বাইডেনের সঙ্গে ফোনালাপের পরেই আক্রমণ বাড়ানোর ঘোষণা নেতানিয়াহুর

টিবিটি টিবিটি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ৯:১৪ অপরাহ্ণ, মে ১৪, ২০২১ | আপডেট: ৯:১৪:অপরাহ্ণ, মে ১৪, ২০২১

এক সপ্তাহ কেটে গেছে। হামাসের সঙ্গে ইসরায়েলের সেনার লড়াই এখনো অব্যাহত। বৃহস্পতিবার গাজা স্ট্রিপে একের পর এক বিমান হামলা চালায় ইসরায়েল। একই সঙ্গে গাজার সীমানায় মোতায়েন করা হয়েছে ইসরায়েলি সেনার স্থলবাহিনী। তারাও সেখান থেকে মর্টার হামলা চালাচ্ছে। প্রত্যুত্তরে এখনো রকেট হামলা চালাচ্ছে হামাস।

সাম্প্রতিক উত্তেজনার জেরে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর কাছে দ্বিতীয়বার ফোন করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। আর তার সঙ্গে আলাপের পরপরই ফিলিস্তিনি ভূমিতে আক্রমণ জোরদার করার ঘোষণা দিয়েছেন ইসরায়েলি সরকারপ্রধান। খবর ডয়েচে ভেলের।

বাইডেন বলেছেন, তার প্রশাসন এমন একটি অবস্থানে যেতে চায়, যেখানে আক্রমণ উল্লেখযোগ্য কমে যাবে। বিশেষ করে ‘জনবহুল এলাকা লক্ষ্য করে নির্বিচারে রকেট হামলা’ কমতে হবে।

এর আগে, গত বুধবারও নেতানিয়াহুর কাছে ফোন করে ইসরায়েলের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রেসিডেন্ট। বলেছিলেন, এ অঞ্চলে খুব দ্রুত সহিংসতার অবসান হবে বলে আশা করছেন তিনি।

ইসরায়েলিদের সমর্থন জানিয়ে সেদিন তিনি বলেছিলেন, হাজার হাজার রকেট ছোড়া হলে তা থেকে আত্মরক্ষার অধিকার রয়েছে ইসরায়েলের। অথচ ইসরায়েলের আক্রমণে শতাধিক নিরীহ ফিলিস্তিনির মৃত্যু নিয়ে টুঁ শব্দ নেই মার্কিন প্রেসিডেন্টের মুখে!

বাইডেনের সঙ্গে দু’বার ফোনে কথা বলার পর শুক্রবার সকালে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা দিয়েছেন, গাজায় ‘যতক্ষণ প্রয়োজন ততক্ষণ’ হামাসের বিরুদ্ধে হামলা চালিয়ে যাবে ইসরায়েল। অবশ্য বৃহস্পতিবার রাত থেকেই উপত্যকায় আকাশপথের পাশাপাশি স্থল আক্রমণ শুরু করেছে ইসরায়েলি দখলদার বাহিনী।

ফিলিস্তিনের প্রেস সাফা বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, ইসরায়েলের আক্রমণে গাজায় এখনো পর্যন্ত ১০৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে অসংখ্য নারী ও শিশু আছে। ইসরায়েলের অবশ্য দাবি, গাজায় কেবলমাত্র হামাসের ভবনগুলিতেই হামলা চালানো হচ্ছে। সাধারণ মানুষের যাতে ক্ষতি না হয়, সে দিকে খেয়াল রাখা হচ্ছে।

কিন্তু বাস্তবে তা ঘটছে না। একাধিক মানবাধিকার সংগঠন জানিয়েছে, ইসরায়েলের আক্রমণে বহু সাধারণ মানুষ প্রাণ হারাচ্ছেন। সংবাদসংস্থা এএফপি-ও একই কথা জানিয়েছিল বুধবার।

অন্যদিকে হামাসও ইসরায়েলে লাগাতার রকেট হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। রকেটের আঘাতে এখনো পর্যন্ত ইসরায়েলে সাত জনের মৃত্যু হয়েছে।

বৃহস্পতিবার দেশের হাসপাতালের তরফে জানানো হয়েছে, রকেটের আঘাতে এক বছর পঞ্চাশের ব্যক্তি গুরুতর আহত হয়েছেন। তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। একজন ৯০ বছরের বৃদ্ধও আহত হয়েছিলেন। তবে তার আঘাত ততটা গুরুতর নয়।

ফিলিস্তিনের বিভিন্ন শহরে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে বড় বড় মিছিল হয়েছে বৃহস্পতিবার। মিছিল ছত্রভঙ্গ করার জন্য পুলিশ কাঁদানে ছুড়েছে। তবে কারো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি। তবে বৃহস্পতিবার চাঞ্চল্য ছড়ায় ইসরায়েল ডিফেন্স ফোর্সের একটি টুইট ঘিরে। সেখানে বলা হয়, দেশের সেনা এবং বিমানবাহিনী গাজায় লাগাতার আক্রমণ চালাচ্ছে। অনেকেই মনে করেন, গাজা স্ট্রিপে ইসরায়েলের সেনা ঢুকে পড়েছে। ঘণ্টা দুয়েক পরে ফের সেনা বাহিনীর তরফে জানানো হয়, গাজার সীমানায় রয়েছে সেনা। তারা ভিতরে ঢোকেনি। তবে সাফা জানিয়েছে, সীমানায় দাঁড়িয়ে মর্টার হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েলের সেনা।

জাতিসংঘের সেক্রেটারি জেনারেল আন্তোনিও গুতেরেস বৃহস্পতিবার দুই পক্ষকেই দ্রুত যুদ্ধবিরতি ঘোষণার আবেদন জানিয়েছে। পবিত্র ঈদ উপলক্ষে সকলে যাতে শান্তি প্রস্তাব ঘোষণা করে, তার আবেদন করেছেন তিনি। গুতেরেস বলেছেন, ঈদের স্পিরিট মাথায় রেখে এ কাজ করা উচিত দুই পক্ষেরই। কিন্তু জাতিসংঘের আবেদনে সাড়া দেয়নি কোনো পক্ষই।