বাঁচতে চায় শিশু রাজ

প্রকাশিত: ৭:৩৬ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২০, ২০১৯ | আপডেট: ৭:৩৬:অপরাহ্ণ, আগস্ট ২০, ২০১৯
সংগৃহীত

শিশু রাজের বয়স মাত্র ৮। চাঁদের মতো ফুটফুটে দেখতে এ শিশু ‘ডিএমডি’ রোগে আক্রান্ত। রাজকে বাঁচাতে হাত বাড়িয়ে দিতে সমাজের হৃদয়বান ব্যক্তিদের কাছে আবেদন জানিয়েছেন তার পরিবার।

নিষ্পাপ এ শিশুটা তার বাবার একমাত্র সন্তান। এই শিশু বয়সে যার কিনা খেলাদুলা, পড়ালেখা ও দুরন্তপানা নিয়ে ব্যস্ত থাকার কথা সে আজ বিছানায় শুয়ে মৃত্যর প্রহর গুণছে।

জন্মের পর প্রথম পাঁচ বছরে সে অন্যসব শিশুদের মতোই হাঁটাচলা করতে পারত। কিন্তু কঠিন এ রোগে সে আজ নিথর পাথরে পরিণত হয়েছে। অথচ সে জানেই না তার কি রোগ হয়েছে। কেবলমাত্র মায়াবী দু’চোখে মা-বাবা’র দিকে তাকিয়ে থাকে শিশু রাজ। আর সন্তানের এমন করুণ দৃশ্যে বুক ফেটে যায় বাবার। তবে কি টাকার অভাবে বিনা চিকিৎসায় হারাতে হবে একমাত্র সন্তানকে।

শিশু রাজের বাবা রিয়াজুল ইসলাম, মা কলি আক্তার। গ্রামের বাড়ি মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার ভাণ্ডারীকান্দি ইউনিয়নের ক্রোকচর গ্রামে। বাবা পাঁচ্চর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের উপ-সহকারী কর্মকর্তা। মা গৃহিনী। রাজ তাদের একমাত্র সন্তান।

রাজ জন্মের পাঁচ বছর পরে হঠাৎ করে স্বাভাবিকভাবে হাঁটাচলায় প্রতিবন্ধকতা দেখা দেয়। সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দিয়ে রাজের চিকিৎসা শুরু হয়। কিন্তু তার শরীরের কোনো উন্নতি হয়নি। পরে রাজকে নিয়ে যাওয়া হয় ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যের খ্রিস্টান মেডিক্যাল কলেজে। দেখানো হয় বিশেষজ্ঞ ডাক্তারদের।

পরীক্ষা-নিরীক্ষায় ধরা পরে ডিএমডি রোগ। তামিলনাড়ু রাজ্যের খ্রিস্টান মেডিক্যাল কলেজের চিকিৎসায় কিছুটা উন্নতি হয়। চিকিৎসকদের পরামর্শে ছয় মাস পর পর ভারতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসার পরেও ডিএমডি রোগের কারণে রাজের দুই পা শুকিয়ে বাঁকা হয়ে যাচ্ছে। এখন তার হাঁটাচলা তো দূরের কথা দু‘পায়ে ভর করে দাঁড়াতেও পারছে না।

ভারতীয় ডাক্তাররা বলেছেন, এ রোগের কারণে রাজের অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ধীরে ধীরে অকেজো হয়ে যেতে পারে। তাই সন্তানের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে রাজের বাবা রিয়াজুল ইসলাম চীনের বেইজিং পুহুয়া ইন্টারন্যাশনাল হসপিটালের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তিনি জানতে পারেন সেখানে এ রোগের চিকিৎসা করানো হয়। তাই তিনি ওই হসপিটালে রাজের চিকিৎসার আবেদন করলে কর্তৃপক্ষ জানান, এটা অত্যন্ত ব্যয়বহুল। তাতে বাংলাদেশের প্রায় ২৫ লাখ টাকার প্রয়োজন।

বাংলাদেশ ও ভারতে বিপুল অংকের টাকা ব্যয় করে সন্তানের চিকিৎসা করানোর পর তিনি এখন নিঃস্ব। এতো বিপুল অংকের টাকা ব্যয় করে সন্তানের চিকিৎসা করানো তার পক্ষে মোটেই সম্ভব নয়। এ অবস্থায় প্রাণপ্রিয় সন্তানের চিকিৎসার জন্য তার বাবা দেশবাসী ও সহকর্মীদের কাছে সাহায্যের জন্য আকুল আবেদন জানিয়েছেন।

শিশুটিকে বাঁচাতে সাহায্য পাঠানোর ঠিকানা- মো. রিয়াজুল ইসলাম, ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা, পাঁচ্চর, শিবচর, মাদারীপুর। সঞ্চয়ী হিসাব নম্বর সোনালী ব্যাংক, ২১১৬২০১০৪৫৩৬৬, শিবচর শাখা, মাদারীপুর। বিকাশ ও মোবাইল নম্বর : ০১৭১৮১৩৮১৪৯।