বাংলাদেশে টিকা উৎপাদনের সম্ভাব্যতা খতিয়ে দেখছে যুক্তরাষ্ট্র

প্রকাশিত: ৮:২১ অপরাহ্ণ, মে ১৭, ২০২১ | আপডেট: ৮:২২:অপরাহ্ণ, মে ১৭, ২০২১
মার্কিন রাষ্ট্রদূত আর্ল রবার্ট মিলার ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশি ওষুধ কোম্পানিগুলোতে মার্কিন টিকা তৈরির সম্ভাবনাগুলি খতিয়ে দেখছে।

ঢাকাস্থ মার্কিন রাষ্ট্রদূত আর্ল রবার্ট মিলার সোমবার (১৭ মে) পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলমের সঙ্গে তার কার্যালয়ে সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এসব জানান।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ও মার্কিন রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের তাৎক্ষণিক চাহিদা পূরণের জন্য টিকা সরবরাহের বিষয়টিসহ কোভিড-১৯ মহামারি মোকাবিলায় দু’দেশের মধ্যে চলমান সহযোগিতা নিয়েও আলোচনা করেন।

রাষ্ট্রদূত জানান, তার সরকার এটি নিয়ে কাজ করছে এবং তিনি আমেরিকা থেকে ভ্যাকসিন বিতরণে দক্ষিণ এশিয়াকে একটি আঞ্চলিক ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করার পরামর্শ দিয়েছেন বলে জানান।

তারা বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের মানবিক বিষয়কে সামনে রেখে বার্ষিক যৌথ প্রতিক্রিয়া পরিকল্পনা (জেআরপি) চালু করা, ফিলিস্তিন ও ইসরায়েলের সংঘাত ছাড়াও বিভিন্ন বৈশ্বিক ও দ্বিপক্ষীয় ইস্যুতে মতবিনিময় করেন।

মার্কিন রাষ্ট্রদূত জানান, রোহিঙ্গাদের জন্য যুক্তরাষ্ট্র আবার জেআরপিতে সবচেয়ে বেশি অবদান রাখবে। আগামীকাল কার্যত এটি চালু হবে এবং সহ-সভাপতিত্ব করবেন প্রতিমন্ত্রী মো. শরিয়ার আলম। তিনি বলেন, বাস্তুচ্যুত জনগণের বোঝা বহন করতে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে সমর্থন অব্যাহত রাখবে।

রোহিঙ্গাদের টেকসই প্রত্যাবাসন বাংলাদেশের অগ্রাধিকার বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি ভাসানচরে স্থানান্তরিত বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের জন্য আন্তর্জাতিক সমর্থন পাওয়ার ওপরও জোর দেন।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী চলমান ফিলিস্তিন ও ইসরায়েলের মধ্যে দ্বন্দ্ব নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং জাতিসংঘের সুরক্ষা কাউন্সিলকে এই বিষয়টি ব্যবস্থা গ্রহণ করা দরকার বলে বাংলাদেশের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন। সম্প্রতি ওআইসির কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ দাবিই করেছেন। তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে অবিলম্বে রক্তপাত বন্ধে সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি দ্বি-রাষ্ট্রীয় সমাধানের জন্য বাংলাদেশের সমর্থনকেও পুনর্ব্যক্ত করেন।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা করতে যেতে ইচ্ছুক বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের সময়োপযোগী ভিসা সহজ করার অনুরোধ করেন। কারণ বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন। মার্কিন রাষ্ট্রদূত আশ্বাস দেন লকডাউন পরিস্থিতি দ্বারা সৃষ্ট জটিলতা সমাধানে কাজ করা হবে।