বাগেরহাটে ঠান্ডাজনিত রোগের প্রাদুর্ভাব, এক সপ্তাহে শিশু নারীসহ ভর্তি ৯০০

ভয় না পেয়ে বরং সাবধনতা অবলম্বন করতে রোগীদের পরামর্শ চিকিৎসকদের

প্রকাশিত: ১০:০২ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ৮, ২০১৯ | আপডেট: ১০:০২:অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ৮, ২০১৯

নীহার রঞ্জন সাহা, বাগেরহাট প্রতিনিধি: বাগেরহাটে শীতে ঠান্ডাজনিত রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত বাগেরহাট সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন দেড় শতাধিক রোগী। গত এক সপ্তাহে ঠান্ডাজনিত নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে বাগেরহাট সদর হাসপাতালে শিশুসহ অন্ততঃ নয় শতাধিক রোগী ভর্তি হয়ে সেবা নিয়েছেন।

হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের মধ্যে শিশু ও নারীই বেশি। হাসপাতালে বেড সংকুলান না হওয়ায় রোগীদের ফ্লোরে জায়গা দিতে হচ্ছে। এসব ভর্তি হওয়া রোগীদের সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে। ভর্তি হওয়া অধিকাংশ রোগীর ঠান্ডা লেগে শ্বাসকষ্ট, সর্দি,কাশি, জ্বর, ডায়েরিয়াসহ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন।

তবে এতে ভয় না পেয়ে বরং সাবধনতা অবলম্বন করতে রোগীদের পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা।

বাগেরহাট সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীর স্বজনরা বলছেন, শীতে ঠান্ডা লেগে শ্বাসসকষ্ট, সর্দি,কাশি ও জ্বর হচ্ছে। শ্বাসসকষ্ট বেড়ে যাওয়ায় আমরা হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছি। এখন আমাদের রোগীরা সুস্থ আছেন।

বাগেরহাট সদর উপজেলার ষাটগম্বুজ ইউনিয়নের শ্রীঘাট গ্রামের শিউলী বেগম তার আট মাস বয়সী ছেলে ইরফান খানকে ভর্তি করেছেন। তিনি বলেন, শীতের ঠান্ডা লেগে আমার ছেলের শ্বাসকষ্ট বেড়ে যাওয়ায় হাসপাতালে ভর্তি করেছি। সে এখন সুস্থ স্বভাবিক রয়েছে।

সদর উপজেলার পাঁচ মাস বয়সী আরেক শিশু মারিয়াকে ভর্তি করেছেন মা রহিমা বেগম। তিনি বলেন, শীতের ঠান্ডা লেগে সর্দি, কাশির সাথে জ্বর ও শ্বাসসকষ্ট বেড়েছে। তিনদিনে না কমায় তাকে বাগেরহাট সদর হাসপাতালে ভর্তি করেছি।

বাগেরহাট সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মো. মশিউর রহমান বলেন, প্রচন্ড ঠান্ডার কারনে মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত হাসপাতালে ১৫৪ জন রোগী ভর্তি করা হয়েছে। গত এক সপ্তাহে প্রায় আট থেকে নয়শ রোগীকে চিকিৎসা সেবা দেয়া হয়েছে। ভর্তি রোগীদের মধ্যে ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্তের সংখ্যাই বেশি। দিনদিন রোগীর সংখ্যা বেড়েই চলেছে।

এসব রোগীদের চিকিৎসা দিতে আমাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে তবে আমরা ভাল সেবাটাই দেয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছি। ওষুধের কোন সংকট নেই। সব ধরনের পরিস্থিতি মোকাবেলা করার জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ প্রস্তুত রয়েছে বলেও জানালেন ওই চিকিৎসক। তিনি এতে ভয় না পেয়ে বরং সাবধনতা অবলম্বন করতে রোগীদের পরামর্শ দেন।