বশেমুরবিপ্রবির ভিসির পদত্যাগের আন্দোলনে আ’লীগের সংহতি প্রকাশ

প্রকাশিত: ৫:১৫ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২২, ২০১৯ | আপডেট: ৫:৩৯:অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২২, ২০১৯
ছবি: টিবিটি

গোপালগঞ্জ সংবাদদাতা: গোপালগঞ্জ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্বাবিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. খোন্দকার নাসিরউদ্দিনের পদত্যাগের এক দফা দাবীতে চলমান আন্দোলনের চতুর্থ দিনে জেলা আওয়ামী লীগ ও সহযোগি সংগঠনের নেতৃবৃন্দ শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছেন।

রবিবার দুপুরে জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান চৌধুরী এমদাদুল হকের নেতৃত্বে জেলা আওয়ামী লীগ ও সহযোগি সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ক্যাম্পাসে এসে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদেও সাথে সংহতি প্রকাশ করেন।

পরে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখেন, জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান চৌধুরী এমদাদুল হক, সাধারন সম্পাদক মাহাবুব আলী খান ও জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আব্দুল হামিদ।

জেলা আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ বলেন, আমরা মনে করি এটা শিক্ষার্থীদের ন্যায্য আন্দোলন। তাই আমরা তাদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করতে ক্যাম্পাসে এসেছি। আশা করবো শিক্ষার্থীরা কোন হিংসাত্মক আন্দোলন করবে না। শান্তিপ‚র্ণভাবে তাদের আন্দোলন করবে।

এ সময় জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি শেখ রুহুল আমিন, গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও পৌর মেয়র কাজী লিয়াকত আলী লেকু, সাধারন সম্পাদক রফিকুল ইসলাম মিটু, জেলা যুব লীগের সভাপতি জি.এম সাহাবউদ্দিন আযম, সাধারন সম্পাদক এমবি সাইফ, টুঙ্গিপাড়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সোলায়মান বিশ্বাস, টুঙ্গিপাড়া পৌর আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক শেখ তোজাম্মেল হোসেন টুটুল।

প্রসঙ্গত, গত ১১ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী ও ক্যাম্পাস সাংবাদিক ফাতেমা তুজ জিনিয়াকে সাময়িক বহিষ্কার করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

বুধবার বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ওই ছাত্রীর বহিষ্কারাদেশ তুলে নেন। বৃহস্পতিবার থেকে শিক্ষার্থীরা ভিসির বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতা, অনিয়ম, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতিসহ নানা অভিযোগ এনে তাঁর পদত্যাগের দাবীতে এক দফা আন্দোলন কর্মস‚চি ঘোষণা করেন এবং সে অনুযায়ী শিক্ষার্থীরা তাদের আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে।

যে সকল কারনে বশেমুরবিপ্রবি ভিসির পদত্যাগ চায় শিক্ষার্থীরা: গোপালগঞ্জ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্বাবিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. খোন্দকার নাসির উদ্দিনের বিরুদ্ধে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল নির্মান কাজ শুরুর আগেই আড়াই কোটি টাকার নির্মান ব্যায় দেখানো হয়েছে, ভিসি কোটার নামে অসংখ্য ভর্তি বানিজ্য এবং ভর্তি জালিয়াতি, অনৈতিকভাবে অযোগ্য বিএনপি ও জামাতপন্থী শিক্ষক নিয়োগ, বিগত ছয়মাসে অনৈতিকভাবে জিনিয়াসহ মোট ২২ শিক্ষার্থীকে শোকজ এবং ৮ জনকে সামান্য কারনে বহিষ্কার করা হয়েছে, অভিভাববক ডেকে এনে অপমান এবং ফলাফল অর্ঘ্য এর আত্মহক্যা, বিশ্ববিদ্যালয়ের বয়স ৮ বছর পেরিয়ে গেলেও স্থায়ী কোন শহীদ মিনার নেই, এখনো কাঠের শহীদ মিনার দিয়েই চালানো হচ্ছে, বিএনপিপন্থী ও দুর্নীতিবাজ ভিসি বাকৃবিতে বিএনপি মনোনীত সোনালী দলের হয়ে শিক্ষক সমিতির নির্বাচন, অতিরিক্ত ভর্তি ফি,সেমিষ্টার ফি এবং বিভাগীয় উন্নয়ন ফি এর নামে জালিয়াতি, চাকুরির প্রলোভন দেখিয়ে ঝিলিক নামের আ্য়াকে অন্ত:স্বত্বা করা এবং আরো অনেক নারী কেলেঙ্কারীর সাথে জড়িত থাকা যা বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রকাশ পাওয়া, শিক্ষার্থীদেও সাথে অশোভন আচরন, ভিসি ভবনে বিউটি পার্লার করে নারী কেলেঙ্কারী, বৃক্ষরোপনের নামে কোটি টাকা আত্মসাৎ, ২ কোটি টাকার গোবর ক্রয়ের নামে দুর্নিতী, শিক্ষার্থীদের মত প্রকাশে বাধা, বাক স্বাধীনতা হরন এবং ভিসির একচেটিয়া ক্ষমতার অপব্যবহার, শিবচর ক্যাম্পাস নিয়ে কোটি টাকার দুর্নিতী, এছাড়াও আরো শতাধিক অনিয়ম, দূর্নিতী, জালিয়াতি ও নারী কেলেঙ্কারীর সাথে ভিসি জড়িত থাকার কারনে শিক্ষার্থীরা ভিসির অপসারন চেয়ে আন্দোলন কর্মসূচী চালিয়ে যাচ্ছে বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।