বঙ্গবন্ধুর নামে ‘নন্দিনী’ ফুলের নতুন জাত

প্রকাশিত: ৮:২৭ অপরাহ্ণ, আগস্ট ৩১, ২০১৯ | আপডেট: ৮:২৭:অপরাহ্ণ, আগস্ট ৩১, ২০১৯

গোড়া বিদেশি হওয়ার পর দেশিয় ফুলরাজ্যে অনন্য বিশেষত্বের গোলাপসদৃশ এক নতুন ফুল এখন নন্দিনী। এক যুগ আগে ফুলটি প্রথম ফুটে রাজধানীর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) উদ্যানতত্ত্ব খামারে।

গত ৮ আগস্ট জাতীয় বীজ বোর্ড (এনএসবি) অনিয়ন্ত্রিত ফসলের জাত নিবন্ধনের আওতায় বঙ্গবন্ধু-১ ও বঙ্গবন্ধু-২ নামে নন্দিনী ফুলের দুটি নতুন জাত প্রত্যয়ন করা হয়। আর এ ফুলের জাত দুটি সারাদেশেই উৎপাদনক্ষম।

নীল রঙা কাটফুলের (বাণিজ্যিক ফুল) কদর বিশ্বজুড়ে। সেক্ষেত্রে আপাতত গোলাপ, জার্বেরা গাঁদা কিংবা রজনীগন্ধ্যার ভিড়ে এ জাতীয় ফুল বাংলাদেশে নেই বললেই চলে। ফুল দুটির মধ্যে বঙ্গবন্ধু-১ গাড় নীল রঙের ও বঙ্গবন্ধু-২ হালকা গোলাপি। হার্ব জাতীয় এ উদ্ভিদে ৫ পাপড়িবিশিষ্ট গোলাপসদৃশ ফুল হয়।

ফুল দুটি বছরজুড়ে দেশের বন্যা ও খড়াপ্রবণ এলাকাতেও জন্মাতে পারে। নন্দিনী গবেষক দলের প্রধান শেকৃবি উদ্যানতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. জামাল উদ্দিন জানান, ২০০৪ সালে জাপান থেকে নন্দিনী উৎপাদনের লক্ষ্যে এর উপযোগী বীজ ও মাটি এনেছিলেন তিনি। ২০০৭ সালে প্রথম ফুল ফোটার পর ক্রমাগত গবেষণায় কাক্সিক্ষত ফলাফল এলে ২০১৪ সালে ‘নন্দিনী’ নামে এর নিবন্ধন করা হয়।

তিনি বলেন, প্রথমদিকে আমরা ১৫টি জাত নিয়ে কাজ শুরু করলেও পরে দেখা যায় দুটি জাত দেশীয় আবহাওয়ায় উৎপাদনক্ষম। ফুলের বাজারে এর ব্যাপক সম্ভাবনা থাকায় এ দুটি জাতকেই উন্নত করে কৃষি মন্ত্রণালয়ে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এর নিবন্ধন প্রত্যয়নের আবেদন করা হয়। সম্প্রতি আমরা এর প্রত্যয়নও পেয়ে গেছি। তিনি আরও বলেন, বুনো প্রকৃতির হওয়ায় ঝড়-বৃষ্টি, প্রচ- খড়া ও অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগেও এ ফুল নষ্ট হয় না।

ফুলগুলো শক্ত বৃন্তের ওপর থাকে বিধায় সহজেই দলম-ল নুয়ে পড়ে না। ফুলদানিতে সাধারণ দ্রবণে (পানিতে) ১৫ দিন ও সুক্রোজ দ্রবণে (পানি ও চিনি) ২৫ দিন পর্যন্ত সম্পূর্ণ তাজা ও স্থায়ী থাকে নন্দিনী। পর্যায়ক্রমে নন্দিনীকে মাঠপর্যায়ে ছড়িয়ে দেওয়ার প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন সংশ্লিষ্ট এ গবেষক।