বাগেরহাটে লকডাউনে কয়েকশ বাস শ্রমিক কর্মহীন, দিন কাটছে অর্ধাহারে অনাহারে

প্রকাশিত: ৫:৪৩ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ২৩, ২০২১ | আপডেট: ৫:৪৩:অপরাহ্ণ, এপ্রিল ২৩, ২০২১

বাগেরহাটে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে বাস চলাচল বন্ধ থাকায় বেকার হয়ে পড়া কয়েকশ বাস শ্রমিক অর্ধাহারে অনাহারে দিন কাটাচ্ছে। এই শ্রমিকদের কেউ খোঁজ খবর নিচ্ছেনা বলে অভিযোগ রয়েছে শ্রমিকদের। তবে শ্রমিক নেতাদের দাবি ইউনিয়ন বেকার শ্রমিকদের পাশে থেকে সাহায্য সহযোগিতা করছে।

সরকারের দেয়া লকডাউনে বাগেরহাট জেলার নানা শ্রেণিপেশার নিন্ম আয়ের কয়েক হাজার মানুষ বেকার হয়ে পড়েছেন। পরিবার পরিজন নিয়ে কষ্টে তাদের দিন কাটছে। এসব মানুষদের এখনো কেউ সাহায্যের হাত বাড়ায়নি বলে অভিযোগ তাদের। তবে জেলা প্রশাসন নিন্ম আয়ের মানুষদের একটা তালিকা তৈরির উদ্যোগ নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক আ ন ম ফয়জুল হক।

সরজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, বাগেরহাট শহরের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে সারিবদ্ধভাবে কয়েকশ বাস দাঁড়িয়ে রয়েছে। রাস্তাঘাট ফাঁকা। জনমানবশূন্য। নিয়মিত কোলাহলপূর্ণ বাসস্ট্যান্ডকে দেখে চেনার উপায় নেই। সীমিত কিছু শ্রমিক বিচ্ছিন্নভাবে ঘোরাফেরা করছেন।

বাগেরহাটের ১৬টি অভ্যন্তরীণ রুটে কয়েকশ শ্রমিক নিয়মিত কাজ করে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাস শ্রমিকরা অভিযোগ করেন, লক ডাউনে খুব সমস্যার মধ্যে দিন পার করছি। অভ্যন্তরীণ রুটে বাস চালিয়ে যা আয় করি তা দিয়ে আমাদের কোন রকমে সংসার চলে। দিন আনি দিন খাই। সাতদিনে লকডাউনের কারনে আমাদের চলতে খুব অসুবিধা হচ্ছে। আমরা পরিবার পরিজনদের নিয়ে খেয়ে না খেয়ে কষ্টের মধ্যে দিন কাটাচ্ছি। বাস মালিক বা শ্রমিক সংগঠন কেউ আমাদের খোঁজ নিচ্ছে না।

চায়ের দোকানি স্বপন দাস বলেন, জীবন বাঁচাতে দোকান বন্ধ রেখেছি। ছয়জনের সংসার। চা বিক্রি করে আমার সংসার চলে। আয় বন্ধ থাকলে সংসার চলবে কি করে। গত লকডাউনের সময়ও দোকান বন্ধ ছিল। তখন জমানো টাকা ভেঙে সংসার চালিয়েছি। এখন ঘরে টাকা নেই। এখন কারও কাছে হাতপাতলেও ধার দিতে চায় না। দিনের পর দিন দোকান বন্ধ থাকলে তো না খেয়ে মরতে হবে। সরকারের সাহায্য ছাড়া বেঁচে থাকা দুরুহ হবে।

বাস শ্রমিকদের অভিযোগ অস্বীকার করে বাগেরহাট আন্ত:জেলা বাস মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক খান আবু বক্কর সিদ্দিক এই প্রতিবেদককে বলেন, বাগেরহাটের অভ্যন্তরীণ ১৬টি রুটে প্রায় সহ¯্রাধিক শ্রমিক নিয়মিত কাজ করে থাকে। এরা সবাই দিন আনে দিন খায়। এদের আয়ে সংসার চলে। দেশে এখন দুর্যোগ চলছে। সরকার কঠোর লকডাউন ঘোষণা দেয়ায় আমরা তা মেনে চলছি। বাস চলাচল বন্ধ থাকায় শ্রমিকরা বেকার হয়ে পড়েছে। শ্রমিক ইউনিয়ন বেকার হয়ে পড়া বাস শ্রমিকদের নিয়মিত খোঁজ খবর নিচ্ছে। সবাইকে আমরা সাহায্য করতে পারছি না। তবে সাধ্য অনুযায়ি তাদের খেয়াল রাখার চেষ্টা করছি।

বাগেরহাট ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক আহাদ হায়দার বলেন, গত বছরের লকডাউনের শুরুতেই সরকারের পাশাপাশি জেলার বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি সেচ্ছাসেবী সংগঠন দারিদ্রসীমান নিচে থাকা মানুষদের নানাভাবে সাহায্য সহযোগিতা করে। কিন্তু এবারের লকডাউনে ওইসব প্রতিষ্ঠান আর এগিয়ে আসছে না। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর আর্থিক সংগতি না থাকায় ইচ্ছা থাকলেও তারা নিন্ম আয়ের মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারছে না বলে মনে হচ্ছে। যার ফলে নিন্ম আয়ের মানুষরা এবছর সেভাবে কোন সাহায্য সহযোগিতা পাচ্ছেনা। করোনার সংক্রমণ যেহারে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে তাতে লকডাউনও বাড়বে। জেলার কর্মহীন মানুষদের জন্য সরকারকেই ভাবতে হবে বলে মনে করেন এই সমাজসেবক।

বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক আ ন ম ফয়জুল হক সকালে এই প্রতিবেদককে বলেন, লকডাউনে সব শ্রেণি পেশার মানুষই ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন। সবচেয়ে বেশি অসুবিধায় রয়েছেন দিনমজুর, ছোট ছোট চায়ের দোকানি, নর সুন্দররা। মানুষের জীবন বাঁচাতে সরকার বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। সরকারের দেয়া বিধিনিষেধ তো মেনে চলতেই হবে। জেলার নিন্ম আয়ের মানুষদের জন্য আমাদের একটা চিন্তা আছে। তাই প্রশাসন জেলার নিন্ম আয়ের কিছু মানুষের তালিকা তৈরির উদ্যোগ নিচ্ছে। আগামীকাল রবিবার থেকে আমরা তা শুরু করব। তবে কত মানুষকে আমরা সাহায্য দিতে পারব তা এখনি বলতে পারছিনা।