তৈরি ভ্যাকসিন। বয়স্ক এবং প্রাপ্তবয়স্কদের দেহে এই ভ্যাকসিনের কার্যকারিতার প্রমাণ ইতোমধ্যেই পাওয়া গেছে।

এদিকে শিশুদের দেহে এই ভ্যাকসিন কতটা কার্যকর তা জানতে প্রথমবারের মতো ট্রায়াল শুরু করেছে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়। শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের দেহে এই ভ্যাকসিনের পরীক্ষামূলক প্রয়োগের কথা জানানো হয়েছে।

এর নাম দেয়া হয়েছে ‘মিড-স্টেজ ট্রায়াল।’ এক্ষেত্রে ৬ থেকে ১৭ বছরের শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের তেহে এই ভ্যাকসিন কতটা কাজ করছে তা জানা সম্ভব হবে। পুরো প্রক্রিয়া শুরু হবে এ মাসেই।

ফেব্রুয়ারিতে শুরু অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার এই ‘মিড-স্টেজ ট্রায়াল’। প্রাথমিকভাবে এই পরীক্ষা চালাতে ৩০০ জনের নাম নথিভুক্ত করা হবে।

ইতিমধ্যেই পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ অক্সফোর্ডের টিকা প্রয়োগ করতে শুরু করেছে। এই টিকার নিরাপত্তা, সংরক্ষণের সুবিধা পৃথিবীজুড়ে প্রশংসিত হয়েছে। তবে শিশুর শরীরে এই টিকা কতটা কার্যকর, তার এখনও স্পষ্ট পরিসংখ্যান মেলেনি। সে কারণেই শিশু-কিশোরদের ক্ষেত্রে টিকার কার্যকারিতা পরীক্ষা করতে চাচ্ছে সংস্থা।

অক্সফোর্ডের করোনা টিকা গবেষকদের প্রধান অ্যান্ড্রু পোলার্ড বলেছেন, ‘হয়তো বাচ্চাদের করোনা আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা তেমন নেই, তবু তাদের শরীরে টিকার কার্যকারিতা পরীক্ষা করা প্রয়োজন। সামান্য হলেও শিশুদের এক অংশের এই টিকার কারণে লাভও হতে পারে।’

শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের শরীরে অক্সফোর্ডের টিকা প্রথমবার প্রয়োগ করা ফেব্রুয়ারি ২০২১ সালে ভাবলেও গত অক্টোবর ২০২০ সাল থেকেই এই পরীক্ষা শুরু করে দিয়েছে ফাইজার। মডার্নাও গতবছর ডিসেম্বর মাসে শুরু করেছে একই পরীক্ষামূলক প্রয়োগ।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সারা পৃথিবীতেই বিভিন্ন দেশে ধীরে ধীরে স্কুল খুলে যাচ্ছে। তাই সংক্রমণ আটকাতে এখন শিশু ও কিশোর-কিশোরীদেরও টিকা দেওয়ার প্রয়োজন হয়ে পড়ছে। কিন্তু তাদের শরীরে টিকার কার্যকারিতা কতটা, সেটা পরীক্ষা করে দেখা দরকার। অক্সফোর্ডের গবেষকরাও সেই কথাই মনে করছেন। তাই এই পরীক্ষামূলক প্রয়োগের সাফল্য নতুন দিগন্ত উন্মোচিত করতে পারে বলেও বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।