বাউফলে গ্রাহকদের অর্ধকোটি টাকা নিয়ে নামধারী প্রতিষ্ঠান উধাও

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৫:২৮ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ২০, ২০২১ | আপডেট: ৫:২৮:অপরাহ্ণ, এপ্রিল ২০, ২০২১

অতুল পাল, বাউফল (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর বাউফলের কাছিপাড়া, কালিশুরী এবং কনকদিয়া এলাকায় কেএফসি নামের একটি প্রতিষ্ঠান গ্রাহকের প্রায় অর্ধকোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে উধাও হয়ে গেছে। স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যাক্তি ওই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জড়িত থাকায় ভুক্তভোগীরা তাদের বিনিয়োগের টাকা ফেরৎ না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০১৩ সালে বাউফলের কাছিপাড়া ইউনিয়নের কাছিপাড়া বাজারে কেএফসি নামের একটি প্রতিষ্ঠান মোটা অংকের মুনাফার লোভ দেখিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ শুরু করে। প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ৪ বছর যাবৎ কাছিপাড়া, কালিশুরী ও কনকদিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের মানুষের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা সংগ্রহের পর ২০১৬ সালে হঠাৎ করে কার্যক্রম বন্ধ করে লাপাত্তা হয়ে যায়।

প্রতিষ্ঠানটি উধাও হয়ে যাওয়ায় টাকা জমা রাখা গ্রাহকদের মাথায় হাত পড়ে যায়। প্রতিষ্ঠানটি উধাও হয়ে গেলেও এলাকার কিছু প্রভাবশালী ওই প্রতিষ্ঠানের সাথে জড়িত থাকার কারণে সাধারন মানুষ কারো কাছে কিছু বলতে সাহস পাচ্ছে না। কাছিপাড়া ইউনিয়নের বলাই-কানাই দিঘী গ্রামের নিজাম উদ্দিন গাজীর কাছ থেকে ৪ লাখ টাকা, জুয়েল আকনের কাছ থেকে ৪০ হাজার টাকা, রুহুল আমিনের কাছ থেকে ৪ হাজার ৫০০ টাকা ও মিজানুর রহমানের কাছ থেকে ৭ হাজার ৮০০ টাকা হাতিয়ে নেয় বলে জানা গেছে।

নিজাম উদ্দিন গাজী বলেন, আমি সারা জীবনের সঞ্চয়ের টাকা ব্যাংকের রাখার উদ্যোগ নিলে আমার এক প্রতিবেশীর পরামর্শে কেএফসি নামের ওই প্রতিষ্ঠানে মোট ৪ লাখ টাকা জমা রাখি। প্রায় ৪ বছর পার হলেও কোন মুনাফা পাইনি। এখন আর আমার মুনাফার প্রয়োজন নেই। আসল টাকা ফেরৎ চাই। তিনি বলেন, এলাকার ৪ শতাধিক সদস্যর কাছ থেকে প্রায় অর্ধকোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে কেএফসির কর্মকর্তারা।

কাছিপাড়া আবদুর রশিদ মিয়া ডিগ্রি কলেজের সহকারি অধ্যাপক আবু হাসান মীরন বলেন, কেএফসি নামের ওই প্রতিষ্ঠান সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে অর্ধকোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। তিনি বলেন, জাকির হোসেন ও মামুন মৃধা নামের এলাকার দুই প্রভাবশালী ওই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জড়িত থাকায় সাধারণ মানুষ টাকা ফেরৎ পাচ্ছেন না।

সাধারণ মানুষের টাকা হাতিয়ে তারা বরিশাল ও কাছিপাড়ায় একাধিক বাড়ি নির্মাণ করছেন। তারা গ্রাহকের টাকা দেই দিচ্ছি বলে কালক্ষেপণ করছেন। অবশ্য জাকির হোসেন ও মামুন মৃধা টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, সাধারণ মানুষের কাছ থেকে টাকা সংগ্রহ করে সেই টাকা আমরা মাঠে বিনিয়োগ করেছি। হয়ত ২/১ জন গ্রাহক টাকা পাবেন। আমরা দ্রæত তাদের টাকা ফেরৎ দিয়ে দেব।

কাছিপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, আমার কাছে প্রতারণার শিকার কয়েকজন ব্যক্তি অভিযোগ করেছেন। বিষয়টি আমি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করেছি। বাউফলের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাকির হোসেন বলেন, তদন্ত সাপেক্ষে প্রতারকদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।