বাগেরহাটে বাড়ছে করোনা মৃত্যু ৭০, আক্রান্ত ২৬৯২ : জনবল সংকটে স্বাস্থ্য বিভাগ

প্রকাশিত: ৯:১৪ অপরাহ্ণ, জুন ২২, ২০২১ | আপডেট: ৯:১৪:অপরাহ্ণ, জুন ২২, ২০২১

বাগেরহাটে স্বাস্থ্যবিধি না মানায় সর্বত্র পড়েছে করোনা ডেল্টা ভেরিয়েন্ট। এ অবস্থায় জনবল সংকট ও আইসিইউ না থাকায় করোনা চিকিৎসা ব্যাহত হচ্ছে। বাগেরহাট কোভিড ডেডিকেটেড হাসপাতাল থেকে মূমুর্ষ রোগীদের পাঠানো হচ্ছে খুলনা ও ঢাকায়। বাগেরহাট জেলার মোংলা, রামপাল, ফকিরহাট, মোড়েলগঞ্জ, শরণখোলা ও বাগেরহাট সদর উপজেলা এখন হটস্পট।

এই উপজেলাগুলোতে ১ জুন থেকে ২২ জুন পর্যন্ত করোনা সংক্রমনের হার ৭২ থেকে ৫০ শতাংশের মধ্যে ওঠানামা করছে। গত বছরের ১০ মার্চ বাগেরহাটে প্রথম এক জন করোনা রোগী সনাক্ত হয়। সেই থেকে চলতি বছরের মে মাস পর্যন্ত যেখানে করোনা আক্রান্ত রোগেীর সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৬১৩ জন ও মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ৪২ জন। সেখানে ১ জুন থেকে মাত্র ২২দিনে আরও ১ হাজার ৭৯ জন করোনা আক্রান্ত হয়েছে। এ সময় মৃত্যু হয়েছে আরও ২৮ জন। গত ১ মে থেকে বাগেরহাটে শুরু হয় করোনার ২য় ঢেউ বাড়তে থাকে করোনা সংক্রমনের হার। ১ জুন হঠাৎ করে সংক্রমনের হার ৫২ দশমিক ৩৮ শতাংশে দাড়ায়। এর পর থেকে বাগেরহাট জেলায় সংক্রমনের হার ৭২ থেকে ৫০ শতাংশের মধ্যে ওঠানামা করছে। বাগেরহাট স্বাস্থ্য বিভাগ এতথ্য নিশ্চত করেছে।

বাগেরহাট সদর হাসপাতালে ৫০ বেডের করোনা ডেডিকেটেড ইউনিটে গিয়ে দেখাগেছে, ভর্তি রোগীর সাথে থাকা স্বজনেরা যত্রতত্র হাসপাতাল চত্বরে ঘোরাফেরা করছে। ঔষধ পত্র ক্রয়সহ অবাদে যাতায়াত করে চলেছে।

স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য মতে, ২২ জুন পর্যন্ত বাগেরহাট জেলায় করোনা আক্রান্ত হয়েছে ২ হাজার ৬৯২ জন। মৃত্যু হয়েছে ৭০ জন। এর মধ্যে বাগেরহাট সদর উপজেলায় করোনা আক্রান্ত হয়েছে ৯৩৮ জন ও মৃত্যু হয়েছে ১৯ জনের। মোংলায় আক্রান্ত হয়েছে ৫৭৬ জন ও মৃত্যু হয়েছে ১৪ জন। ফকিরহাটে আক্রান্ত ৩৯৫ জন ও মৃত্যু ১৬ জন। রামপালে আক্রান্ত ২০০ জন ও মৃত্যু ৪ জন। মোরেলগঞ্জে আক্রান্ত ১৫৪ জন ও মৃত্যু ৯ জন। শরণখোলায় আক্রান্ত ১৩৯ জন ও মৃত্যু ১ জন। মোল্লাহাটে আক্রান্ত ১১৭ জন ও মৃত্যু ৩ জন। কচুয়ায় আক্রান্ত ৯৬ জন ও মৃত্যু ৩ জন এবং চিতলমারী উপজেলায় আক্রান্ত ৭৭ জন ও এক জনের মৃত্যু হয়েছে।

