বরগুনায় অলৌকিকভাবে বেঁচে গেলেন দেড় হাজার লঞ্চযাত্রী

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৬:৫১ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ২৯, ২০১৮ | আপডেট: ৬:৫২:পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ২৯, ২০১৮

বরগুনা থেকে ঢাকাগামী যাত্রীবাহী লঞ্চ ও কার্গোর মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়েছে। এ সময় লঞ্চের তলা ফেটে পানি ঢুকলেও প্রাণে বেঁচে গেছেন দেড় হাজার যাত্রী।

মঙ্গলবার রাতে ঝালকাঠির গাবখান চ্যানেলে ‘শাহরুখ’ নামে এ লঞ্চে দুর্ঘটনা ঘটে। পরে লঞ্চটি বরিশাল নৌবন্দরে নোঙর করে প্রায় দেড় হাজার যাত্রীকে লঞ্চ থেকে নামিয়ে দেয়া হয়। পাশাপাশি লঞ্চটির যাত্রাও স্থগিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিআইডব্লিউটিএর কর্মকর্তারা।

লঞ্চে থাকা যাত্রীরা জানান, রাত ৮টার দিকে ঝালকাঠির গাবখান চ্যানেলে বরগুনা থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে আসা শাহরুখ-১ লঞ্চটির সঙ্গে একটি কার্গোর মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এ সময় লঞ্চটির তলা ফেটে ভেতরে পানি প্রবেশ করতে থাকে। কিন্তু সে সময় যাত্রীরা অনেকবার লঞ্চ মাস্টারকে নোঙর করতে বললেও তিনি তা করেননি।

পাশাপাশি প্রথম থেকেই লঞ্চটির সার্চলাইট না জ্বালিয়ে বেপরোয়াভাবে। লঞ্চ চালাচ্ছিলেন মাস্টার। একপর্যায়ে মাস্টার বরিশাল নদীবন্দরে লঞ্চটি নোঙর করে। এতে বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পায় দেড় হাজার যাত্রী।

এরপরই নিরাপদে বিআইডব্লিউটিএ, নৌপুলিশ ও থানা পুলিশ যাত্রীদের বরিশাল নদীবন্দরে নামিয়ে দেয়।

শাহরুখ-১ লঞ্চের মাস্টার উজির আলী জানান, সামান্য অংশ ফেটে গিয়েছিল। এতে কোনো সমস্যা হতো না। তবে যাত্রীদের হুলস্থুলতার কারণে লঞ্চ নোঙর করা হয়েছে।

বরিশাল বিআইডব্লিউটিএর নৌনিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের উপপরিচালক আজমল হুদা মিঠু সরকার বলেন, নৌপরিবহন অধিদফতরের শিপ সার্ভেয়াররা লঞ্চটি পর্যবেক্ষণ করছেন।

নৌপরিবহনটির পূর্ণাঙ্গ সার্ভে না করা পর্যন্ত লঞ্চটিকে যাত্রার জন্য উপযোগী বলা যাচ্ছে না। তাই লঞ্চটির যাত্রা বাতিল করা হয়েছে। পাশাপাশি যে কোনো অবস্থাতেই লঞ্চটিকে বরিশাল নদীবন্দর থেকে অন্য কোথাও না নেয়ার জন্য নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, লঞ্চটি মেঘনা নদীতে গিয়ে বড় দুর্ঘটনার শিকার হতে পারত বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এ ছাড়া যাত্রীদের বিষয়ে তিনি জানান, বিকল্প লঞ্চ না আসা পর্যন্ত অর্থাৎ সকাল অবধি তাদের বন্দরে অথবা লঞ্চে অবস্থান নিতে হবে। এক্ষেত্রে নৌপুলিশ ও থানা পুলিশ নিরাপত্তার জন্য সারারাত বন্দরেই থাকবে বলে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।