বন্ধ হচ্ছে না ইন্টারনেট-ক্যাবল টিভি

প্রকাশিত: ৭:৫৫ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৭, ২০২০ | আপডেট: ৭:৫৫:অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৭, ২০২০

সরকারের আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে ইন্টারনেট ও ডিশ সেবা বন্ধের কালকের কর্মসূচি স্থগিতের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইন্টারনেট ও ক্যাবল টিভি সেবাদাতাদের সংগঠন।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) আইনমন্ত্রী আশ্বস্ত করেছেন ও এলজিআরডি মন্ত্রী দুই সিটি কর্পোরেশনকে তার কাটা বন্ধ রাখতে চিঠি দিয়েছেন।

আইএসপিএবি সভাপতি আমিনুল হাকিম, মহাসচিব ইমদাদুল হক এবং কোয়াবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এসএম আনোয়ার পারভেজ এ ঘোষণা দেন।

রোববার আইএসপিএবি এবং কোয়াবের সঙ্গে এ বিষয়ে বৈঠকে বসবেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস। এই বৈঠক থেকেই ঝুলন্ত তার অপসারণ বিষয়ে স্থায়ী সমাধান আসবে বলে আশা করছেন তারা।

গ্রাহক পর্যন্ত সংযোগ স্থাপনে ঝুলন্ত তারের বিকল্প ব্যবস্থা না করে তার কাটায় ইন্টারনেট ও ডিস সংযোগ বন্ধ করার এই কর্মসূচি দিয়েছিলেন তারা। সেখানে ১৮ অক্টোবর রোববার হতে প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত সারাদেশে বাসা-বাড়ি, অফিস ও ব্যাংকসহ সকল পর্যায়ে ইন্টারনেট ডেটা কানেক্টিভিটি এবং ক্যাবল টিভি বা ডিস বন্ধ রাখার কর্মসূচি ছিলো।

ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার, তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, টেলিযোগাযোগ সচিব মো. আফজাল হোসেনসহ দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এবং সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের আশ্বাসের প্রেক্ষিতে কর্মসূচি স্থগিত করেন তারা।

সংবাদ সম্মেলনে যোগ দিয়ে মোস্তাফা জব্বার বলেন, উদ্ভুত বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে তিনি তথ্যমন্ত্রী, তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রীসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে আলোচনা করেছেন।

‘তিনি এলজিআরডি মন্ত্রীকে চিঠি দিয়েছেন। এরপর দুটি সিটি করপোরেশনকে এলজিআরডি হতে চিঠি দেয়া হয়েছে যেন তারা না কাটা হয়। মূখ্য সচিবকে সব বিষয় জানানো হয়েছে যাতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিষয়গুলো পৌঁছে দেয়া হয়’ জানাচ্ছিলেন মন্ত্রী।

আইনমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের সঙ্গে আলাপ করেছেন উল্লেখ করে মোস্তাফা জব্বার জানান, বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী কাল (রোববার) অবহিত হবেন বলে মূখ্যসচিব জানিয়েছেন।

মন্ত্রী ধর্মঘট-কর্মসূচি স্থগিতের আহবান জানিয়ে বলেন, যতক্ষণ পর্যন্ত গ্রহণযোগ্য সমাধান না হবে ততক্ষণ তার কাটা হবে না এই প্রতিশ্রুতি তিনি দিচ্ছেন।

নাটোরের সিংড়া হতে সংবাদ সম্মেলনে যোগ দিয়ে জুনাইদ আহমেদ পলক সংগঠন দুটির কাছে ৭ দিনের সময় চেয়ে বলেন, এই সময়ের মধ্যে যৌক্তিক সমাধান হয়ে যাবে। তারা আন্তরিক আছেন।

পলক জানান, করোনাকালে ইমার্জেন্সি সময় পার করছি। তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী, ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টার সঙ্গে আলোচনা করেছেন। এবং এরমধ্যে যেন আর তার কাটা না হয়, আর কেউ ক্ষতিগ্রস্থ না হয় তা তিনি করেছেন।  উত্তরে যেমন সমাধান হয়েছে দক্ষিণেও হবে।

এরপর দুই সংগঠনের পক্ষে আইএসপিএবির সভাপতি আমিনুল হাকিম এবং কোয়াবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এস এম আনোয়ার পারভেজ কর্মসূচি স্থগিত করার ঘোষণা দেন।

রোববার দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়রের সঙ্গে বৈঠক শেষে পরবর্তী ঘোষণা দেয়া হবে।

গত ১২ অক্টোবর প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে আইএসপিএবি এবং কোয়াব এই ঝুলন্ত তার না কেটে বিকল্প সমাধানে ৫ দফা দাবি দিয়ে ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত আল্টিমেটাম বেধে দিয়েছিলেন।

এই পাঁচ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে, লাস্ট মাইল ক্যাবল বা গ্রাহক পর্যন্ত সংযোগের স্থায়ী সমাধান না করা পর্যন্ত কোনো ঝুলন্ত ক্যাবল অপসারণ যাবে না, আইএসপিএপি, কোয়াব, বিটিআরসি, এনটিটিএন এবং সিটি করপোরেশন সমন্বয়ে লাস্ট মাইল ক্যাবল স্থাপন করা হয়েছে কিনা তা নিশ্চিত করণে একটি কমিটির মাধ্যমে সরেজমিন তদন্তের ব্যবস্থা করা।

এছাড়া সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় কর্তৃক বাসা-বাড়ি, অফিস ও ব্যাংকসহ সকল পর্যায়ে ইন্টারনেট ও ক্যাবল টিভি সেবার মূল্য নির্ধারণ, গ্রাহক পর্যায়ে ইন্টারনেট ও ক্যাবল টিভি সেবা স্বল্পমূল্যে দিতে এনটিটিএন এর মূল্য সরকারের নির্ধারণ এবং গ্রাহক পর্যায়ে নিরবিচ্ছিন্ন সেবা প্রদানের নিশ্চয়তার পক্ষে এনটিটিএনগুলো সার্বিক সক্ষমতা আছে কিনা তা যাচাই।

সংবাদ সম্মেলনে আইএসপিএবির সাধারণ সম্পাদক এমদাদুল হকসহ সংগঠন দুটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।