বঙ্গবন্ধুকে উৎসর্গ করে শুরু হলো একুশে বইমেলা

প্রকাশিত: ৫:৩৮ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২, ২০২০ | আপডেট: ৫:৩৯:অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২, ২০২০
ফাইল ছবি

অমর একুশে গ্রন্থমেলা-২০২০ এর উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আজ রোববার বিকাল ৪টা ২০ মিনিটে বাংলা একাডেমির প্রাঙ্গণে এ বইমেলার উদ্বোধন করা হয়।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) দুপুরে বাংলা একাডেমির হলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, মুজিববর্ষকে সামনে রেখে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে উৎসর্গ করে এবারের অমর একুশে বইমেলা শুরু হবে।

বাংলা একাডেমির পরিচালক জালাল আহমেদ লিখিত বক্তব্যে জানান, বইমেলাতে বাংলা একাডেমি প্রকাশ করছে চীন সফরের অভিজ্ঞতা নিয়ে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর লেখা বই ‘আমার দেখা নয়া চীন’। এই বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এছাড়া মেলায় বঙ্গবন্ধুর শতবর্ষ উপলক্ষে বাংলা একাডেমি প্রকাশিত বঙ্গবন্ধু বিষয়ক ২৫টি নতুন বই নিয়ে আলোচনা করা হবে।

তিনি বলেন, বইমেলা অনুষ্ঠিত হবে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণ এবং একাডেমি সম্মুখস্থ ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে। এবার বইমেলায় প্যাভিলিয়নের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। গতবার বইমেলায় এর সংখ্যা ছিল ৪৯৯ টি কিন্তু এবার তা বেড়ে হয়েছে ৫৬০টি। এরমধ্যে একাডেমি প্রাঙ্গণে ১২৬টি প্রতিষ্ঠানকে এবং সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে ৪৩৪টি প্রতিষ্ঠানকে ৬৯৪টি ইউনিটে মোট পাঁচটি প্রতিষ্ঠানকে ৮৭৩ ইউনিট এবং বাংলা একাডেমিসহ ৩৩টি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানকে ৩৪টি প্যাভিলিয়ন বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

তিনি জানান, এবার লিটল ম্যাগাজিন চত্বর স্থানান্তরিত হয়েছে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের মেলা প্রাঙ্গণে। সেখানে ১৫২টি লিটলম্যাগকে স্টল বরাদ্দের পাশাপাশি ৬টি উন্মুক্ত স্টলসহ ১৫৮ লিটলম্যাগকে স্টল দেয়া হয়েছে। এছাড়া একক ক্ষুদ্র প্রকাশনা সংস্থা এবং ব্যক্তি উদ্যোগে যারা বই প্রকাশ করছেন তাদের বই বিক্রি ও প্রদর্শনের ব্যবস্থা থাকবে জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের স্টলে বইমেলা বাংলা একাডেমি এবং মেলায় অংশগ্রহণকারী অন্যান্য প্রতিষ্ঠান ২৫ শতাংশ কমিশনে বই বিক্রি করবে। একাডেমি প্রাঙ্গণ এবং সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বাংলা একাডেমির দুইটি প্যাভেলিয়ন ৪ টি ইউনিটের ২টি একাডেমির শিশু কিশোর উপযোগী বইয়ের জন্য একটি এবং একাডেমি সাহিত্য মাসিক উত্তরাধিকার এর ১ টি স্টল থাকবে।

জালাল আহমেদ জানান, এবারও শিশু চত্বর মেলার সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে থাকবে। এই কর্নারকে শিশু-কিশোর বিনোদন ও শিক্ষামূলক অঙ্গসজ্জা সজ্জিত করা হয়েছে। মাসব্যাপী বইমেলায় এবারও শিশুপ্রহর ঘোষণা করা হবে।

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা থাকবে। মেলায় উত্তর-পশ্চিম পাশে তথ্যকেন্দ্র, মেলায় আগতদের জন্য বসার স্থান, মায়েদের জন্য ‘ব্রেস্ট ফিডিং কর্নার’, টয়লেট এবং নামাজের জন্য আলাদা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এছাড়া তথ্যকেন্দ্রের সর্বশেষ খবরাখবর এবং মেলার মূল মঞ্চের সেমিনার প্রচারের ব্যবস্থা ও মেলায় ওয়াইফাই সুবিধা থাকবে। বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে ৩টি পথ ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে প্রবেশ-বাহিরের মোট ৬টি পথ থাকবে। সেইসঙ্গে নিরাপত্তা ব্যবস্থাও জোরদার করা হয়েছে।

এই সময় বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক হাবিবুল্লাহ সিরাজী বলেন, ২ ফেব্রুয়ারি বিকেল ৩টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আনুষ্ঠানিকভাবে বইমেলার উদ্বোধন করবেন। এবারের বইমেলা আমাদের চেতনা ও স্বপ্নের অংশ যা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে উৎসর্গ করা হয়েছে। মেলার মূলমঞ্চে প্রতিদিন যে আলোচনা সভা হবে তা বঙ্গবন্ধু বিষয়ক বইকে ঘিরে। ২৫ দিনের আলোচনা অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধুর ওপর রচিত ২৬টি বই রাখা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন বাংলা একাডেমির সচিব আনোয়ার হোসেন, বিকাশের সিইও মীর মহব্বত আলী, ক্রস ওয়াকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম এ মারুফ।

এ বছর বইমেলা শেষ হবে ২৯ ফেব্রুয়ারি। প্রতিদিন বিকেল ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত। তবে ছুটির দিন মেলা চলবে সকাল ১১টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত। এবং একুশে ফেব্রুয়ারি সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা ৩০মিনিট পর্যন্ত মেলা চলবে।

লেখক: মাসুদ আলম