বশেমুরবিপ্রবি’র চুরি হওয়া কম্পিউটারের ৩৪ টি উদ্ধার, গ্রেফতার ২

প্রকাশিত: ৫:২৪ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৪, ২০২০ | আপডেট: ৫:২৪:অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৪, ২০২০
ফাইল ছবি

এসএম নজরুল ইসলাম, গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি: গোপালগঞ্জে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (বশেমুরবিপ্রবি) থেকে চুরি যাওয়া কম্পিউটারের মধ্যে ৩৪ টি কম্পিউটার উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার (১৪আগষ্ট) রাতে ঢাকার মহাখালী এলাকার ‘জিসার ইন্টারন্যাশনাল’ নামের একটি আবাসিক হোটেল থেকে এসব কম্পিউটার উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা গোপালগঞ্জ সদর থানার এসআই মিজানুর রহমান জানিয়েছেন। আটকরা হল-ময়মনসিংহ জেলার চোরখালী গ্রামের মইজউদ্দিনের ছেলে হুমায়‚ন (৩৫) ও কুমিল্লা জেলার তিতাস উপজেলার ইদারচর গ্রামের সেলিম মিয়ার ছেলে দুলাল (২৫)।

গোপালগঞ্জ সদর থানার এসআই মিজানুর রহমান জানান, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঢাকার মহাখালীর ‘জিসার ইন্টারন্যাশনাল’ হোটেলে অভিযান পরিচালনা করে বনানী থানা ও গোপালগঞ্জ সদর থানা পুলিশ। এ সময় ওই হোটেলের একটি কক্ষ থেকে ৩৪টি কম্পিউটার উদ্ধার করা হয়।

এ সময় হুমায়ুন ও দুলাল নামে দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়। এ ঘটনার সঙ্গে আটককৃতরা জড়িত আছে বলে পুলিশ ধারনা করছে। গ্রেফতারকৃতদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হোটেল ব্যবসায়ী গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার গোপীনাথপুর ইউনিয়নের পলাশ শরীফসহ একটি চক্র বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার চুরির সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে জানাগেছে। এ ঘটনার পর থেকে পলাশ শরীফ পলাতক রয়েছে। তাকে গ্রেপ্তারের জন্য চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও জানান ওই পুলিশ কর্মকর্তা। তিনি আরো জানান, উদ্ধারকৃত কম্পিউটারসহ আটককৃতদের গোপালগঞ্জ আনার প্রক্রিয়া চলছে।

গোপালগঞ্জ সদর থানার ওসি মোঃ মনিরুল ইসলাম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার চুরি ঘটনায় তদন্ত চলমান রয়েছে। ইতিমধ্যে দুই জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকীদেরও দ্রæততম সময়ে গ্রেফতার করা হবে।

ঈদের ছুটির মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির পেছন দিকের জানালা ভেঙে ৪৯টি কম্পিউটার চুরির ঘটনা ঘটে। প্রথমে ৯১ টি কম্পিউটার চুরি যাওয়ার কথা বললেও পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানান ৪৯ টি চুরি গেছে। এ ঘটনায় গত ১০ অগাস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্টার ড. প্রফেসর ন‚রউদ্দিন আহমেদ বাদী হয়ে গোপালগঞ্জ সদর থানায় একটি মামলা করেন। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ৭ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেন। একই সাথে ১৯ নিরাপত্তা প্রহরীকে কারণ দর্শানো নোটিশ দিয়েছে। এর আগে তিন দফায় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শতাধিক কম্পিউটার চুরির ঘটনা ঘটে।

বিশ্ববিদ্যালয় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রধান আব্দুল কুদ্দুস মিয়া বলেছেন, তদন্ত কমিটি কাজ শরু করেছে। নির্দিষ্ট সময়ে মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হবে। কিন্তু তদন্তের স্বার্থে আমরা এখনই কিছু বলথে পারছি না।