ফেসবুকে ট্রল তাতে আপত্তি নেই, আমি আমার কাজ করে যাবঃএমপি জগলুল

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৪:৫০ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৬, ২০১৮ | আপডেট: ৪:৫০:অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৬, ২০১৮

রাজনৈতিক অঙ্গণে তিনি যতটা আলোচিত তার চেয়ে বেশি আলোচিত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। বিভিন্ন সময় তার বিভিন্ন ধরনের ভিডিও এবং ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচিত হয়েছে। তিনি হলেন সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জগলুল হয়দার।

ভিডিওতে দেখা যায়, কখনো দরিদ্র কোনো লোককে নিজের হাতে খাবার খাইয়ে দিচ্ছেন, কখনো বা নিজেই বসে পড়ছেন গরিব কোনো পরিবারের ঘরে খাবার খেতে, কখনো ভ্যান চালককে জামা কিনে পরিয়ে দিচ্ছেন, কখনো লুঙ্গি পরে জনগণের সঙ্গে মাটি কাটছেন।

গত সোমবার (১৩ আগস্ট) রাতে জগলুল হায়দারের এমনই একটি ভিডিও পোস্ট করা হয় ‘জগলুল হয়দার’ নামে একটি ফেসবুক পেজে। এতে দেখা যায়, ক্ষমতাসীন দলের এই সংসদ সদস্য লুঙ্গি ও স্যান্ডো গেঞ্জি পরিহিত অবস্থায় বাজারের ব্যাগ কাঁধে এবং একটি মুরগি নিয়ে একটি ঝুপড়ি ঘরের পরিবারকে দিচ্ছেন।

ভিডিওর ক্যাপশনে লেখা হয়েছে, মঙ্গলবার (সোমবার দিবাগত) রাত ১২টায় একটি ফোন কলে এমপি জগলুল জানতে পারেন শ্যামনগর উপজেলার নকিপুর গ্রামের আমির আলী গাজীর পরিবারের সদস্যরা খাবারের অভাবে অর্ধাহারে এবং অনাহারে খুব কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন।

এমন খবর পেয়ে তিনি বাসা থেকে চাল, ডাল, তেল এবং পার্শ্ববর্তী ফার্ম থেকে মুরগি নিয়ে নিজে মোটরসাইকেল চালিয়ে সেখানে পৌঁছান এবং ঘুম থেকে ডেকে তুলে পরিবারটির সদস্যদের কাছে খাবার এবং নগদ অর্থ তুলে দেন।

ভিডিওটি খুব দ্রুতই ভাইরাল হয়ে পড়ে। এই ঘটনার পর অনেকেই প্রশংসা করেছেন জগলুল হায়দারের। আবার কেউ কেউ সমালোচনাও করেছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকেই এটাকে লোক দেখানো বলে দাবি করছেন।

এবিষয়ে জানতে চাইলে সময় নিউজকে জগলুল হায়দার বলেন, ‘দেখেন, যেখানেই মানবতা বিপন্ন সেখানেই আমি হাজির।’

তার কর্মকান্ড নিয়ে ফেসবুকে ট্রলের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের নবী মোহাম্মদ (স.) শ্রেষ্ঠ মানব। তিনি যখন আরবে ইসলাম প্রচার শুরু করেছিলেন তখন কিছু লোক এটাকে নিয়ে নানান কথা বলেছিলেন। কিন্তু তিনি থেমে থাকেননি। এরপর খলিফা ওমর (র), হারুনুর রশিদ যখন কাজ করেছেন তখনও অনেক কথা উঠেছে।

বঙ্গবন্ধু যখন দেশ স্বাধীন করার কথা বললেন, ছয় দফা দিলেন তখন আমাদের দেশের মুসলিম লিগাররা অনেক কথা বলেছেন কিন্তু বঙ্গবন্ধু কী থেমে গিয়েছিলেন? মানুষ সমালোচনা করবে এতে আমার কোনো আপত্তি নেই। আমি বরং আরও সংশোধিত হয়ে আরও ভালো কাজ করবো।’

তিনি বলেন, ‘এমপি বা নেতা হওয়ার জন্য না। আমি মারা যাওয়ার পরেও যেন মানুষ বলে যে, একজন মানুষ ছিল যে জনগণের খেদমত করে গেছে।’

বিভিন্ন সময় প্রকাশ পাওয়া তার ভিডিওগুলো তিনি স্বেচ্ছায় ধারণ করেছেন এবং নিজের লোক দিয়ে ধারণ করা ভিডিওগুলো নিজেই ছড়িয়েছেন বলেও অনেকে অভিযোগ করেন। এবিষয়ে এ সাংসদ দাবি করেন, প্রথম প্রথম নিজের লোকে হয়তো করতো, তবে এখন আর নিজের লোকে এটা করে না।

তিনি বলেন, এখন তো আমি পরিচিত মুখ হয়ে গেছি। এখন কোথাও গেলে, যদি লোকে শোনে যে জগলুল এমপি এসেছে তখন সাথে সাথে মোবাইলে ভিডিও করা শুরু করে। প্রথম প্রথম হয়তো নিজের লোকে করতো তবে এখন আর নিজের লোক লাগে না।’

তিনি বলেন, ‘আমি যদি কোনো খারাপ কাজ করতাম তাহলেও তো মানুষ সেটা প্রচার করতো।’

জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে নতুন করে ভিডিও ছড়িয়ে আলোচনায় আসার চেষ্টা করছেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি গত তিন চার বছর ধরে এমন কাজ করছি। রমজান মাসে গরিব মানুষের বাড়িতে গিয়ে ইফতার করেছি, কোনো বড়লোকের বাড়িতে যাইনি।’

তিনি বলেন, ‘আমি দুই বার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছি। ১৩ বছর সেই দায়িত্ব পালন করেছি। আমি জানি, মানুষকে কীভাবে ভালোবাসতে হয়, কীভাবে তাদের পাশে দাঁড়াতে হয়। আমি রুট লেভেল থেকে উঠে এসেছি।

আমি কোনো শিল্পপতি থেকে এমপি হইনি। আমি মাঠে ময়দানে কাজ করে আমি এখানে এসেছি। এটা আমার অভ্যাসে পরিণত হয়ে গেছে। সুতরাং কে কী বলছে, সেটা আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ না, দেশের জন্য আমি কতটুকু করতে পারছি সেটাই আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ।’

আগামী সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন পাওয়ার বিষয়ে কতটা আশাবাদী, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘মনোনয়ন পাওয়া আমার লক্ষ্য না। শেখ হাসিনা আমাদের একমাত্র চূড়ান্ত প্রার্থী আর নৌকা আমাদের প্রতীক। আমি প্রতীকের পেছনে দৌড়াবো, মনোনয়নের পেছনে নয়। আমাকে জননেত্রী শেখ হাসিনা যোগ্য মনে করলে দেবেন নাহলে যাকে দেবেন তার পেছনেই কাজ করবো।’

নিজে এমপি হওয়া নয়, শেখ হাসিনাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখাটাই তার মূল চাওয়া বলে জানান জগলুল হায়দার।