বঙ্গবন্ধুর পলাতক খুনিদের ফেরানোর সর্বশেষ তথ্য জানালেন আইনমন্ত্রী

প্রকাশিত: ৮:৫৯ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৩, ২০২০ | আপডেট: ৮:৫৯:অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৩, ২০২০
আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। ফাইল ছবি

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যায় সাজাপ্রাপ্ত পলাতক পাঁচ খুনির মধ্যে নূর চৌধুরী কানাডায় কীভাবে আছেন তার কাগজপত্র বাংলাদেশকে দিতে সম্মতি দিয়েছে দেশটির আদালত। আর যুক্তরাষ্ট্রের থাকা খুনি রাশেদ চৌধুরীকে ফিরিয়ে আনতে অগ্রগতির ব্যাপারে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে সরকার।

পঁচাত্তরের বিভীষিকাময় ১৫ আগস্টের ৪৫তম শাহাদৎ বার্ষিকীর আগে বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) এক ভিডিও বার্তায় সরকারের কাছে থাকা সর্বশেষ তথ্য জানান আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক।

আইনমন্ত্রী জানিয়েছেন, বাকি তিন খুনি কর্নেল শরীফুল হক ডালিম, কর্নেল রশীদ এবং মোসলেউদ্দিন রিসালদারের অবস্থান না জানলেও সরকার অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু সেনা সদস্যদের হাতে নির্মমভাবে সপরিবারে খুন হন। বর্তমানে বঙ্গবন্ধুর পাঁচ ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত খুনি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পালিয়ে ছিলেন। এর মধ্যে রাশেদ চৌধুরী যুক্তরাষ্ট্র ও নূর চৌধুরী কানাডায় অবস্থায় করছেন। এছাড়া শরিফুল হক ডালিম, কর্নেল রশীদ, মুসলেহউদ্দীন রিসালদার বিভিন্ন দেশে পালাতক রয়েছেন। গত ৬ এপ্রিল দিবাগত রাত ৩টার দিকে মিরপুর সাড়ে ১১ নম্বর এলাকা থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি ক্যাপ্টেন আবদুল মাজেদকে গ্রেফতার করে। তিনি এতদিন ভারতে পালিয়ে ছিলেন। পরে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।

আইনমন্ত্রী বলেন, ‘সাংবাদিক ভাইয়েরা জিজ্ঞাসা করেছেন, বঙ্গবন্ধুর যে খুনিদের রায় এখনও কার্যকর করা যায়নি এবং যারা পলাতক আছেন তাদের ব্যাপারে আমরা কী কী পদক্ষেপ নিয়েছি। সেই ক্ষেত্রে আমি বলতে পারি- কানাডায় নূর চৌধুরী পলাতক আছেন। তিনি কানাডীয় সরকারকে বলেছেন, বাংলাদেশে তাকে একটি মামলায় ফাঁসির আদেশ দেয়া হয়েছে। কানাডীয় সরকারের একটি আইন আছে, যেটা হচ্ছে যে দেশে মৃত্যুদণ্ড আছে সেখানে মৃত্যুদণ্ড হতে পারে এ রকম কোনো আসামিকে তারা ফেরত পাঠায় না। সেই আবেদনের কারণে সে সেখানে বসবাসরত আছেন।’

তিনি বলেন, ‘সে (নূর চৌধুরী) কানাডীয় সরকারের কাছে কী লিখেছেন এবং কী কারণে তাকে সেখানে থাকার অনুমোদন দেয়া হয়েছে, সেগুলো জানার জন্য আমরা কানাডীয় সরকারের কাছে সেই কাগজপত্রগুলো চেয়েছিলাম। কানাডীয় সরকার জবাব দিয়েছে যে, তাদের প্রাইভেসি অ্যাক্টে এ কাগজগুলো দেয়া যায় না। তখন আমরা সেখানে আইনজীবী নিয়োগ করে আদালতে আবেদন করেছিলাম। আদালত বলেছেন এই কাগজগুলো দেয়া যাবে। তার পরিপ্রেক্ষিতে আমরা এখন অগ্রসর হচ্ছি।’

রাশেদ চৌধুরী যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক আশ্রয় নিয়েছিলেন জানিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘সেই ব্যাপারে এখন যে পরিস্থিতি হয়েছে, সেটা অবজার্ভ (পর্যবেক্ষণ) করছি। এবং এর অগ্রগতির ব্যাপারে আমরা আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি।’

আনিসুল হক বলেন, ‘আর বাকি তিনজনের ব্যাপারে তাদের অবস্থান সম্বন্ধে জানি না, কিন্তু আমাদের অনুসন্ধান চলছে। আমরা মনে করি আমাদের এই প্রচেষ্টায় সাফল্য লাভ করব।’

তিনি বলেন, ‘এখানে আমি একটা কথা বলে রাখতে চাই, সেটা হচ্ছে যতক্ষণ পর্যন্ত না আমরা এই পাঁচজন পলাতক খুনিকে দেশে ফিরিয়ে এনে এই রায় সম্পূর্ণভাবে কার্যকর না করতে পারব, ততক্ষণ পর্যন্ত তাদেরকে খুঁজে বের করা ও আনার প্রচেষ্টা চলবে। যখন তাদেরকে আনা হবে তখনই এই প্রচেষ্টার পরিসমাপ্তি ঘটবে।’