বসনিয়ায় বাংলাদেশিসহ হাজারো অভিবাসীর মানবেতর জীবন

টিবিটি টিবিটি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ৩:৪১ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২০ | আপডেট: ৩:৪১:অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২০

বসনিয়ায় বাংলাদেশিসহ কয়েক হাজার অভিবাসী খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবন যাপন করছে। এরমধ্যে অনেকে চিকিৎসা ও খাদ্য সংকটে রয়েছে। তীব্র শীত পড়ার আগেই অভিবাসী ও শরণার্থীদের জন্য যৌক্তিক সমাধানের পথ খুঁজতে বসনিয়া কর্তৃপক্ষকে আহ্বান জানিয়েছে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা।

ভাগ্য বদলের আশায় ইতালিসহ ইউরোপের দেশে পাড়ি জমানোর স্বপ্ন দেখেছিলেন এসব বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের অভিবাসন প্রত্যাশীরা। তবে বসনিয়ায় আটকা পড়ে সে আশা ধুলোয় মিশেছে। জঙ্গলে খোলা আকাশের নিচে কোনো রকমে তাবু তৈরি করে ঠাঁই নিয়েছেন বাংলাদেশি বিলাল, আমিন হাসানসহ বিভিন্ন দেশের কয়েক হাজার অভিবাসন প্রত্যাশী।

একে তো করোনা, তার ওপর তীব্র শীত। চিকিৎসা ও খাদ্য সংকটসহ নানা সমস্যায় মানবেতর দিন পার করছেন বসনিয়ায় আটকা পড়া এসব শরণার্থী।

বসনিয়ায় আটকা পড়া বাংলাদেশি বিলাল জানান, ‘আমি ভালো একটা ভবিষ্যৎ চাই। কিন্তু ক্রোয়েশিয়া পার হওয়া সহজ নয়। পুলিশ আমাদের শরণার্থী শিবিরে থাকতে দেয়নি। মানুষ জঙ্গলের মধ্যে যেখানে পারছে সেখানে ঘুমাচ্ছে’।

আমিন হাসান বলেন, ‘ভাগ্য বদলের আশায় আমি ইতালি যেতে চাই। কিন্তু পরিস্থিতি একদমই অনুকূলে নেই। শীত চলে আসছে, এরমধ্যেই মানুষজন তাবুতে থাকছে। শীতের কারণে আমরা ভালো মতো ঘুমাতেও পারি না’।

তীব্র শীত পড়ার আগেই দেশটির অভিবাসীদের বিষয়ে যৌক্তিক সমাধানের জন্য বসনিয়াকে সতর্ক করেছেন আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার প্রধান। ইউরোপীয় ইউনিয়নের তহবিলে বসনিয়ার শরণার্থী শিবিরগুলো আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা চালিয়ে আসলেও অনেক জায়গায় স্থানীয়রা তাদেরকে প্রবেশ করতে দিচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন তিনি।

আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার প্রধান পিটার ভ্যান ডার আউয়ারায়েত বলেন, ‘অভিবাসন সমস্যা সমাধানে বসনিয়া-হার্জেগোভিনার কয়েক সপ্তাহ সময় আছে। আবহাওয়া খারাপ হলে এই অভিবাসন সঙ্কট আরো তীব্রতর হবে। সব মিলিয়ে সাড়ে আট হাজার অভিবাসী আছেন। এরমধ্যে ৬ হাজার অভিবাসীকে থাকার ব্যবস্থা রয়েছে। অর্থাৎ আরো প্রায় আড়াই হাজার মানুষ এখন খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবন যাপন করছে’।

অভিবাসীদের নিরাপদ আবাসনের জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়ন বসনিয়াকে ৬ কোটি ইউরো জরুরি তহবিল দিলেও অভিবাসীদের প্রতিশ্রুত সুরক্ষা দিতে না পারায় ক্ষোভ পিটার ভ্যান ডার।

-সময় নিউজ।