ফের অচল বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর, আমদানি-রপ্তানি বন্ধ

বন্দর কর্তৃপক্ষ-ব্যবসায়ী দ্বন্দ্ব ও শ্রমিক অসন্তোষ

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ২:৫৮ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৭, ২০১৮ | আপডেট: ২:৫৮:অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৭, ২০১৮

আবারও অচল হয়ে পড়েছে বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম। বন্দর কর্তৃপক্ষের সাথে ব্যবসায়ীদের দ্বন্দ্ব আর শ্রমিক অসন্তোষের জেরে আপতত বন্ধ রয়েছে সব কার্যক্রম।

১৯৯৭ সালে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার চালু হয়। শুরুতে নেপালের সাথে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম চললেও পরে ভারত ও ভুটানের সাথেও বাণিজ্য সম্প্রসারণ হয়। বর্তমান এই বন্দর দিয়ে প্রতিদিন ৩শ’ থেকে সাড়ে ৩শ’ পণ্যবাহী ট্রাক যাতায়াত করে। প্রতিদিন এই স্থলবন্দর দিয়ে সরকারের রাজস্ব আয় হয় প্রায় অর্ধকোটি টাকা। কিন্তু ব্যাপক সম্ভাবনাময় এই স্থলবন্দরে হঠাৎ করেই লেবার হ্যান্ডেলিংয়ের জন্য এটিআই লিমিটেড নামে একটি প্রতিষ্ঠানকে ইজারাদার নিয়োগ করার পর থেকেই বন্দর ক্রমশ অস্থির হয়ে উঠে।

গত কয়েকমাস থেকেই এই অস্থিরতা চলছে। প্রশাসনের নানা উদ্যোগেও কোন কাজে আসেনি। তবে উদ্ভুত এই পরিস্থিতির জন্য বন্দর সংশ্লিষ্ট সবাই পরস্পর বিরোধি বক্তব্য দিয়েছেন। বন্দর কর্তৃপক্ষ বলছে ব্যবসায়ীদের কাছে বন্দর চার্জ বাবদ প্রায় দুই কোটি বকেয়া রয়েছে। এই কারণে ভূটান থেকে আমদানিকৃত পাথর ও পাথরের ট্রাক বন্দরে আটকে দেয়া হয়। বাংলাবান্ধা স্থল বন্দর লিমিটেডের সহকারি ম্যানেজার তারেকুজ্জামান তারেক জানান, বার বার তাগাদা দেয়া সত্বেও দীর্ঘদিন থেকে বন্দরের বকেয়া চার্জ পরিশোধ করছেন না ব্যবসায়ীরা।

এই বিরোধের কারণে আটকে পড়া গাড়ি চালকরা অমানবিক কষ্টে দিন পার করছেন। এক কাপড়ে কখনো খেয়ে না খেয়ে বন্দরের মধ্যে অবস্থান করতে বাধ্য হচ্ছেন তারা। এমনকি কারো পরিবারের সদস্য মারা গেছেন আবার কারো বাড়িতে অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটলেও তাদেরকে বন্দরের পণ্য খালাসের সুযোগ দেয়া হয়নি। আটকে পড়ার ১৩ দিন পর গত বুধবার বন্দর কর্তৃপক্ষের সাথে ভুটানের গাড়ি চালকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এসময় বন্দর কর্তৃপক্ষের সহকারি ম্যানেজার তারেকুজ্জামান তারেক আনসার বাহিনীর এক সদস্যের কাছ থেকে বন্দুক ছিনিয়ে ভুটানী গাড়িচালকদের গুলি করার চেষ্টা করলে তাদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনাটি মোবাইলে ভাইরাল হয়ে যায়। বাংলাদেশি নিযুক্ত ভুটানের দূতাবাস পর্যন্ত গড়ায়। ক্ষোভের মাথায় শতাধিক ভুটানি চালকরা বন্দরের প্রধান ফটকের তালা ভেঙে বন্দরের অভ্যন্তরে পণ্য খালাস করে। গত বৃহস্পতিবার সরকারি চাপে ভুটানের চালকদেরকে কারপাশ দিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়।

এদিকে ব্যবসায়ী ও শ্রমিকরা অভিযোগ করেছেন লোড আনলোডিংয়ের জন্য কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত ১০৪ টাকা (ভ্যাট বাদে) পরিশোধ করেও কাঙ্খিত সেবা পাচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ লোড আনলোড দুটোরই বিল নিলেও কর্তৃপক্ষের চুক্তিবদ্ধ ইজারাদার ব্যবসায়ীদের পণ্য লোড করে দিচ্ছেন না। এতে নিজেদের গাটের টাকা খরচ করে ব্যবসায়ীদের প্রতি ১ হাজার টন পাথরে অতিরিক্ত ৯০ হাজার টাকা গুণতে হয়। আমদানিকারক তফিজুল ইসলাম জানান, আমরা সরকারি বিধি অনুযায়ী সমস্ত ফি পরিশোধ করলেও নির্দিষ্ট সেবা পাচ্ছিনা।

ইজারাদার প্রতিষ্ঠানের আনলোড বাবদ টন প্রতি শ্রমিকদের ১৯ টাকা করে দর নির্ধারণ করলে শ্রমিক অন্তোষ চরমে উঠে। এতে করে ইজারাদার প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ও বন্দর কর্মকর্তাদের সাথে শ্রমিকদের হাতাহাতির ঘটনাও ঘটেছে। এ ঘটনায় আদালতে শ্রমিকদের আসামি করে মামলাও করেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। এদিকে শ্রমিকদের দাবি বিনা শর্তে মামলা তুলে নিতে হবে।

এ ঘটনায় গত বৃহস্পতিবার পঞ্চগড় জেলা প্রশাসক জরুরি সভা ডাকলেও কোন সমাধান হয়নি। পরে জেলা প্রশাসক স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক প্রিয়সিন্ধু তালুকদারকে প্রধান করে ৩ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে দেন। বর্তমানে বন্দর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। যে কোন অপ্রিতিকর ঘটনার মোকাবেলায় বাড়তি পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে বন্দর এলাকায়।