বছরে ৬৪ হাজার কোটি টাকা পাচার : অভিযোগ অনুসন্ধানে আরও সময় চায় দুদক

প্রকাশিত: ৮:০৫ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২২, ২০২১ | আপডেট: ৮:৩৬:অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২২, ২০২১
ফাইল ছবি

ইনভয়েস জালিয়াতির মাধ্যমে কিছু অসাধু গার্মেন্টস মালিকরা বছরে ৬৪ হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেন বলে যে অভিযোগ উঠেছে তা খতিয়ে দেখতে অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

এছাড়া রফতানির আড়ালে আল মুসলিম গ্রুপের ১৭৫ কোটি টাকা বিদেশে পাচারের অভিযোগও খতিয়ে দেখছে সংস্থাটি। তবে ঘটনা দুটির সুরাহা করতে আরও সময়ের প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন দুদক সচিব ড. মু আনোয়ার হোসেন হাওলাদার।

সোমবার (২২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান তিনি।

তিনি বলেন, কতিপয় গার্মেন্টস মালিকদের বিরুদ্ধে কিছু পাবলিক সার্ভেন্টের সহযোগিতায় অবৈধ সম্পদ অর্জনপূর্বক আমদানি ও রপ্তানির আড়ালে বাংলাদেশ থেকে প্রতি বছর গড়ে ৬৪ হাজার কোটি টাকা পাচার এবং আল মুসলিম গ্রুপের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে রপ্তানীর আড়ালে ১৭৫ কোটি টাকা বিদেশে পাচারের একটি অভিযাগ পাওয়ার পর দুদক অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয়। বর্তমানে দুদকের একটি অনুসন্ধান টিম অভিযোগের বিষয়ে অনুসন্ধান কার্যক্রম পরিচালনা করছে। অনুসন্ধান টিম প্রতিবেদন দাখিল করলে তা পর্যালচনা করে কমিশন আইন মোতাবেক পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। এজন্য তিন সদস্যের একটি টিম কাজ করছে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে ওভার ইনভয়েসিংয়ের অভিযাগে অনুসন্ধান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দুর্নীতি দমন কমিশনের চাহিদার ভিত্তিতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ওভারইনভয়েসিং সংক্রান্ত কিছু তথ্য পাঠায়, যার ভিত্তিতে দুদক অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিয়ে একটি অনুসন্ধান টিম গঠন করেছে। বর্তমানে উক্ত টিম অনুসন্ধান কার্যক্রম পরিচালনা করছে। অনুসন্ধানের বিষয়বস্তু ব্যাপক হওয়ায় এ বিষয়ে অনুসন্ধান সম্পন্ন করতে সময়ের প্রয়োজন। দুদক তার চাহিদার প্রেক্ষিতে এনবিআর থেকে তথ্য পেতে শুরু করেছে। আশা করা যায়, এখন থেকে এনবিআর ওভার ইনভয়েসিংয়ের তথ্য পাওয়ামাত্র নিয়মিতভাবে দুদককে তথ্য সরবরাহ করবে। বিদেশে অর্থ পাচার রোধে দুদক অত্যন্ত কঠোর। এলক্ষে দুদক চার সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে বলেও তিনি জানান।

তিনি আরও বলেন, তদন্তযোগ্য তথ্য পাওয়া মাত্র দুদক অর্থ পাচার রোধকল্পে সর্বাত্মক ব্যবস্থা গ্রহণ করে থাকে। এ ক্ষেত্রে দুদক বিএফআইইউ এবং সেন্ট্রাল অথরিটি তথা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতা গ্রহণ করে।

সচিব এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, কয়েকজন আইনজীবীর সিইসির বিরুদ্ধে আনিত লিখিত অভিযোগটি যাচাই বাছাই কমিটিতে রয়েছে।