ববির দুই শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে মানহানি ও চাঁদাবাজির অভিযোগে পাল্টাপাল্টি মানববন্ধন

প্রকাশিত: ৮:২৮ অপরাহ্ণ, জুন ১০, ২০২১ | আপডেট: ৮:২৮:অপরাহ্ণ, জুন ১০, ২০২১

ফারিয়া জাহান, ববি প্রতিনিধি: বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য প্রচার করে মানহানি ও চাঁদাবাজি করার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে একই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও জগ্রত তারুণ্য নামে একটি সংগঠন। অভিযুক্ত দুই শিক্ষার্থী হলেন রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৩-১৪ সেশনের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী শফিক মুন্সী এবং ফাইন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী খাইরুল ইসলাম সোহাগ।

বৃহস্পতিবার (১০ জুন) সকাল সাড়ে ১০ টায় নগরীর অশ্বিনী কুমার হলের সামনে মানববন্ধনে এসব অভিযোগ করেন জয় বাংলা ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত সামাজিক সংগঠন জাগ্রত তারুণ্যের প্রতিষ্ঠাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের ২০১৪-১৫ সেশনের শিক্ষার্থী শাহবাজ মিয়া শোভন।

শাহবাজ মিয়া শোভন বলেন, চাঁদা চেয়ে না পেয়ে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও মানহানীকর সংবাদ প্রকাশ করায় ক্যাম্পাসের হলুদ সাংবাদিক খাইরুল ইসলাম সোহাগ ও শফিক মুন্সীর কঠোর বিচারের দাবিতে আজকের এই মানববন্ধন কর্মসূচি। শফিক মুন্সী ও তার কুচক্রিমহল সাংবাদিকতার নামে অনৈতিকভাবে অসত্য সংবাদ করার ভয় দেখিয়ে অনেক দিন ধরে চাঁদা দাবি করে আসছিল। চাঁদা না পেয়ে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য প্রচার করছে। এই চক্রটি চাঁদাবাজির একটি নতুন সংজ্ঞা আবিস্কার করেছেন। মিষ্টি খেতে ৫ হাজার টাকা চেয়েছিল তারা। আমি একজন ছাত্র, এত টাকা দিতে না পারায় আমার বিরুদ্ধে মনগড়া তথ্য প্রচার করেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ে সে সকলকে একধরনের জিম্মি করে রেখেছে। যার সকল তথ্য উপাত্ত ও প্রমান সাংবাদিক মহল ও যথাযথা কর্তৃপক্ষকে আমরা দিয়েছি এবং শফিক মুন্সী, সোহাগ ও তাদের কুচক্রিমহল আমাকে নিয়ে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও অসত্য ভিত্তিহীন তথ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে মানহানী ও সাইবার বুলিং এর মাধ্যমে হেনাস্তা করে আসছে। আমি আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করবো।

মানববন্ধনে জাগ্রত তারুণ্য পটুয়াখালী জেলা ইউনিটের সহ-সভাপতি মোঃ মোস্তাক হাসান নিয়ন বলেন মোঃ শাহবাজ মিঞা শোভন ভাই একজন মানবতার ফেরিওয়ালা, আমরা আজকে তাকে নিয়ে মিথ্যা ও মানহানীকর সংবাদ করায় ক্ষুদ্ধ হয়ে সুদূর পটুয়াখালী থেকে এসেছি শুধু এই সাংবাদিকতার মত মহৎ পেশাকে যারা অনৈতিক ভাবে ব্যবহার করে উদ্দেশ্যপ্রনোদিতভাবে চাঁদা চেয়ে না পেয়ে মানহানী করে। আমরা এই চাঁদাবাজ ও হলুদ সাংবাদিকদের কঠোর শাস্তি ও বিচার দাবী করছি।

এদিকে জাগ্রত তারুণ্যের মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলনের প্রতিবোদে সকাল ১১ টায় বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের মূল ফটকে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে মানববন্ধন করেছে অভিযুক্ত রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৩-১৪ সেশনের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী শফিক মুন্সী।

মানববন্ধনে তিনি বলেন, শাহবাজ মিয়া সোভন কর্তৃক যেসব অভিযোগ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে দেওয়া হয়েছে এবং সংবাদ সম্মেলনের নামে প্রহসনে যা উত্থাপন করা হয়েছে তা সম্পূর্ন মিথ্যা। এগুলো সাংবাদিক নির্যাতনের শামিল। একজন সাধারন মানুষ হিসেবে হয়রানি ছাড়া কিছুই না। এসময় শোভনকে ক্যাম্পাসে অবাঞ্চিত ঘোষণা করে তিনি বলেন, যতদিন পর্যন্ত মিথ্যা অভিযোগের ব্যাপারে ক্ষমা না চাইবে ততদিন পর্যন্ত শাহবাজ মিয়া শোভনকে ক্যাম্পাসে অবাঞ্চিত ঘোষণা করা হলো।

অভিযুক্ত খাইরুল ইসলাম সোহাগ এ বিষয়ে বলেন, কিছুদিন ধরে শাহবাজ মিঞা শোভনের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি সংগঠনের ক্রেস্ট ও ছবি বিনা অনুমতিতে ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছিলো। যার পরিপ্রেক্ষিতে আমি অভিযুক্ত ও অভিযোকারীর পূর্নাঙ্গ বক্তব্য নিয়ে একটি সংবাদ পরিবেশন করি। সংবাদ প্রকাশের নীতিমালা মেনেই আমি সংবাদ পরিবেশন করেছি। এখানে প্রতিহিংসার বিষয় নেই। তারই জের ধরে আমার আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা, বানোয়াট ও মনগড়া কাহিনি দিয়ে আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করার চেষ্টা করেছে যা সাংবাদিক নিগ্রহের শামিল।