বাঁশের তৈরি ব্যাট নিয়ে ‘হইচই’ থামিয়ে দিল এমসিসি

টিবিটি টিবিটি

স্পোর্টস ডেস্ক

প্রকাশিত: ৯:০১ অপরাহ্ণ, মে ১১, ২০২১ | আপডেট: ৯:০১:অপরাহ্ণ, মে ১১, ২০২১

মেরিলিবোর্ন ক্রিকেট ক্লাব (এমসিসি) ক্রিকেটের আইন প্রণয়নকারী সংস্থা। সম্প্রতিক ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের বাঁশের তৈরি ব্যাট নিয়ে বেশ শোরগোল তৈরি হয়েছে। বাঁশের তৈরি এ ব্যাট আইন অনুযায়ী নিষিদ্ধ বলে জানিয়েছে এমসিসি।

কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের এই গবেষণায় বলা হয়েছে, বাঁশের তৈরি ব্যাট সুবিধা বাড়াবে ব্যাটসম্যানদের। তারা আরও সহজে চার-ছক্কা হাঁকাতে পারবেন বোলারকে। এছাড়া বাঁশের ব্যাট সাশ্রয়ী বলেও উল্লেখ করেছেন গবেষক দার্শিল শাহ এবং বেন টিঙ্কলার-ডেভিস।

দার্শিলের দাবি, ‘বাঁশের ব্যাটে ‍সুইট স্পট (ব্যাটের যেখানে লাগলে চার-ছক্কা সহজে হয়) এতটাই বেশি যে, ইয়র্কারেও সহজে চার-ছক্কা মারা যায়। সব ধরনের শট বেরিয়ে আসে এই বাঁশের ব্যাট থেকে। ফলে নবাগতরা এই ব্যাট ব্যবহার করতেই পারেন।’

ব্রিটিশ এক সংবাদমাধ্যম খুঁজে বের করেছে বাঁশের ব্যাটের আরেক উপকারিতা। সেখানে লেখা হয়েছে, ‘ইংলিশ উইলোর সরবরাহ কমে আসছে। একটা গাছ রোপণের পরে তা থেকে ব্যাট পেতে ১৫ বছর সময় লাগে। তাও আবার ব্যাট প্রস্তুতের সময় একটি গাছের কাঠের ১৫ থেকে ৩০ শতাংশ অপচয় হয়।’

বাঁশের ব্যাটের উপকারিতা তুলে ধরে দার্শিল আরও বলেন, ‘বাঁশ অনেক সস্তা। পাওয়া যায় প্রচুর। দ্রুত বাড়ে এবং টেকসই। বাঁশ গাছ রোপণের পরে সেখান থেকে ব্যাট প্রস্তুত করা যায়, সাত বছরের মধ্যেই। চিন, জাপান, দক্ষিণ আমেরিকার বিভিন্ন দেশে তাই এখন বাঁশের ব্যাটই ব্যবহৃত হচ্ছে।’

বাঁশের তৈরি ব্যাটকে কাঠের তৈরি ব্যাটের চেয়ে বেশি শক্ত ও মজবুত বলে উল্লেখ করা হয়েছে গবেষণাপত্রে। অবশ্য এই গবেষকদ্বয়ের সব উৎসাহে পানি ঢেলে দিচ্ছে মেরিলিবোন ক্রিকেট ক্লাবের (এমসিসি) অভিমত। তারা এই ব্যাটকে অনুমোদন দেওয়ার পক্ষে নয়।

ক্রিকেটের আইনপ্রণেতা হিসেবে খ্যাত এই ক্লাব বলছে, কাঠ ব্যতীত অন্য কিছু দিয়ে তৈরি ব্যাট ক্রিকেটে ব্যবহারের কোনো সুযোগ নেই। তাছাড়া মূলধারার ক্রিকেটে ব্যাটে প্রলেপ ব্যবহারের সুযোগও নেই, যা থাকবে বাঁশের তৈরি ব্যাটে। আর ব্যাট বলের লড়াইয়ে সমতা ধরে রাখার বিষয়টি তো আছেই। তবুও এ নিয়ে পরবর্তী আইন উপ-কমিটির সভায় আলোচনার আশ্বাস দিয়েছে এমসিসি।