বকশীগঞ্জে এবতেদায়ীতে শিক্ষার্থী ভর্তি কমে যাচ্ছে

কোচিং বন্ধ ও উপবৃত্তি চালুর দাবি প্রতিষ্ঠান প্রধানদের

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৬:৫৯ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ৩, ২০১৯ | আপডেট: ৬:৫৯:অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ৩, ২০১৯

জিএম ফাতিউল হাফিজ বাবু,বকশীগঞ্জ(জামালপুর)প্রতিনিধি:  জামালপুরের বকশীগঞ্জে বিগত বছরের তুলনায় ছাত্র-ছাত্রী ভর্তি কমে গেছে এবতেদায়ী মাদরাসা গুলোতে। এ অবস্থা চলতে থাকলে এক সময় কোন শিক্ষার্থী পাওয়া যাবে না এবতেদায়ী শিক্ষা কারিকুলামে। এর থেকে উত্তোরনের জন্য সরকারকে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ করেছেন মাদরাসার শিক্ষকরা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বকশীগঞ্জ উপজেলায় ১৮ টি মাদরাসা রয়েছে। সবকটি মাদরাসাতেই এবতেদায়ী শিক্ষার ব্যবস্থা আছে। প্রথম শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা এবতেদায়ী শাখায় ভর্তি হতে পারবেন। এবতেদায়ী শিক্ষার জন্য আলাদাভাবে শিক্ষক নিয়োগ দিয়েছে সরকার। অপরদিকে স্বতন্ত্র মাদরাসা রয়েছে ১৬ টি। এর মধ্যে ৬ টি মাদরাসা এমপিওভুক্ত রয়েছে। বাকি গুলোতে শুধুমাত্র ঘর থাকলেও শিক্ষার্থীর সংখ্যা নিয়ে আপত্তি আছে। এতো কিছুর পরও দিন দিন এবতেদায়ী শিক্ষার প্রতি অনিহা সৃষ্টি হচ্ছে অভিভাবকদের। সরেজমিনে ঘুরে বিভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে।

মেরুরচর ইউনিয়নের টুপকারচর দাখিল মাদারাসায় খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০১৯ সালের শিক্ষাবর্ষেএবতেদায়ী শিক্ষায় প্রথম শ্রেণিতে একজন শিক্ষার্থীও ভতি হয় নি। দ্বিতীয় শ্রেণিতে একজন, তৃতীয় শ্রেণিতে দুই জন, চতুথ শ্রেণিতে ৩ জন এবং পঞ্চম শ্রেণিতে ভর্তি হয়েছে শুধু তিন জন শিক্ষার্থী। তবে দাখিল শাখায় এই মাদরাসায় শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছে ৪০ জন শিক্ষার্থী। যা গত বছরের তুলনায় অনেক কম সংখ্যক শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছে।

এই মাদরাসার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষক জানান, প্রাথমিক বিদ্যালয় গুলোর শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি চালু থাকায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী বেশি ভর্তি হচ্ছে। অপরদিকে এবতেদায়ী শাখার কোন শিক্ষার্থী উপবৃত্তি পায় না। একারণে দিন দিন এবতেদায়ী শাখায় শিক্ষার্থী কমে যাচ্ছে। তিনি এবতেদায়ী শিক্ষা ব্যবস্থা ধরে রাখতে উপবৃত্তি চালুর দাবি জানিয়েছেন।

একই অবস্থা বকশীগঞ্জ শহরের প্রাণকেন্দ্রে খয়ের উদ্দিন আলিম মাদরাসাতেও। এই মাদরাসায় এবতেদায়ীতে প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি হয়েছে মাত্র ১২ জন শিক্ষার্থী। আর পঞ্চম শ্রেণিতে ভর্তি হয়েছে ১৫ জন। এই মাদরাসার অধ্যক্ষ মো. রফিকুল ইসলাম জানান, কোচিং বাণিজ্য একটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে এবতেদায়ী শিক্ষায়। ডিসেম্বর মাস এলেই কোচিং মালিকরা তাদের কোচিংয়ে শিক্ষার্থী ভর্তি করতে বাড়ি বাড়ি গিয়ে অভিভাবকদের নিকট ধর্ণা ধরে কোচিংয়ে ছাত্র-ছাত্রী ভর্তি করাচ্ছেন। এতে করে আমরা এবতেদায়ী শাখায় তেমন শিক্ষার্থী পাচ্ছি না।
Add Image
প্রতিটি মাদরাসার এবতেদায়ী শাখাতে একই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। ছোট ছোট ছেলে মেয়েদের কোচিং মুখি করা হচ্ছে। এসব কোচিংয়ের শিক্ষকদের মন ভুলানো কথায় অসচেতন অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের কোচিংয়ে ভর্তি করাচ্ছেন। অপরদিকে গ্রামের দরিদ্র পরিবারের শিশুদের ভর্তি করাচ্ছেন প্রাথমিক বিদ্যালয় গুলোতে। প্রাথমিক বিদ্যালয় গুলোতে উপবৃত্তির ব্যবস্থা থাকায় গরিব পরিবারের শিশুদের সেখানেই ভর্তি করাচ্ছেন। ফলে নানা কারণেই এবতেদায়ী মাদরাসা গুলোতে শিক্ষার্থী ভর্তিতে ভাটা পড়ছে।

বিভিন্ন মাদরাসার সুপারিনটেনডেন্টদের সাথে কথা হলে তারা জানান, এবতেদায়ী শিক্ষার উন্নয়ন করতে হলে শিক্ষার্থীদের জন্য উপবৃত্তির ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। পাশাপাশি কোচিং সেন্টার গুলোতে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত ছাত্র-ছাত্রী ভর্তি বন্ধ করাতে হবে। তা না হলে ভবিষ্যতে ছাত্র-ছাত্রী সংকটে পরতে পারে এবতেদায়ী শাখা গুলোতে।

এ বিষয়ে বকশীগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ ছানোয়ার হোসেন জানান, এবতেদায়ী শিক্ষা নিয়ে আগে কোন নীতিমালা ছিল না একারণে অনেক সমস্যা দেখা দিয়েছে। তবে এখন নীতিমালা তৈরি হওয়ায় তদারকি বেড়ে গেছে। আশা করি এই সমস্যা আর থাকবে না।