বন্ধ চোখেও অশ্রুর স্রোত টের পাচ্ছেন, তাই না?

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৮:৩০ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ১৭, ২০১৮ | আপডেট: ৮:৩০:পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ১৭, ২০১৮

আমি ৭১ দেখি নি। ৭৫ ও না। তবে কেন ওই সংখ্যাগুলোই মিশে আছে অস্তিত্বে? কারণটা সহজ, আকাশটা ৭১ এরই আছে। মন খারাপের মেঘটা ৭৫ এরই আছে। তাইতো বৃষ্টি হলেই একাত্তরের বিজয়ে ভিজি। ৭৫ এর কষ্টে কাঁদি।আজও।

আমার মতো মানুষের সংখ্যা খুব একটা কম হবে কি? শত,সহস্র, লক্ষ ছাড়িয়ে কোটিতেও পৌঁছাবে হয়তো।

তবে, ভিজতে পারছে সবাই? চাচ্ছেও কি সবাই? তাহলে চারপাশে এত ছাতা আর বর্ষাতি (রেইন কোট) কেন?

আমার আশেপাশের সবাইকে বলছি, প্রথম শ্বাস নিয়েছিলেন যে বাতাসটায়, সে বাতাসটা কি আপনার সঙ্গে জন্মালো? কিছুতেই না। বাতাসটা আদিম।তাই, প্রথম প্রশ্বাসেই অন্তরে প্রবেশ করেছে মাতৃভূমি।

তবে, আজকের দিনে কাঁদতে দ্বিধা আছে কি? আপনার সন্তানকে, রান্নাঘরে ব্যস্ত মা কে, সংসারে ব্যস্ত স্ত্রীকে কিংবা বাজারের ব্যাগহাতে ব্যস্ত বাবা কে কিংবা নিজেকে বলুন….

আজ ছুটির দিন নয়। আজ শোকের আবেশে থেমে যাবার দিন।

কাল থেকে না হয় আপনার ব্যস্ততার চাকা ঘুরুক আগের মতই। আজ নয়।

জাতির পিতাকে বিশেষিত করার দুঃসাহস দেখানো ঠিক কি না জানি না। তবু, আমি তাঁকে বলি “মাতৃভূমির ভাস্কর”

এ দেশটাকে নিয়ে স্বপ্ন দেখতেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্ন।

হায়েনার আঁচড় হয়তো জীবন থামাতে পেরেছে। স্বপ্নটা ছড়িয়ে গেছে কোটি প্রাণে।

তেমনি করেই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পিতৃবিয়োগের শোকটা কি আমাদেরও না?

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যখন বলেন, প্রিয়জন হারানোর কষ্ট আমার চেয়ে কে ভালো বুঝবে?

তখন, একটি বাস্তবতাও উঁকি দেয়, জাতির পিতার কোটি কোটি সন্তানের মাঝে আপনি প্রিয়জন হারা হতে পারেন, কিন্তু পরিবার হারা নন। এত বিশাল, কোটি মানুষের পরিবার ক’জনের আছে?

বিতার্কিকদের ক্ষুরধার বচন থামবে না। নিন্দুকের বীজ প্রতিদিন ছড়াবে কোন এক মাটির খন্ডে। প্রতিদিন একাত্তরে ভিজতে চাবে না কেউ না কেউ!

সবকিছুর মাঝে আমরাও কি নেই? আমি রাজনীতি করি না। সরকারী চাকরি করি। অনেক কিছুই বলবো না।তবু, অস্তিত্বের প্রশ্ন এলে এড়াতে চাইলেও পারবো কি?

আমার পিতা একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। একাত্তরের বৃষ্টিতে ভিজতে শিখেছি তার হাত ধরেই।

আমারও কি খানিকটা দায়িত্ব নেই আর পাঁচজনকে সে বৃষ্টি চেনাবার?

একাত্তর হোক, কিংবা পঁচাত্তর। সংখ্যাগুলো অতীত নয়। ভবিষ্যতের প্রেরণা।

দূর অতীতের আজকের দিনে যে প্রাণগুলো ঝরে গেলো, চোখবন্ধ করে একবার ভাবুন তো তাদের কথা। বন্ধ চোখেও অশ্রুর স্রোত টের পাচ্ছেন, তাই না? জাতীয় শোক দিবসের সহমর্মিতা সবার প্রতি।

মনদীপ ঘরাই: লেখক এবং সিনিয়র সহকারী সচিব, বাংলাদেশ সরকার