বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে ‘ফাটল’ দেখছে দ্য ইকনোমিস্ট

প্রকাশিত: ৭:২৯ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২০ | আপডেট: ৭:২৯:অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২০

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সাম্প্রতিক সময়ে অন্যতম আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠেছে চীন-ভারত সম্পর্ক। দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে বিরোধের বিষয় নিয়ে কথা হচ্ছে বাংলাদেশেও। এক্ষেত্রে স্বাভাবিকভাবেই উঠে আসছে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে বাংলাদেশ কাকে বেশি গুরুত্ব দেবে সেই প্রশ্ন। যদিও বাংলাদেশ বরাবরই সবার সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কে বিশ্বাসী, তবে বিভিন্ন ইস্যুতে পুরোনো মিত্র ভারতের সঙ্গে কিছুটা দূরত্ব তৈরি হয়েছে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এদিকে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এশীয় পরাশক্তি চীন বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে এই দূরত্বের যথাসম্ভব ফায়দা নেবে।

বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক দুর্বল এবং ধীরে ধীরে চীনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠার বিষয়ে আজ শনিবার যুক্তরাজ্যের ইকোনমিস্ট ম্যাগাজিন ‘অ্যাজ বাংলাদেশ’স রিলেশন্স উইথ ইন্ডিয়া উইকেন, টাইজ উইথ চায়না স্ট্রেংথেন’ শিরোনামে একটি নিবন্ধ প্রকাশ করেছে।

ইকোনমিস্ট শুধু মন্তব্য করেই বসে থাকেনি, তাদের পর্যবেক্ষণের পেছনে সুুনির্দিষ্ট কিছু কারণও ব্যাখ্যা করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারতের সীমান্ত থেকে মাত্র ৫০ কিলোমিটার দূরে সিলেটে একটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নির্মাণের উদ্যোগ নেয় সরকার। সেখানে ভারতের প্রতিষ্ঠানকে হারিয়ে কাজটি বাগিয়ে নেয় চীনা প্রতিষ্ঠান বেইজিং আরবান কনস্ট্রাকশন গ্রুপ।

সাম্প্রতিক সময়ে সবচেয়ে বড় ঘটনাটি ঘটেছে পণ্যের শুল্কমুক্ত সুবিধার ক্ষেত্রে। বাংলাদেশের ৯৭ শতাংশ পণ্য রপ্তানিতে শুল্কমুক্ত সুবিধা দিয়েছে চীন। এ নিয়ে ভারতীয় গণমাধ্যমের উত্তেজনা ছিল চোখে পড়ার মতো। বাংলাদেশে অবজ্ঞা করে তারা এই খবরটি ছেপেছে।

তিস্তা নদীন পানি বণ্টন নিয়ে বাংলাদেশের দিক থেকে বারবার বলা হলেও ভারত এ নিয়ে কর্ণপাত করেনি। গত অন্তত ১ দশক ধরেই চলছে লুকোচুরি খেলা। শেষমেষ ওই অঞ্চলের পানি ব্যবস্থা নিয়ে একটি প্রকল্পে চীনকে ১ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করার আহ্বান জানানো হয়েছে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে। চীন সেটা লুফে নিয়েছে। ইকোনমিস্ট এসব ঘটনার চুলচেরা বিশ্লেষণের পরই মন্তব্য করেছে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নিয়ে।

বিশিষ্ট রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও ইলিনয়েস ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ড. আলী রিয়াজ বলেন, ভারতের নানা আচরণের কারণে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের মনে দেশটি সম্পর্কে বিরূপ ধারণার সৃষ্টি হয়েছে। নিয়মিত বিরতিতে ঘটছে সীমন্ত হত্যা। এটাকে সুযোগ হিসেবে নিয়ে বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়িয়ে দিয়েছে চীন। ওদিকে ভারতের রাজনীতিবিদরা অনেক সময় বাংলাদেশকে অবজ্ঞা করে কথা বলে, চীন যা কখনোই করেনি।