বাগেরহাটের বক্ষব্যাধী হাসপাতালে জীন এক্সপার্ট টেষ্ট ও জেলার কচুয়া ছাড়া অন্য ৮টি উপজেলায় বর্তমানে রেপিট এন্টিজেন টেষ্টের ব্যাবস্থা থাকলেও জেলায় নেই কোন পিসিআর ল্যাব। করোনা চিকিৎসায় বাগেরহাট সদর হাসপাতালে গত দেড় মাস আগে স্থানীয় সংসদ সদস্য শেখ তন্ময় তার ব্যাক্তিগত উদ্যোগে তিন টি পূর্ণাঙ্গ আইসিইউ বেড প্রদান করলেও জনবল সংকটের কারণে এখনও চালু করা যায়নি। বর্তমানে এই হাসপাতালের করোনা ইউনিটে ৪৩ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছে। করোনা রোগীদের চিকিৎসায় এই হাসপাতালে নেই কোন ভেন্টিলেটর। রয়েছে মাত্র ৬টি হাইফোন নেজাল ক্যানেলা। রয়েছে মাত্র ১৩টি অক্সিজেন কনন্সেটেটর। এই হাসপাতালটি ছাড়া জেলার কোন সরকারী হাসপাতালে নেই কোন সেন্টাল অক্সিজেন ব্যাবস্থা। বাগেরহাট সদর হাসপাতালে ৫০ বেডের করোনা ডেডিকেটেড ইউনিটে রয়েছে জনবল সংকট। এই ইউনিটের জন্য বর্তমানে রয়েছে ৮ জন চিকিৎসক ও ১২ জন সেবিকা। প্রতিদিন দুই শিপটে ২ জন করে চিকিৎসক ও ৩জন করে সেবিকা রোগীদের চিকিৎসা দিয়ে আসছেন। ১৪দিন পর তারা আবার ১৪ দিন আইসোলেসনে থাকতে হচ্ছে। এই অবস্থায় করোনা চিকিৎসা দিতে গিয়ে হিমসিম খেতে হচ্ছে চিকিৎসক ও সেবিকাদের।

বাগেরহাটের সিভিল সার্জন ডা. কে এম হুমায়ুন কবির বলেন, বাগেরহাটে দ্বিতীয় ঢেউয়ে গত মার্চ মাস থেকে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ বাড়তে শুরু করে। চিকিৎসার জন্য ৫০ শয্যার একটি করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতাল প্রস্তুত রাখা আছে। বর্তমানে ৪২ থেকে ৪৫ জন রোগী ভর্তি রয়েছে। হোম আইসোলেশনে থাকা ৭৬৫ জন রোগী স্বাস্থ্য বিধি উপেক্ষা করে যত্রতত্র ঘোরা ফেরা করার কারণে সংক্রমন বেড়েই চলছে। এটাকে নিয়ন্ত্রনের জন্য জেলা প্রশাসনের সহযোগীতায় প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে। সংক্রমণ রোধের একটাই উপায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা। সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। স্বাস্থ্যবিধি না মেনে চললে লকডাউন দিয়ে কোন উপকারে আসবেনা।

বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আজিজুর রহমান বলেন, মানুষকে সচেতন করতে নানা পদক্ষেপ নিয়েছি তারমধ্যে সবাই যেন সপ্রণোদিতভাবে করোনা পরীক্ষা করে সেই চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি কিন্তু তাদের আমরা সেভাবে সচেতন করতে পারছি না। অনেকে মনে করে টেষ্ট করালে নির্দিষ্ট সময় ধরে বন্দি থাকতে হবে। এই সমস্ত কারনে মানুষ করোনা টেষ্ট করতে আগ্রহী না। সবাই মিলে কোভিডের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে পারি এবং সবাই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলি তাহলেই করোনাকে মোকাবেলা করা সম্ভব।