বাংলাদেশ ছাড়া উন্নত বিশ্বে ছাত্ররাজনীতির চর্চা হয় কি?

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৮:৫৯ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৩, ২০১৯ | আপডেট: ৮:৫৯:অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৩, ২০১৯
মো. নাজমুল হোসাইন

ছাত্ররাজনীতি কি শুধু বাংলাদেশেই? বিশ্বের বড় বড় সভ্য, উন্নত দেশগুলোতে কি ছাত্ররাজনীতির চর্চা হয় না?

হ্যাঁ, সেখানেও ছাত্ররাজনীতি ব্যপকভাবে চলে। সেখানকার ছাত্রসংগঠন গুলো অনেক পুরনো এবং বহু প্রথিতযশা রাজনীতিবীদ এবং গুণী ব্যাক্তিদের প্রোডিউসার।

কলেজ রিপাবলিকান অব আমেরিকা(১৮৯২) এবং কলেজ ডেমোক্র‍্যাট অব আমেরিকা(১৯৩২) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান শক্তিশালী চির প্রতিদ্বন্দ্বী দুইটি রাজনৈতিক ছাত্রসংগঠন।

কলেজ রিপাবলিকান অব আমেরিকা দীর্ঘ ১২৭ বছর হলো রেপুটেডলি তাদের মাদার পার্টি রিপাবলিকান পার্টির সাথে রাজনীতি করে আসছে। বর্তমানে তারা ক্ষমতাসীন। আমেরিকার সাবেক প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকন সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা।

পরবর্তীতে কলেজ রিপাবলিকান এর বেশ কয়েকজন ছাত্রনেতা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হয়েছিলেন। এছাড়াও উচ্চ এবং মধ্যম সারির ভুরি ভুরি নেতা ও জনপ্রতিনিধির জন্মদাতা এই কলেজ রিপাবলিকান।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে হেরে যাওয়া নেত্রী হিলারি ক্লিনটন ছাত্রজীবনে কলেজ রিপাবলিকান এর সক্রিয় কর্মী ছিলেন। পরবর্তীতে ভিয়েতনাম যুদ্ধ কে কেন্দ্র করে আদর্শের ভিন্নতা থাকায় রিপাবলিকান স্টুডেন্ট উইং ছেড়ে ডেমোক্র্যাটিক রাজনীতির সাথে যুক্ত হয়েছেন।

পক্ষান্তরে কলেজ ডেমোক্র্যাটদের বয়স মাত্র ৮৭ বছর এবং এই ৮৭ বছর ধরেই তারা তাদের মাদার পার্টি ডেমোক্রেটিক পার্টির সাথে রাজনীতি করছে।

মার্কিনী এইসব ছাত্র সংগঠনগুলোর মূল কাজ মূলত তাদের মাদার পার্টির ইলেকশন ম্যানিফেস্টো, আইডিওলজি ইত্যাদি সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপকভাবে প্রচার করা। নির্বাচনি ফান্ড কালেকশনেও তারা গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করেন। পেইড এজেন্টের মাধ্যমে তারা তাদের সংগঠনের নেতাকর্মীদের জন্য বিভিন্ন রকমের সেমিনার, ট্রেইনিং প্রোগ্রামের মাধ্যমে কর্মীদের দক্ষ করে গড়ে তোলেন।

বছরের বাকি সময়গুলোতে পজিটিভ মিডিয়া এটেনশন আর্ন করার জন্য বিভিন্ন রকমের সোস্যাল এক্টিভিটিস পারফর্ম করেন।

কেন্দ্রীয় কমিটি, স্টেট ফেডারেশন, বিশ্ববিদ্যালয় এবং কলেজ শাখায় এদের কার্যক্রম ব্যাপকভাবে লক্ষণীয়। কলেজ ডেমোক্র্যাট তো স্কুল শাখায়ও তাদের কার্যক্রম চালাচ্ছে।

কমিউনিস্ট ইয়ুথ লীগ অব চায়না (১৯২২) চায়নার ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টির ইয়ুথ উইং। ১৪ থেকে ২৮ বছর বয়সের যে কেউ এই সংগঠনের সাথে রাজনীতি করতে পারে।

এর বর্তমান সদস্য সংখ্যা ১০৯ মিলিয়ন। এর মধ্যে ৫৯.৯ শতাংশ সদস্য স্টুডেন্ট। প্রতি ৫ বছর পর পর ন্যাশনাল কংগ্রেসের মাধ্যমে এদের নতুন কমিটি নির্বাচন করা হয়।

এপ্রিল ২০১৯ এ “Down to the Countryside” শিরোনামে চায়নার কলেজ লেভেলের ১ মিলিয়ন শিক্ষিত তরুণ কে ২০২২ সালের মধ্যে গ্রাম পর্যায়ে বিভিন্ন কাজে পাঠাতে উদ্ধুদ্ধ করতে তাদের কর্মসূচি প্রণয়ন করেছে। কমিউনিস্ট ইয়ুথ লীগ অব চায়নার এই কার্যক্রম টি পুরো চায়নাব্যাপী সাধারণ মানুষের নিকট ব্যাপক জনপ্রিয়। মূলত, এটি তাদের পুরনো মুভমেন্ট “Up to the mountains, Down to the countryside” এর আধুনিক সংস্করণ।

