ফেস অ্যাপের কল্যাণে ১৮ বছর আগে হারানো ছেলেকে খুঁজে পেল পরিবার

টিবিটি টিবিটি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: 10:04 PM, July 22, 2019 | আপডেট: 10:04:PM, July 22, 2019

সম্প্রতি নোটিজেনদের জীবনে যেন বার্ধক্য নেমে এসেছে। বুড়ো হওয়ার হিরিকে সামিল হয়েছেন সকল বয়সের মানুষ। বয়সকালের ছবি ধরা অ্যাপের মাধ্যমে ধরা পড়ছে খুব সহজেই। আপনার বয়স যা-ই হোক না কেন, ভাইরাল ফটো এডিটিং অ্যাপ ফেস অ্যাপের সাহায্যে আপনি খুব সহজেই ফুটে উঠবে আপনার বয়সকালের ছবি। আর নিজের বার্ধক্যদশা দেখার জন্যই রাতারাতি ভাইরাল হয়ে গিয়েছে অনলাইন ফটো এডিটিং অ্যাপ ফেস অ্যাপ।

কিন্তু রাতারাতি জনপ্রিয় হলেও এই অ্যাপকে ঘিরে দেখা গিয়েছে নানা সমস্যা। বিশেষ করে তথ্য চুরির হুমকিতে আছেন ফেস অ্যাপ ব্যবহারকারীরা এমন আশঙ্কা একেবারেই উড়িয়ে দেয়া যাচ্ছে না।

তবে এমন মজার একটি অ্যাপ যে একটা পরিবারে হাসি ফোটাতে পারবে, তা কে ভেবেছিল! প্রযুক্তির কল্যাণে ১৮ বছর আগে হারিয়ে যাওয়া ছেলেকে খুঁজে পেল পরিবার।

২০১৭ সালে তৈরি হয়েছিল এই ফেস অ্যাপ। তবে এদেশে সম্প্রতি এটি বেশি জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। মজার এই অ্যাপে নিজেকে নানা লুকে দেখার সুযোগ পাচ্ছেন ইউজাররা। সেটাই এর ইউএসপি। এই অ্যাপে ছবি এডিট করে অনেকেই তা সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করছেন। ঠিক একইরকম প্রযুক্তির সৌজন্যে ১৮ বছর পর নিজের পরিবারের সঙ্গে মিলিত হতে পারলেন ২১ বছরের চিনা যুবক শাই ইউ ওয়েফেং।

২০০১ সালে শিশু অবস্থায় অপহরণ করা হয়েছিল তাঁকে। তারপর থেকে হাজার চেষ্টা করেও তাঁর সন্ধান পাননি পরিবারের লোকজন। যদিও পুলিশ হাল ছাড়েনি।

সম্প্রতি ওই যুবকের ছবিই মর্ফ করে পোস্ট করে পুলিশ। সেটি দেখেই হারানো ছেলেকে চিনতে পারেন আত্মীয়-পরিজনরা।

পুলিশ জানায়, অভিভাবকদের সঙ্গে ডিএনএ মিলে গিয়েছে শাইয়ের। ১৮ বছর পর পরিবারের হাত ধরে তাঁর বাড়ি ফেরার কাহিনি এখন নেটদুনিয়ায় ভাইরাল।

ফেস অ্যাপের মতোই এআই প্রযুক্তি তৈরি করেছে চিন। একটি শিশুকে ১৮ বছর পর কেমন দেখতে হতে পারে, পুলিশ তা দেখারই চেষ্টা করেছিল এই টেকনলজির মাধ্যমে। তখনই হদিশ মেলে শাইয়ের। যদিও গোটা প্রক্রিয়া নেহাত সহজ ছিল না। কারণ বহু মানুষের ভিড় থেকে স্ক্যান করে তাঁর চেহারা খুঁজে বের করা হয়।

পুলিশ জানায়, শাই প্রথমে বিশ্বাসই করতে চাননি যে ছোটবেলায় তাঁকে অপহরণ করা হয়েছিল। সেই সময় প্রযুক্তি এত উন্নত ছিল না। কিন্তু পুলিশ হার মানেনি। অবশেষে মিলেছে সাফল্য। শাইকে ফিরে পাওয়া পরিবারের কাছে মিরাকলের মতো।