বাঁশখালীর ঘটনায় ২টি মামলা, ২টি তদন্ত কমিটি গঠন, নিহতদের ৩ লক্ষ, আহতদের ৫০ হাজার টাকা প্রদানের ঘোষণা

এস. এম. আকাশ এস. এম. আকাশ

ব্যুরো চিফ,চট্টগ্রাম

প্রকাশিত: ৯:৩০ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১৮, ২০২১ | আপডেট: ৯:৩০:অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১৮, ২০২১

চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার গন্ডামারায় এসএস পাওয়ার প্ল্যান্টে সংঘটিত নিহত ও আহত হওয়ার ঘটনায় চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন ও চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে দু’টি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে, অপরদিকে, ঘটনায় নিহতের প্রতিটি পরিবারকে নগদ ৩ লক্ষ টাকা এবং আহতদের ৫০ হাজার টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে বলে জানান চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মমিনুর রহমান।

বাঁশখালীর গণ্ডামারার এসএস পাওয়ার প্ল্যান্টে পুলিশ-শ্রমিক সংঘর্ষে ৫ জন নিহতের পর ঘটনার দিন বিকেলে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মমিনুর রহমান ও চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আনোয়ার হোসেন বাঁশখালীর গণ্ডামারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

শনিবার রাতে সর্বশেষ পরিস্থিতির ব্যাপারে এসএস পাওয়ার প্ল্যান্টের সমন্বয়কারী আদিল বিল্লাহ আদিল বলেন, শ্রমিকদের যে সব দাবি ছিল তা অনেকটা মেনে নেওয়া হয়েছে, তারপরেও তারা পরিকল্পিতভাবে চীনা নাগরিকদের ওপর হামলা এবং প্রকল্পের মালামাল পুড়িয়ে দেয় ও লুটপাট চালায়। স্থানীয় জনগণের ইন্ধনে চীনা নাগরিকদের ওপর হামলা ঠেকাতে প্রশাসন এমনটা করেছে। এখানে এ ঘটনায় প্রশাসন সর্বাত্মক ও যথাযথ ব্যবস্থা নেবে বলে জানান তিনি।

ঘটনাস্থল পরিদর্শনকালে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মমিনুর রহমান বলেন, ঘটনা তদন্তে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সুমনী আক্তারকে প্রধান করে ৪ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কবির আহম্মেদ, কল-কারখানা অধিদফতর চট্টগ্রামের লেবার পরিদর্শক মাসুদ রানা, বিদ্যুৎ বিভাগ চট্টগ্রামের সহকারী প্রধান প্রকৌশলী অভিজিৎ কুরি। কমিটিকে আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়।

এসময় নিহত পাঁচ শ্রমিকের প্রত্যেকজনের পরিবারকে নগদে ৩ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ ও আহতদের চিকিৎসায় ৫০ হাজার টাকা করে সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দেন জেলা প্রশাসক।

একইভাবে, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আনোয়ার হোসেন ওভার ফোনে “দি বাংলাদেশ টুডে” কে বলেন, পাঁচজন নিহতের ঘটনায় চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির প্রধান করা হয়েছে অতিরিক্ত ডিআইজি জাকির হোসেন কে। এছাড়া অন্য দুই সদস্য হলেন পুলিশ সুপার নেছার আহমেদ এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কবির হোসেন। এ কমিটিকে আগামী ৭ কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

সংঘটিত ঘটনায় এপর্যন্ত দুটি মামলা এজাহার ভুক্ত হয়েছে বলে “দি বাংলাদেশ টুডে” কে জানিয়েছেন বাঁশখালী থানার অফিসার্স ইনচার্জ, ওসি মোহাম্মদ শফিউল কবির, তিনি আরও জানান পুলিশ বাদী হয়ে অজ্ঞাত নামা দুই আড়াই হাজার শ্রমিক কে আসামি করে এবং এসএস পাওয়া প্ল্যান্ট বাদী হয়ে ২২ জন শ্রমিক কে সরাসরি আসামি এবং অজ্ঞাত আরও ১ হাজার ৫০ জন শ্রমিক কে আসামি করে মামলা দায়ের করেন।