বাংলাদেশেও রেনিটিডিন ট্যাবলেট বিক্রি নিষিদ্ধ

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: 4:45 PM, September 29, 2019 | আপডেট: 4:51:PM, September 29, 2019

বিশ্বের শীর্ষ ওষুধ প্রস্তুতকারী ব্রিটিশ সংস্থা গ্ল্যাক্সোস্মিথক্লাইন (জিএসকে) গ্যাস্ট্রিকের চিকিৎসায় একসময় বহুল সেবনকৃত রেনিটিডিন ট্যাবলেটে ক্যান্সার সৃষ্টিকারী উপাদানের উপস্থিতির কারণে বিশ্ববাজার থেকে ওষুধটি তুলে নেয়ার ঘোষণার পর এবার বাংলাদেশেও ওষুধটির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে ওষুধ প্রশাসন অধিদফতর।

বাংলাদেশের বাজারে রেনিটিডিন ওষুধের কাঁচামাল আমদানি, উৎপাদন ও বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে ওষুধ প্রশাসন অধিদফতর। এ ব্যাপারে সোমবার জাতীয় দৈনিকে গণবিজ্ঞপ্তি জারি হবে।

আজ (রোববার) রাজধানীর মহাখালীতে ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরের সভাকক্ষে বাংলাদেশ ওষুধ শিল্প সমিতির নেতাদের সঙ্গে আলোচনা ক্রমে এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মাহবুবুর রহমান গণমাধ্যমকে জানান, দেশের মানুষের স্বাস্থ্যসেবার কথা বিবেচনায় নিয়ে বাংলাদেশ শিল্প সমিতির নেতাদের সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনা শেষে রেনিটিডিন ওষুধের কাঁচামাল আমদানি উৎপাদন ও বিক্রির ওপর সাময়িক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

তিনি জানান, বর্তমানে বাংলাদেশের ৩১টি ওষুধ কোম্পানি প্রতিবেশী দেশ ভারতের ফারাক্কা নামক একটি কোম্পানি থেকে রেনিটিডিন ট্যাবলেটের কাঁচামাল আমদানি করে। এছাড়া ডক্টর রেড্ডি নামক আরেকটি কোম্পানির কাঁচামাল আমদানির জন্য ব্ল্যাকলিস্টে তালিকাভুক্ত থাকলেও সেখান থেকে এখনো আমদানি করা হয়নি। জনস্বার্থ বিবেচনায় এ দুটি কোম্পানি থেকে রেনিটিডিনের কাঁচামাল আমদানি নিষিদ্ধ করা হয়। এছাড়া ওই কোম্পানি থেকে আমদানিকৃত কাঁচামাল দিয়ে নতুন করে কোনো রেনিটিডিন উৎপাদন করা যাবে না। শুধু তাই নয়, বাজার থেকে কোম্পানিগুলো স্ব-উদ্যোগে রেনিটিডিন ট্যাবলেট প্রত্যাহার করে নেবে।

দুই সপ্তাহ আগে যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন সংস্থা (এফডিএ) ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রাথমিক পরীক্ষায় বেশ কিছু ব্র্যান্ডের রেনিটিডিনের মধ্যে এনডিএমএর উপস্থিতি পাওয়ার পর সতর্কতা জারি করা হয়।

তখন এই ওষুধের কোনো ব্র্যান্ডের মধ্যে এনডিএমএর ক্ষতিকর মাত্রা নিশ্চিত না হলেও সতর্কতা হিসেবে কানাডা, ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকটি কোম্পানি রেনিটিডিন সরবরাহ বন্ধ করার ও বাজার থেকে তুলে নেওয়ার ঘোষণা দেয়।

যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন স্বাস্থ্য সেবাদাতা ও রোগীদের উদ্দেশ্যে এক সতর্কবার্তায় বলেছে, উচ্চমাত্রার এনডিএমএর উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়ার পর স্যান্ডোজ তাদের তৈরি দুই মাত্রার রেনিটিডিন ক্যাপসুলের (১৫০ ও ৩০০ মিলিগ্রাম) ১৪টি লট বাজার থেকে স্বেচ্ছায় তুলে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।

এর বাইরে অন্য কোনো রেনিটিডিন যুক্তরাষ্ট্রের বাজার থেকে এখনও প্রত্যাহার হয়নি। দুই সপ্তাহ আগে সতর্ক করার পর, স্যান্ডোজ তাদের সব ধরণের রেনিডিটিন ওষুধ বাজারে সরবরাহ বন্ধ রেখেছে বলে জানিয়েছে এফডিএ।

সংস্থটি বলছে, স্যান্ডোজের ক্যাপসুল ছাড়া অন্য রেনিটিডিন জাতীয় ওষুধ সেবনে এখনই তারা বারণ করছেন না। তবে কেউ চাইলে চিকিৎসকের পরামর্শে অন্য কোনো কোম্পানির রেনিটিডিন সেবন করতে পারেন।