ফ্রান্সের সাবেক প্রেসিডেন্টের ৩ বছর কারাদণ্ড

টিবিটি টিবিটি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ৮:৫৬ অপরাহ্ণ, মার্চ ১, ২০২১ | আপডেট: ৮:৫৬:অপরাহ্ণ, মার্চ ১, ২০২১

ঘুষ ও দুর্নীতির অভিযোগে প্রথমবারের মতো সাজা পেলেন কোনো ফরাসি প্রেসিডেন্ট। সোমবার দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস সারকোজিকে তিন বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন প্যারিসের একটি আদালত।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, ৬৬ বছর বয়সী সাবেক এ ফরাসি প্রেসিডেন্ট নিজের রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে একটি তদন্তের গোপন তথ্যের বিনিময়ে একজন ম্যাজিস্ট্রেটকে বিদেশে লোভনীয় চাকরি পাইয়ে দেয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। সেই ম্যাজিস্ট্রেট গিলবার্ট আজিবার্ট এবং সারকোজির সাবেক আইনজীবী থিয়েরি হারজোগকেও তিন বছর করে কারাদণ্ড দেয়া হয়। তবে কারাগারে না গিয়ে সাবেক প্রেসিডেন্ট বাড়িতে থেকেই দণ্ড ভোগ করতে পারবেন। সেক্ষেত্রে শরীরে একটি ইলেক্ট্রিক ট্যাগ পরতে হবে তাকে।

রায় ঘোষণার সময় বিচারক বলেন, সারকোজি জানতেন তিনি যা করছেন তা ভুল। তার এবং আইনজীবী হারজগের কর্মকাণ্ড জনগণের কাছে বিচার ব্যবস্থা সম্পর্কে খুব বাজে ছবি উপস্থাপন করেছে বলেও উল্লেখ করেন বিচারক। তাদের এসব কাজ অনৈতিক প্রভাব পরিচালিত এবং পেশাদারী গোপনীয়তা লঙ্ঘন হিসেবে বর্ণনা করা হয়। তবে আদালতের এই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারেন নিকোলাস সারকোজি।

২০০৭ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ছিলেন সারকোজি। তার দলের নির্বাচনী প্রচারণা সংক্রান্ত আর্থিক অনিয়মের বিরুদ্ধে তদন্তের গোপন তথ্য পেতে ২০১৪ সালে ম্যাজিস্ট্রেট আজিবার্টকে ঘুষ প্রদানের দায়ে তাকে সাজা দিয়েছেন আদালত।

সিএনএনের প্রতিবেদন অনুসারে, সুদীর্ঘ তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে সারকোজির বিরুদ্ধে মামলাটির শুনানি শুরু হয় গত বছর। সোমবার বিকেলে ভরা আদালতে তার বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা করেন বিচারক।

ওয়্যারটেপিং কেস নামে পরিচিত মামলাটির কার্যক্রম শুরু হয়েছিল ২০১৩ সালে। সে সময় তদন্তকারীরা সারকোজির বিরুদ্ধে দুর্নীতির খোঁজে তার এবং আইনজীবী হারজগের ফোনে আড়ি পেতেছিলেন।

তদন্তকারীরা দেখতে পান, সিনিয়র ম্যাজিস্ট্রেট জিলবার্ট আজিবার্টকে মোনাকোয় সম্মানজনক অবস্থানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন দুই ব্যক্তি। বিনিময়ে ২০০৭ সালের সফল নির্বাচনী প্রচারণার জন্য নিকোলাস সারকোজি বিখ্যাত কসমেটিক কোম্পানি লরিয়েলের উত্তরাধিকারী লিলিয়ান বেটেনকোর্টের কাছ থেকে অবৈধভাবে অর্থ গ্রহণ করেন। এমন দুর্নীতির অভিযোগের তদন্তের তথ্য দাবি করেছিলেন তারা। আধুনিক ফ্রান্সের ইতিহাসে প্রথম প্রেসিডেন্ট হিসেবে কারাদণ্ড ভোগ করতে চলেছেন সারকোজি।