রাশিয়া প্রজাতন্ত্রের বর্তমান ক্ষমতাসীন দল ইউনাইটেড রাশিয়ার স্টুডেন্ট উইং এর নাম ইয়াং গার্ড অব ইউনাইটেড রাশিয়া(২০০৫)। রাশিয়াতে এদের ৮৫ টি শাখা ইউনিট এবং প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার সদস্য রয়েছে।

ইয়ং গার্ড প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল রাশিয়ান যুবকদের একত্রিত করা এবনং তরুণদের রাশিয়ার সামাজিক-রাজনৈতিক জীবনে জড়িত করার জন্য।

সংগঠনটি দশটি লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে,
স্বেচ্ছাসেবক, ইয়ুথ ইলেকটোরাল ক্যাম্পেইন, হেলদি ন্যাশন, অ্যাক্সেসিবল এনভায়রনমেন্ট, ইনোভ্যাটর, স্ট্রিট এনার্জি,’আমার ইতিহাস’, ‘আমার অঞ্চল’, যুব সংসদীয়তা, যুব ফেডারেল অ্যাসেম্বলি, সেনসেস ফ্যাক্টরি।

মজার ব্যাপার হলো, এসব ছাত্রসংগঠন এবং ছাত্র নেতাদের সেদেশের মিডিয়া পজিটিভ ইমেইজ তৈরিতে পারলে সম্ভবমত সহোযোগিতা প্রদান করে। কখনোই চরিত্রহনন কিংবা নেগেটিভ ইমেজ তৈরির জন্য লেগে থাকে না।

সোস্যাল স্ট্যান্ডার্ড এবং ইকোনমিক কন্ডিশনে আমেরিকা, রাশিয়া এবং চীনের চেয়ে আমরা যোজন যোজন পিছিয়ে থাকলেও রাজনৈতিক কলাকৌশল এবং ইতিবাচক কর্মসূচি নির্ধারণে আমরা অবশ্যই তাদের অনুসরণ করতে পারি।

প্রশ্ন হলো, আমাদের দেশের প্রেক্ষিতে ছাত্রসংগঠনগুলো কিভাবে মিডিয়া এবং মাস পিওপল বিশেষ করে সাধারণ শিক্ষার্থীদের পজিটিভ এটেনশন গ্রো করতে পারে?

আমাদের দেশের ছাত্রসংগঠনগুলোর চিন্তাভাবনা মোটামুটি রাজপথ, আন্দোলন-সংগ্রাম, মিছিল-মিটিং এর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে। যুগের চাহিদার সাথে এবং পরিবর্তিত পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে যেটি অনেকসময়ই বেমানান শুধু নয় রীতিমতো বিব্রতকর। জনমনে অসন্তোষ তৈরির পেছনে এই বিষয়টি মারাত্বক প্রভাবক হিসেবে কাজ করে।

পজিটিভ ইমেজ তৈরির জন্য প্রথমেই আমাদের চিন্তা করা উচিত, আমাদের টার্গেটেড পিওপল কারা?

কাদের নিকট আমাদের ইমেজ পজিটিভ করতে হবে?

এবং যাদের নিকট আমরা পজিটিভ ইমেজ তৈরি করতে চাই তারা আসলে কি চায়?

সংশ্লিষ্ট ছাত্রসংগঠনগুলোর থিংক ট্যাংক এসব প্রশ্ন বিবেচনায় এনে তাদের কর্মসূচি প্রণয়ন করলে ছাত্ররাজনীতির নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।

অর্থনৈতিক অবস্থা এবং সামাজিক কাঠামোতে আমরা অল্প কিছুদিন হলো একটু আলোর মুখ দেখতে শুরু করেছি। স্বভাবতই, এরকম অবস্থায় দেশ এবং দেশের মানুষের বিভিন্ন বিষয়ে অভিযোগের কোন শেষ নেই।

অন্ততপক্ষে, রাষ্ট্রের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অরগ্যান মিডিয়ার থেকে (তারা যেরকম আচরণই করুক) আমাদের প্রত্যাশা টা তাদের কাছে একটু বেশিই থাকে। কারণ, তাদেরকে অনেকসময় জাতির বিবেক বলা হয়।
সবসময়ের জন্য তারা জাতির দর্পণ।

আয়নায় যেমন আমরা সবসময় শুধু শরিরের বিকৃত অংশ দেখি না চকচকে এবং সুন্দর অংশ দেখেও তৃপ্ত হই, জাতির আয়না মিডিয়াতেও আমরা ছাত্ররাজনীতির শুধু একটু আকটু ঘা,পঁচা দেখতে চাই না। এগুলোর পাশাপাশি এর সুন্দর-সুশ্রী অংশটুকুও দেখে তৃপ্ত হতে চাই।

লেখকঃ মো. নাজমুল হোসাইন
যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ, জিয়া হল শাখা।

(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। বাংলাদেশ টুডে এবং বাংলাদেশ টুডে-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)