বাগেরহাটে ইউপি চেয়ারম্যানের রোশানল থেকে বাঁচতে এমপির হস্তক্ষেপ কামনা

প্রকাশিত: ৭:৩৪ অপরাহ্ণ, মে ৮, ২০২১ | আপডেট: ৭:৩৪:অপরাহ্ণ, মে ৮, ২০২১

বাগেরহাট সদর উপজেলার খানপুর ইউপি চেয়ারম্যান ফকির ফহম উদ্দীনের রোশানল থেকে বাঁচতে স্থানীয় সংসদ সদস্যের (এমপি) হস্তক্ষেপ কামনা করেছে এক নারী।

শনিবার (৮ এপ্রিল) দুপুরে বাগেরহাট প্রেসক্লাবে বাগেরহাট সদর উপজেলার দক্ষিন খানপুর গ্রামের আ: সালামের স্ত্রী ও খানপুর ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত মহিলা সদস্য প্রার্থী হোসনেয়ারা (পুতুল) সংবাদ সম্মেলনে এমন দাবী করেন।

লিখিত বক্তব্যে তিনি উল্লেখ করেন, ‘আমি একজন অতি দরিদ্র মানুষ। আমার স্বামী মাছ ধরে সংসার চালান। মাত্র ৭ কাঠা জমির উপর আমরা বসবাস করি। স্থানীয় মানুষের অনুরোধে আমি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সংরক্ষিত মহিলা সদস্য পদে নির্বাচন করছি। আমি যেই ওয়ার্ড থেকে নির্বাচন করছি, সেখানে আমার প্রতিদ্বদ্ধি ইউপি চেয়ারম্যান ফকির ফহম উদ্দিনের স্ত্রী শিলা পারভিন। একরনেই প্রথম থেকে চেয়ারম্যান ফকির ফহম উদ্দিন আমাকে পরাজিত করার জন্য নানা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হন।’
তিনি অভিযোগ করেন, ‘গত পৌষ মাসের দিকে আমাদের পাশ্ববর্তি হিন্দু সম্প্রদায়ের এক বাড়ি থেকে ৫৫ হাজার টাকা চুরির ঘটনা ঘটে। পরে জানতে পারি প্রতিবেশী একটি ছেলেকে সাথে মিশে আমার ১৪ বছর বয়সী ছেলে হেলাল শেখ এই টাকা চুরি করে। আমরা পারিবারিকভাবে ছেলেকে শাসন করি।

পরবর্তীতে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফকির ফহম উদ্দিন আমাদেরকে মুঠোফোনে তার বাড়িতে ডেকে নিয়ে চেয়ারম্যান বলে তোদের টাকা দিতে হবে ২ লাখ। এই বিষয়ে কাউকে কিছু জানাবি না। তাহলে তোদের খবর আছে।

আমরা বিনয়ের সাথে বলি, কিভাবে আমরা এত টাকা দিব, আপনিতো জানেন আমাদের কিছইু নাই। কিন্তু তিনি বলেন, ২ দিনের মধ্যে টাকা ২ লাখ তোদের দিতেই হবে। এই বলে তিনি কিছু কাগজে স্বাক্ষর করিয়ে নেন।

গত ২৭ এপ্রিল চেয়ারম্যান ফোন করে আমাদের তিনজনকে পার্শ¦বর্তি নওশের হাজীর বাড়িতে যেতে বলে। আমরা গিয়ে দেখি এলাকার অনেক লোককে সেখানে উপস্থিত করেছে চেয়ারম্যান। তাদের সামনেই আমার ছেলেকে দড়ি দিয়ে বেধে ফেলা হয়। সাথে আমাদেরও বাঁধতে বলে। আমার ছেলেকে মারপিট করার জন্য ধেয়ে ধেয়ে আসে। আমাদের চোখ দিয়ে শুধু পানি পড়ছিল। এলাকাবাসি চেয়ে চেয়ে দেখলেও প্রতিবাদ করার সাহস কারো ছিল না। আমাদের নানা ভাষায় গালি দিতে থাকে চেয়ারম্যান।

হুমকী, লাঞ্চনার পর চেয়ারম্যান আমাদের ৪ লাখ ৩০ হাজার টাকা ২৫ দিনের ভিতর দেয়ার নির্দেশ দেন। যেকোন ভাবেই আমাদের দিতে হবে। আমার নানা ভাবে আকুতি করলেও তাতে চেয়ারম্যানের মন একটুও নরম হয়নি।
এসময় চেয়ারম্যানের সাথে থাকা স্থানীয় এক সাংবাদিকও আমাদের নানা অপমানজনক কথা বলতে থাকে। আমাদের এলাকা ছেড়ে চলে যেতে বলে।

অবশেষে আমার নামের অগ্রনী ব্যাংকের একটি চেকে ও সাদা স্টাম্পে স্বাক্ষর করিয়ে নেন চেয়ারম্যান।

এখন আমরা নিরুপায়। অপমান ও লাঞ্চনায় আমরা বাড়ি থেকে বের হতে পারছি না, মুখে ভাতও উঠছে না।
এসময় তিনি বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য ও প্রশাসনের উর্ধতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
সংবাদ সম্মেলনে হোসনেয়ারা পুতুলের স্বামী আ: সালাম, ছেলে হেলাল শেখ উপস্থিত ছিলেন।

এবিষয়ে জানতে চাইলে ইউপি চেয়ারম্যান ফকির ফহম উদ্দিন তার বিরুদ্ধে আনিত সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ওই ছেলেটি একাধিক বাড়ি চুরি করেছে। তাই শত শত লোকের তার বিচার করে এই অর্থদন্ড করা হয়েছে।