বন্ধের পথে কলকাতার একাধিক টিভি চ্যানেল

জট কাটেনি টলিউডের

প্রকাশিত: ৯:৪৫ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ২২, ২০১৮ | আপডেট: ৯:৪৫:পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ২২, ২০১৮

জট কাটেনি টলিউডের। মঙ্গলবার দফায় দফায় বৈঠক শেষেও টলিউডে টিভি সিরিয়ালের শুটিং নিয়ে অচলবস্থার কোনো সমাধান না হওয়ায় কার্যত বিপর্যস্ত কলকাতার বিনোদনকেন্দ্রিক টেলিভিশন চ্যানেলগুলো।

বুধবার সকাল থেকেও একই চিত্র টলিউডে। শুনশান চারিদিক। নেই লাইট, ক্যামেরা, অ্যাকশন বলে চিতকার। গত শনিবার থেকে টানা বন্ধ রয়েছে টলিউডে সিরিয়ালের শুটিং। এদিনে নতুন এপিসোডের অভাবে গত কয়েকদিন ধরে মেগা ধারাবাহিকগুলি পুরনো এপিসোড দেখানোর পর মঙ্গলবার রাতে দেখা যায় কলকাতার বেশ কয়েকটি বিনোদনমূলক চ্যানেল বন্ধ রাখা হয়েছে।

জানা গিয়েছে, কলকাতার বেশ কয়েকটি বিনোদনমূলক টিভি চ্যানেল আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে শুধুমাত্র ধারাবাহিকের নতুন এপিসোডের অভাবে। সেইসঙ্গে অন্যান্য বিনোদনমূলক অনুষ্ঠানও টলিউডে শুটিং না হওয়ায় চানেলগুলির হাত কার্যত শূন্য। বুধবার সকালেও কলকাতার প্রথম সারির বেশ কয়েকটি টিভি চ্যানেল বন্ধ থাকতে দেখা যায়। নো সিগন্যাল হয়ে পড়ে রয়েছে ওই টিভি চ্যানেলগুলো। জনপ্রিয় বিভিন্ন ধারাবাহিক ও মেগা ধারাবাহিকগুলো দিনের নির্দিষ্ট সময়ে দেখতে না পেয়ে দর্শকদের মধ্যে হতাশা বাড়ছে। ফলে সঙ্কট ক্রমশ ঘনীভূত হচ্ছে।

এদিকে, কয়েক দফা দাবিতে টালিগঞ্জের অভিনেতা অভিনেত্রীদের সংগঠন আর্টিস্ট ফোরাম ধর্মঘট ডেকেছে বলে দাবি করেছে প্রযোজনা সংস্থা। যদিও সেই দাবিকে উড়িয়ে দিয়ে আর্টিস্ট ফোরামের পক্ষ থেকে অভিনেতা প্রসেনজিত চট্টোপাধ্যায় জানিয়ে দেন, অদ্ভূতভাবে মানুষের কাছে বলা হচ্ছে অভিনেতা-অভিনেত্রীরা কাজ বন্ধ করেছেন। আসলে এটা ভুল। প্রযোজকরাই শুটিং বন্ধ করে রেখেছেন। প্রযোজকরা কল টাইম দিলেই অভিনেতা অভিনেত্রীরা কাজ শুরু করবেন। তবে তার আগে আর্টিস্ট ফোরামের দাবি দাওয়া ও বকেয়া মেটাতে হবে প্রযোজকদের।

মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত কোনো ফলপ্রসূ সমাধান বের না হওয়ায় বুধবারেও শুটিং শুরু হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। তার ওপর বুধবার রাজ্যজুড়ে পালিত হচ্ছে ঈদুল আজহা। ফলে ছুটির আবহে এদিন টলিউডের সমস্যা সমাধানের তেমন কোনো পথ নেই। মঙ্গলবার বিকালের পর দক্ষিণ কলকাতার নজরুল মঞ্চে আর্টিস্ট ফোরামের বৈঠকে টলিপাড়ার প্রায় হাজার দেড়েক অভিনেতা অভিনেত্রীরা শামিল হয়ে উদ্ভূত এই সমস্যার জন্য প্রযোজকদের দায়ী করেন। তারা সাফ জানিয়ে দেন, এই পরিস্থিতির জন্য কোনোভাবেই আর্টিস্ট ফোরাম দায়ী নয়।